Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০ :: ১২ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১ : ১১ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ বিএনপির আন্দোলন

ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ বিএনপির আন্দোলন

khaleda bnpডেস্ক: ‘ম্যাডাম ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি তো কোনো কমিটিই পুনর্গঠন করেননি। তাহলে কিসের আন্দোলন হবে। আন্দোলন আবারও ভেস্তে যাবে।’ কথাগুলো বললেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক কর্মী। নাম আবেদ রহমান। ছাত্রদল করার অপরাধে তিনি এখন হলছাড়া। থাকেন আজিমপুরে এক মেসে। কিন্তু নতুন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের কোনো পর্যায়ের পদ নেই তার।

জয়পুরহাটের জনসভায় খালেদা জিয়া আন্দোলনের হুমকি দেওয়ার পরদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে এই প্রতিবেদককে আবেদ বলেন, ‘ভাই ছাত্রদল কইরা হল ছাড়লাম। বাড়ি থেকে টাকা এনে রাজনীতি করি। ম্যাডামের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। ম্যাডামও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি হয়নি। এবারও আন্দোলন হবে না। কারণ এখন যারা কমিটিতে আছে সবাই সরকারের দালাল। সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা চলে। কি করে তারা আন্দোলন করবে।’

একই কথা বললেন এস এম হলের ছাত্রদল কর্মী সবুজ রায়হান। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল করে সবকিছুই হারালাম। কিন্তু কোনো পদ পেলাম না। ছাত্রত্বও এখন শেষ পর্যায়ে। এখন যারা ছাত্রদল করে কারও ছাত্রত্ব নেই। ফলে তারা ক্যাম্পাসেও আসতে পারে না। আন্দোলন কি করে হবে।’

এই পরিস্থিতি যে শুধু ছাত্রদলের তা নয়, বিএনপির সহযোগী সব সংগঠনেরই একই অবস্থা। যুবদলের কর্মী রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাডাম আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এতে আমরা খুশি। কিন্তু মাঠে থাকবে কারা। কোনো কমিটিই পুনর্গঠন করা হয়নি। আগের মতো আন্দোলনে রাজপথে কাউকেই পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কারণ আগে যারা কমিটির নেতৃত্বে ছিল এখন তারাই আছে। কোনো পরিবর্তন নেই। তাহলে কীভাবে আন্দোলন সফল হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, ‘আন্দোলন কর্মসূচি যাই ঘোষণা করুক, আসলে এগুলো সরকারকে চাপে রাখার জন্য। এ বছর কোনো আন্দোলনই হবে না। ঢাকা মহানগর কমিটি পুনর্গঠন না করলে কোনো কর্মসূচিই কাজ হবে না।’

আসাদুল হক নামে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন যে ঘোষণা দিয়েছেন সেই ঘোষণা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তৈরি আছেন। কিন্তু যারা নেতৃত্বে আছেন তারা যদি বাগড়া দেয় তাহলে তো সমস্যা। তাই আগে নেতাদের ঠিকভাবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আবার ব্যর্থ হতে পারে।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তারা বলছেন, জনগণের প্রয়োজনেই জনগণ আন্দোলনে নামবে। কমিটি পুনর্গঠন কোনো বিষয় নয়। আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে আন্দোলন হবে। জনগণই রাজপথে নেমে আসবে। এতে কোনো সমস্যা নেই।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আন্দোলনের সঙ্গে কমিটি পুনর্গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে আন্দোলন হবে। জনগণ তাদের প্রয়োজনেই আন্দোলনের জন্য মাঠে নামবে।’

তাহলে কেন বিএনপি আন্দোলন করে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আপনারা কি দেখেননি কেন পারেনি। সরকার কাউকে কি ঘর থেকে বের হতে দিয়েছে? এখন আপনারা বলছেন সরকারের বাহিনীগুলোর মতো বিএনপির নেতাকর্মীরাও কি বন্দুক নিয়ে বের হোক?’

এবারও তো সেই পরিস্থিতি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রয়োজনেই জনগণ মাঠে নামবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না। এরপর যদি কোনো পরিস্থিতির অবতারণা হয় তার দায় সরকার নিবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলবো না।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আন্দোলন এবং সংগঠন দুটি আলাদা বিষয়। আন্দোলনের সঙ্গে সংগঠনকে পুনর্গঠন করার কোনো সম্পর্ক নেই। যুদ্ধের ময়দানেও নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। সেটা কোনো সমস্যা নয়। ম্যাডাম বা দল মনে করেছে ঈদের পর আন্দোলনের সময়। সেই জন্যই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। দলের সেই ঘোষণায় সবাই ঝাঁপিয়ে পড়বে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিটি পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া সেটা কি্ন্তু বন্ধ নেই। সে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুতরাং আন্দোলন চলবে পাশাপাশি কমিটি পুনর্গঠন দরকার হলে সেটাও চলবে।’

তবে বিএনপির এই আন্দোলনের ঘোষণাকে পাত্তা দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলছেন, এগুলো শুধুই ফাঁকা বুলি। বিএনপির আন্দোলন করার মতো কোনো সাংগঠনিক শক্তি নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ উল আলম লেলিন বলেন, ‘বিএনপি নেত্রীর আন্দোলনের ঘোষণা ফাঁকা বুলি। এগুলো লোক দেখানো। আসলে তাদের আন্দোলনের কোনো শক্তি নেই। যেটা ইতোপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে। এসব আমরা মাথায় নিচ্ছি না।’

এ বিষয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন বিএনপির আন্দোলন সফল হবে কি হবে না সেটা নির্ভর করছে তাদের আন্দোলনের  কৌশলের ওপর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় বিএনপি কোন পদ্ধতিতে আন্দোলনে যায়। তাদের আন্দোলনের কৌশলের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে আমি পলিটিক্যাল গ্যালারির বক্তব্যই মনে করি। কারণ তাদের দলের যে পুঁজি বা বাস্তবতা রয়েছে সেটিকে তারা বিশ্লেষণ করে কোনো কর্মকৌশল ঠিক করেছে কি না সেটা আমার জানা নেই। তবে তাদের উচিত সব কিছু নিয়ে একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ করে সামনের দিকে পা বাড়ানো।’

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful