Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ :: ৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৩৮ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / একদম চুপ, নইলে গণতন্ত্র আসবে!

একদম চুপ, নইলে গণতন্ত্র আসবে!

যায়নুদ্দিন সানী

Zainuddin-sani-writerআমেরিকা বেশ চিপায় পড়েছে ইরাক নিয়ে। কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। একদিকে মালিকির পাশে দাঁড়ানো জরুরি। আবার সিরিয়ার আসাদ সরকারকে না হটালে জাত যাচ্ছে। ঝামেলা তৈরি করে দিয়েছে এই সুন্নি সশস্ত্র গ্রুপ আইসিস। মধ্যপ্রাচ্যের যেসব সরকার আমেরিকার অপছন্দের। বেছে বেছে সেসবের পেছনে লেগেছিল আমেরিকা। কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবে রাজতন্ত্র থাকলেও ওখানে গণতন্ত্র নিয়ে খুব একটা চিন্তিত না। যতটুকু যা চিন্তা তার সবটাই উপচে পড়েছিল ইরাক আর সিরিয়ার জন্য। ইরাকে পুতুল বসানো হয়ে গেছে।

এবার সিরিয়ার পালা। সেখানে তাই চলছিল বিদ্রোহী তৈরির কাজ। এলোমেলো ছড়ানো ছিটানো বিদ্রোহী গ্রুপ দিয়ে খুব একটা কাজ হচ্ছিল না। ফলে সিরিয়ার অবস্থা অনেকটা দাবা খেলার ‘স্টেল মেট’ এর মত হয়ে আছে। এমন সময় সেখানে গজিয়ে উঠলো, ‘আইসিস’ বা ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া’। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় বেশ কিছু এলাকা তারা পেয়েও গেল। এখানে সিরিয়া সেনাদের আনাগোনা কম। বেশ নির্ভয়ে এখানে নিজেরা ট্রেনিং নেয়া থেকে শুরু করে বাকি সব কর্মকাণ্ড করতে পারছিল। ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দুটো ঘরানা আছে। সুন্নিদের নেতৃত্বে আছে সৌদি। আর শিয়াদের নেতৃত্বে ইরান। ইরাকে মালিকি শিয়া। তবে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাকে ঘাঁটাচ্ছিল না সৌদি। তবে আসাদ কে অপছন্দ হওয়ায় তারা তিন জনেই এক কাতারে ছিল। সৌদি, আমেরিকা আর তুরস্ক। তাই আইসিস এর সৃষ্টিতে তারা বেশ খুশীই ছিল। মনে আশা ছিল, আসাদকে সরাতে কাজে দেবে। সেই আইসিস এবার ইরাকের দিকে নজর দেয়ায় আমেরিকা বেশ সমস্যায় পড়ে গেছে।

সাদ্দাম নিজে সুন্নি হওয়ায় তার সময়ে সুন্নিরা একটু ভাল অবস্থানে ছিল। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় ছিল। ফলে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনে, শিয়ারা মার্কিনীদের পাশে দাঁড়ায়। মনে আশা, একদিন তো ক্ষমতা হাতে আসবে। নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সেনাতে কেবল শিয়াদের সুযোগ দেয়া হল। নিজের পছন্দের লোকদের পদোন্নতি, সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়োগ এসব চলতে লাগল। সুন্নিরা নিজেদের বঞ্চিত ভাবতে লাগল। এমন সময়ে আগমন ঘটল আইসিস এর। দারুণ দ্রুত গতিতে একে একে দখল করতে লাগল ইরাকের উত্তরাঞ্চল। সুন্নি অধ্যুষিত এলাকাগুলো তাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাল। ইরাকি সেনা যারা মূলতঃ ছিল শিয়া, তারা একটি গুলি না ছুড়েই মসুল ছেড়ে পালাল। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের দখল হওয়া এলাকা থেকে আইসিস পেয়ে গেল প্রচুর অস্ত্র। ব্যাংক লুট করে পেয়ে গেল প্রচুর অর্থ। ফলে দারুণ উদ্যম আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা এগিয়ে যাওয়া শুরু করল বাগদাদের দিকে। ফলে পাশ্চাত্য দুনিয়ায় হুলুস্থুল পড়ে গেছে।

নথিপত্র ঘাঁটা শুরু হয়েছে। কে এই আবু বকর আল বাগদাদি? কীভাবে এতো দ্রুত এতো শক্তিশালী হয়ে উঠল। সন্দেহের সুই যদিও সৌদির দিকে তারপরও জোর দিয়ে বলার উপায় নেই। আমেরিকার বন্ধু বলে কথা। চার বছর জেল খাটা এই সেনাপতি কোনো একদিন নাকি বলেছিলেন, ‘নিউ ইয়র্কে দেখা হবে’।’ সেই কথা তখন হেসে উড়িয়ে দিলেও এখন সেই কথার মর্মোদ্ধারে ব্যস্ত পাশ্চাত্য পণ্ডিতেরা। কেন বলেছিলেন? সত্যিই কি আমেরিকায় আঘাত হানতে যাচ্ছে? মিথ্যা কাহিনী শুনিয়ে যুদ্ধ শুরু করা টনি ব্লেয়ার সাহেবও নেমে পড়েছেন, ‘ইরাকের এই অবস্থার জন্য আমার কোনো দোষ নাই’’ বলতে। আমেরিকা এখনও ঠিক করে উঠতে পারছে না, কি করবে। স্থল সেনা যে পাঠাবে না, তা মোটামুটি নিশ্চিত। সাড়ে চার হাজার সেনার মৃত্যু আর প্রায় হাজার চল্লিশেক সেনার বিকলাঙ্গ হওয়া কিছুটা শিক্ষা দিয়েছে তাদের। এয়ার ক্র্যাফট ক্যারিয়ার পাঠিয়েছে, কিন্তু বিমান আক্রমণ করবে কি না ভাবছে। সৌদি আবার হুমকি দিয়েছে, ‘ইরাকের ব্যাপার ইরাক বুঝবে, কেউ এখানে নাক গলাবা না’’। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা সময়ই বলে দিবে।

এদিকে হিসাব শুরু হয়ে গেছে আফগানিস্তান নিয়েও। আর বছর দুয়েক পরে যখন সেখান থেকেও আমেরিকানরা চলে যাবে, তখন কি হবে। তালেবান আবার আসবে? হিসাব আরও আছে। পশ্চিমা বিশ্বের এক বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে এখন ইরাকে। লুটপাটের মহাসুযোগ দেখে সেখানকার বিভিন্ন প্রোজেক্টে অনেক কর্পোরেটই বিনিয়োগ করেছে। সেগুলো রক্ষার জন্য হলেও মালিকিকে তাদের দরকার। তারা চাইছে, মালিকি নিজ সেনাদের নিয়েই যুদ্ধে নামুক। ইরান বেশ উৎসুক। এই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে। ‘নাজাফ’ ‘কারবালা’ শিয়াদের বেশ পবিত্র স্থান। সেখানে সুন্নি আইসিস যেয়ে কোনো ভাঙচুর না করে ফেলে, এই ভয়ে তারাও যুদ্ধে নামতে চাইছে। সৌদির আবার এতে আপত্তি। মার্কিনরা এতোদিন মালিকিকে কোলে করে রাখলেও এখন অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ঘাড় থেকে নামাতে চাইছে। সুন্নিদের আলাদা করার জন্যই এমনটা হল’।

এতোদিন এই নিয়ে মৃদুস্বরে কথা বললেও এখন গলার আওয়াজ একটু চড়িয়েছে। পদত্যাগ চাইছে মালিকির। মালিকি এখন পর্যন্ত নারাজ। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, বোঝা যাচ্ছে না। ইরাক তিন ভাগে ভাগ হবে? শিয়া সুন্নি যুদ্ধ শুরু হবে কি না? হলে কতদিন চলবে? তেলের দামের কি হবে? রাশিয়াই বা কি করবে? সিরিয়ার কি হবে? এই মুহূর্তে কেউই বোধ হয় খুব নিশ্চিত না। যুদ্ধ লাগলে যদিও আমেরিকার অস্ত্র বিক্রির পোয়া বারো, তারপরও এবার কি হবে কেউই বুঝে উঠতে পারছে না। বাকী দেশগুলো কতটা কি করবে, তাও খোলাসা করে কেউ বলছে না। একটি রসিকতা এখন বেশ বাজার মাতাচ্ছে, ‘একদম চুপ করে থাকো, নইলে তোমার দেশকেও গণতন্ত্র উপহার দিবো’।’

লেখক : কলামিস্ট, গল্পকার
[email protected]

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful