Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ :: ৯ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৪৯ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / পলাশীতে সূর্যাস্ত

পলাশীতে সূর্যাস্ত

Palashi polashiডেস্ক : ১৭৫৭ সালের এ দিনে পলাশীর আম্রকাননে এক যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হন। এ যুদ্ধ উপমহাদেশের ইতিহাসে মোড় পরিবর্তনকারী পলাশী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। যার ফলশ্রুতিতে ১৯০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়। দিনটির স্মরণে ২৩ জুন পলাশী দিবস পালিত হয়। যুদ্ধের কয়েকদিন পর নবাবকে হত্যা করা হয়। কিন্তু এখনও এ অঞ্চলের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে। তাকে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক কিংবদন্তী, গল্প, কবিতা, গান, নাটক ও চলচ্চিত্র।

মুর্শিদাবাদ থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরের এ যুদ্ধকে নাটকই বলা যায়। নবাব বাহিনীতে সৈন্যসংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ছিল ৪ হাজার। নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ও তার অনুসারী প্রায় ৪৫ হাজার সৈন্য যুদ্ধ করেনি। বিশ্বাসঘাতক দলের মধ্যে রয়েছেন মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও ইয়ার লতিফ। ষড়যন্ত্রে আরও জড়িত ছিলেন জগৎশেঠ, মাহতাব চাঁদ, উমিচাঁদ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র, রায়দুর্লভ, ঘসেটি বেগম, রাজা রাজবল্লভ, নন্দকুমার প্রমুখ। অন্যদিকে নবাবকে সাহায্য করেন সেনাপতি মীরমদন ও প্রধান আমাত্য মোহনলাল কাশ্মিরী।

১৭৩৩ সালে সিরাজ-উদ-দৌলা জন্মগ্রহণ করেন। তার মা আমিনা বেগম তৎকালীন নবাব আলিবর্দী খাঁর ছোট মেয়ে। নবাবের কোনো ছেলে ছিল না। আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তার ইচ্ছানুযায়ী ১৭৫৬ সালে বাংলার মসনদে বসেন সিরাজ-উদ-দৌলা। তার বয়স ছিল মাত্র তেইশ বছর। সিংহাসনে আরোহণের পরপরই ঘরে-বাইরের ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হন। আলিবর্দী খাঁর বড় মেয়ে ঘসেটি বেগম, মেঝ মেয়ের ছেলে শওকত জং ও অন্য মেয়ের স্বামী সেনাধ্যক্ষ মীর জাফর এ অর্জনে খুশি হননি। তারা প্রথম থেকেই সিরাজের পতনের ষড়যন্ত্র করেন। সে সময় মোগল শাসকদের মাধ্যমে ইংরেজরা বাংলায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পায়। কিন্তু পরে বাংলার নবাবের সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। তারা ইচ্ছামতো বাণিজ্য করতে পারছিল না। বিভিন্ন সময়ে চুক্তিভঙ্গের কারণে নবাবের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। তাই পরিবার ও দরবারের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ইংরেজরা তাকে অপসারণের পথ খুঁজতে থাকে। এর জন্য তাদের বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয় না।

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। সকাল থেকেই দুইপক্ষ প্রস্তুত। বেলা আটটার সময় মীরমদন ইংরেজবাহিনীকে আক্রমণ করেন। প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে রবার্ট ক্লাইভ তার সেনাবাহিনী নিয়ে আমবাগানে আশ্রয় নেন। ক্লাইভ কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন। তাকে সাহায্য করতে নবাবপক্ষের মীরজাফর, ইয়ার লতিফ ও রায়দুর্লভ সৈন্য নিয়ে নিস্পৃহভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা সাহায্য করলে তখনই ইংরেজদের পরাজয় ঘটত। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে নবাব বাহিনীর গোলা-বারুদ ভিজে যায়। এরপরে গোলার আঘাতে মীরমদন মৃত্যুবরণ করেন। এরপর মোহনলাল যুদ্ধ করতে চাইলে নবাব মীরজাফরের পরামর্শে সৈন্যবাহিনীকে শিবিরে ফেরার নির্দেশ দেন। এ সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা নবাবকে আক্রমণ করে। যুদ্ধ বিকেল পাঁচটায় শেষ হয়। নবাব রাজধানী রক্ষা করার জন্য দুই হাজার সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি। ৩ জুলাই তাকে মহানন্দা নদীর পাড় থেকে বন্দি করে মুর্শিদাবাদে আনা হয়। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লুৎফা বেগম ও চার বছর বয়সী মেয়ে উম্মে জহুরা। পরদিন মীরজাফরের আদেশে ও তার পুত্র মিরনের তত্ত্বাবধানে মুহম্মদী বেগ তাকে হত্যা করে। মুর্শিদাবাদের খোশবাগে নবাব আলিবর্দী খাঁর কবরের কাছে তাকে কবর দেওয়া হয়।

 এ যুদ্ধে জয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমগ্র বাংলা ও উপমহাদেশের অন্যান্য অংশ ব্রিটিশদের অধিকারে চলে যায়। এখানকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, শিক্ষা সবকিছুই তার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলে। এককালে বাংলার ঐশ্বর্যের কথা সারাবিশ্বের মানুষ জানত। সব ঐশ্বর্য পরে ইংল্যান্ডে পাচার হয়। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা হয়ে পড়ে বিশ্বের দরিদ্রতম অঞ্চলের অন্যতম।

 তবে শোষিত বঞ্চিত মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রাম বন্ধ রাখেনি। এর একশ বছর পরে ১৮৫৭ সালে ঘটে সিপাহী বিদ্রোহ। এ ছাড়া ছিল ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, ফরায়েজী আন্দোলন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লাকেন্দ্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন গোপন সশস্ত্র দলের আন্দোলন। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভূদয় ঘটে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful