Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ :: ৮ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ০৩ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / বিএনপির টার্গেট জানুয়ারিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন

বিএনপির টার্গেট জানুয়ারিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন

BNP Logoআগামী জানুয়ারিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায়ের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। দল গোছানো থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক লবিং-তদবির জোরদারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে এ লক্ষ্য অর্জনকে কেন্দ্র করেই। জনসমর্থন আদায়ে নেওয়া হচ্ছে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ কর্মসূচি। আসছে রোজার ঈদের পর কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এর অংশ হিসেবে গতকাল থেকে উত্তরাঞ্চলে জনসভা শুরু করেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও দলীয়প্রধানের সঙ্গে প্রতিদিনই কণ্ঠ মেলাচ্ছেন কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের আহ্বানে। তবে অনেকের ব্যাপারেই সজাগ বিএনপি নেত্রী। যারা দিনের বেলায় মুখে আন্দোলনের নামে সরকার ফেলে দেওয়ার কথা বলেন; অথচ রাতের অন্ধকারে অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে মন্ত্রীদের বাসায় ছোটেন নিজেদের সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষা করতে- তাদের দিকে তিনি সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। বেগম জিয়া সম্প্রতি তার গুলশান কার্যালয়ে এসব নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘অনেকে আছেন দিনে বিএনপি করেন, আর রাতে করেন আওয়ামী লীগ। এদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।’

খালেদা জিয়া গতকালও সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘সরকারের পায়ে মাটি নেই। ৯৫ শতাংশ জনগণই আর এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আপনারা প্রস্তুত হোন। আন্দোলনের তোড়ে সরকার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। তাছাড়া জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বও একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়।’

জানা গেছে, দল গোছানো থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখন আন্তর্জাতিক লবিং-তদবিরেও বেশ সচেষ্ট রয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারই ফলশ্রুতিতে শনিবার জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এক বিবৃতিতে সংসদের বাইরের দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ-সমঝোতার মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের জন্য সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি উল্লেখ করে বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বিবৃতিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাময়িক ফসল বলে মনে করছে বিএনপি। তবে ‘শুধু বিদেশি কূটনীতিক কিংবা জাতিসংঘ এসে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে পারবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির অন্যতম এক নীতিনির্ধারক। একসময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বর্তমানে স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আন্দোলনে সরকারের পতন ঘটাতে হলে প্রধান নিয়ামক হতে হবে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত। নিজেদের কোমরে জোর না থাকলে অন্য কেউ এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। সাংগঠনিক শক্ত ভিতের সঙ্গে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ জনমতও।’

দলের একজন প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংসাত্দক কর্মসূচিতে না গেলেও আগামী বছরের প্রথমার্ধেই সরকার বাধ্য হবে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে। কারণ দেশে সব ধরনের বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের কর্মসংস্থান নাজুক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। একটা সময় আসবে যখন অর্থ সংকটের কারণে সরকার আর দেশ চালাতেই পারবে না। এখনই অর্থ সংকটের জন্য শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছে না সরকার। এটা খোদ শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেছেন। তেমনি প্রতিটি সেক্টরই একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। আর কর্মসংস্থানের অভাব যখন প্রকট আকার ধারণ করবে তখন আর বক্তৃতা-বিবৃতিতে মানুষের পেট ভরবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। জাতিসংঘ ও ওআইসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিদেশি চাপ বাড়ছে। ফলে সরকার বাধ্য হবে গণতন্ত্রের দিকে যেতে।’ তবে ঢাকায় রাজপথের আন্দোলন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য। তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, সামনে আরও কঠিন বিপদে পড়তে যাচ্ছে বিএনপি ও তার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। ঈদের পর আন্দোলনের কথা বললেও পুলিশের অনুমতি ছাড়া ঢাকার রাজপথে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের। সে ধরনের কোনো প্রস্তুতি, সাহস কিংবা দক্ষ নেতৃত্বও নেই। দুর্নীতি মামলাগুলোর প্রক্রিয়া চলছে নির্ধারিত গতিতে। যেগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সহজেই আঁচ করতে পারছেন অনেক নেতা-কর্মী। কিন্তু তাদের তেমন কিছু করার নেই। অধিকাংশই কোণঠাসা হয়ে আছেন।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ছাড়াই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির সুবিধাবাদী নেতাদের একটি বড় অংশ একাট্টা হয়েছেন। নিজেদের ও অর্জিত অবৈধ সম্পদের পাহাড় রক্ষার বিনিময়ে তারা যে কোনো আত্দঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, দলের সেই অংশটিও চাচ্ছে আগামী জানুয়ারির দিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু সেটি হবে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে। অন্য এক বিএনপির অংশগ্রহণে। আর সে অবস্থায় কারা বিএনপি চালাবেন তারও ছক তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের ইন্ধনে দলের কয়েকজন নেতা যে এসব করছেন, তার কিছুটা ইঙ্গিতও তিনি চেয়ারপারসনকে সম্প্রতি দেখা করে দিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। এসব নেতাই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি থেকে সরে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। পত্রপত্রিকায় আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে সংবাদও ছাপা হচ্ছে তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে।

এই নেতাদের ভাষ্য, ‘শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি কেন- অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে আমরা যে কোনো ক্ষেত্রেই ছাড় দিতে রাজি।’ অবশ্য, এ ধরনের কথাবার্তায় দেশব্যাপী বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা মহাসচিব প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বর্তমান মহাসচিবকে ভারমুক্ত করা না হলে তাকে বাদ দিয়ে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেগম জিয়াকে। আর দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী ও দলের দুর্দিনে নিবেদিত প্রাণের সিনিয়র নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দেখতে চান তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও। অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, ড. মাহবুবউল্লা, কাজী জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ দলের শুভাকাঙ্ক্ষী বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী বিএনপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

তাদের মতে, জানুয়ারিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হলে রাজধানীসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ব্যক্তিদের এখনই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব দিতে হবে। শুধু আলোচনাসভা আর বিবৃতিতে আর যাই হোক আন্দোলন হবে না। একই অভিমত ব্যক্ত করেন বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, মাগুরা, নোয়াখালী, ফেনী, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলা বিএনপির নেতারা। তারাও রমজানের পরপরই কঠোর আন্দোলনের পক্ষে। কিন্তু তার আগে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে যেসব ‘ব্যর্থ নেতা’ বসে আছেন, তাদের সরানোর দাবি তাদের।

নাটোর জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আহ্বানে আন্দোলনে দেশজুড়েই তৎপর থাকা নেতাদের আরও সক্রিয় করতে জেলা পর্যায়ে যাচ্ছেন দলনেত্রী। তবে তাকে ঘিরে আছেন নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত নেতারা। তারা নেত্রীকে ভুল পরার্মশ দিচ্ছেন।’

চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘এক সময়ের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন আর আপন-পর চিনতে পারছেন না। অক্টোপাসের মতো তার চারপাশ ঘিরে থাকা তথাকথিত নেতা, তল্পিবাহকদেরই তিনি এখন সবচেয়ে দক্ষ, যোগ্য নেতা ও লোক বলে ভাবছেন। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে চাইলে বিলম্ব না করে এসব অদক্ষ ও ব্যর্থ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরাতে হবে। অন্যথায় মা ও ছেলে জেলে গেলে প্রতিবাদ জানানোর মতো লোক হয়তো ঢাকার রাজপথে পাওয়া যাবে না।’ শফিউল আলম দোলন, বিডি প্রতিদিন

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful