Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ :: ৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ১০ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / মোদির পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় হাসিনা

মোদির পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় হাসিনা

modi hasinaশ্যামল কান্তি নাগ : বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের সরকার প্রধান নরেন্দ্র মোদির গুড বুক বা পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব রয়েছে ঢাকার। গত পাঁচ বছরে মনমোহন সিং সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। নানা ইস্যুতে বাংলাদেশকে কাছে পেয়েছে ভারত। দেশটির জন্য শেখ হাসিনার সরকার ইতিবাচক অবস্থানে থাকায় তাদের সঙ্গে মোদি সরকারও সম্পর্ক আরো সংহত করতে চায়। এমনটিই আভাস দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শান্তানু মৈত্র এবং সৈয়দ মাহবুবুল আলম মনে করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভারত তার উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফল হয়েছে। বাংলাদেশের মাটি ভারতীয় সন্ত্রাসবাদীরা খুব একটা ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি।

শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় অনেকটাই নিশ্চিন্তে ছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তারা বাংলাদেশকে কাছে পেয়েছে। সেভেন সিস্টার নামে খ্যাত উত্তরপূর্বের সাত রাজ্যের উন্নয়নে প্রায় সব রকম সহযোগিতা পেয়েছে বাংলাদেশের কাছ থেকে। ট্রানজিট থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ায় ওই রাজ্যগুলোতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনেকটাই এগিয়েছিল মনমোহন সিং সরকার। ব্যবসা-বাণিজ্যেও ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সমঝোতা ছিল চমৎকার। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সংখ্যালঘুরা কিছুটা হলেও বেশি নিরাপত্তা পেয়ে থাকে। এসব বিষয় মাথায় নিয়েই হিন্দুত্ববাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি হাসিনা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মোদি সরকার সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। যে কারণে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হলো বাংলাদেশ দিয়ে।’

ভারত সফরের জন্য শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সাক্ষাতের সময় সুষমা স্বরাজ সেই আমন্ত্রণপত্র দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। তিনদিনের সফরে আজ বুধবার ঢাকা আসছেন সুষমা স্বরাজ৷ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি নানা গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন৷

আপাতদৃষ্টিতে এটি ‘শুভেচ্ছা সফর` হলেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দেবেন যে, ভারতে সরকার বদল হতেই পারে। তবে মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো৷

অনেকেরই ধারণা, এ দুটি দেশের সম্পর্ক সরকারকেন্দ্রিক। কিন্তু ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সুসম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং তা দাঁড়িয়ে আছে উভয় দেশের অভিন্ন জাতীয় স্বার্থের ওপর৷ এ কথাও ঠিক যে, একাধিক ইস্যুর সফল বাস্তবায়ন এখনো ঝুলে আছে, যার একটা সন্তোষজনক এবং গ্রহণযোগ্য সমাধান হওয়া দরকার৷ আর আলোচ্য সফরে সেটাই হবে সুষমা স্বরাজের প্রথম পদক্ষেপ৷

বাংলাদেশের দিক থেকে জরুরি হলো তিস্তা নদীর জলবণ্টন, যেটিকে পণবন্দি করে রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং চুক্তি সই করেও, তা কার্যকর করতে পারেননি৷ মমতার মতে, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে পানির সংকট দেখা দিবে৷ দ্বিতীয় ইস্যু হলো স্থলসীমা চুক্তি তথা ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল হন্তান্তর৷

মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশটি সফরের সময় বাংলাদেশ সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকে এ দুটি চুক্তি প্রাধান্য পেয়েছে৷ মোদি কথা দিয়েছেন যে, চুক্তি দুটি কার্যকর করার কথা তার সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে৷ এরপরই চুক্তি দুটি রূপায়নের সম্ভাবনা নতুন করে খতিয়ে দেখতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে নির্দেশ দেন তিনি৷ চুক্তি দুটি কার্যকর করতে মোদি সরকার যে সত্যিই আন্তরিক সেই বার্তা নিয়েই আসছেন সুষমা স্বরাজ৷ তবে এর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়ত সম্ভব হবে না৷

ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের ভাষায়, ‘নিরাপত্তা, সীমান্ত সহযোগিতা এবং ভারত-বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলি দমনে ঢাকা যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন৷’

এর আগে স্থলসীমা চুক্তিতে নীতিগতভাবে রাজি ছিল বিজেপির একাংশ৷ওই চুক্তির জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন ছিল৷ তার জন্য দরকার ছিল সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা৷ কিন্তু মনমোহন সিং সরকারের কৃতিত্বকে আটকাতে শেষ পর্যন্ত বেঁকে বসে বিজেপি৷ এবার হয়ত সেই কৃতিত্বই নিতে চাইবে মোদি সরকার৷

অন্যান্য যেসব বিষয় আলোচনায় উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে, তার মধ্যে আছে নদী পরিবহন, রেল সংযোগ, শিলং হয়ে ঢাকা-গৌহাটি বাস সার্ভিস৷ বাংলাদেশের নির্বাচিত নাগরিকদের জন্য ‘মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা` এবং ‘ওয়ার্ক পারমিট` দেয়ার বিষয়টি নিয়েও দিল্লি চিন্তা-ভাবনা করছে৷ তার সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন গত সপ্তাহে কলকাতায় গ্রেফতার হয়েছেন, তাকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে প্রত্যর্পণ করতে ভারত রাজি আছে বলেও জানানো হবে৷

এছাড়া প্রবল বর্ষায় গৌহাটি ও আগরতলার মধ্যে রেল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নদী পথে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ নদী বন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় চাল ও গম পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য ঢাকাকে অনুরোধও করতে পারেন সুষমা স্বরাজ৷

মঙ্গলবার রাতে বিএনপি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার বৈঠক করবেন। তবে এখনো ভারত এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। রাইজিং বিডি

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful