Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৪ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ২২ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / বৈধতা ও সংলাপ নিয়ে নতুন করে বাদানুবাদ

বৈধতা ও সংলাপ নিয়ে নতুন করে বাদানুবাদ

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

songlapদশম জাতীয় সংসদ বৈধ না অবৈধ? এ নিয়ে অনেকেই উত্তপ্ত বিতর্কে লিপ্ত। এই বিতর্কের মাঝেই আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। দশম জাতীয় সংসদের ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য বৈধ না অবৈধ—তা নিয়ে দায়ের করা একটি রিটের রায় হয়েছে। আদালত বলেছে, ‘সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে কোনো আইন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা যায় না। এ কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।’ তার মানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অবৈধ নন। যদি তাই হয়, তাহলে দশম সংসদ হলো বৈধ। আর সংসদ বৈধ হলে সরকারকে যে অবৈধ বলা যায় না—একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তার পরেও কথা থেকে যায়। প্রথম কথা হলো, বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে আদালতের রায়ের পরে তা নিয়ে কথাবার্তা কি শেষ হয়ে যাবে? যারা এই সরকারকে বৈধ বলে স্বীকার করে না, তারা কি আদালতের এই রায়কে মান্য করে এই সরকারকে আর ‘অবৈধ’ বলবে না? বলবে। কারণ সরকারকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য তাদেরকে সে কথা বলে যেতে হবে। বিএনপি তা করে চলেছে। অন্যদিকে সরকার অবৈধ হওয়ার অভিযোগকে আওয়ামী লীগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে। সে বলছে যে, সরকারের বৈধতায় বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই। কিন্তু ‘বৈধ না অবৈধ’ নিয়ে বিতর্ক, কিম্বা সে বিষয়ে আদালতের রায় হলো এককথা—আর ‘বাস্তবতা’ হলো আরেক কথা। দু’পক্ষই তাদের কথাবার্তায় আদালতের রায় সত্ত্বেও যা প্রকৃত ‘বাস্তবতা’ সেই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। নিজের অজান্তেই সেই বাস্তবতার কথা তাদের মুখ ফুটে বেরিয়ে আসে।

বিএনপি সরকারকে বলছে অবৈধ। আবার এই অবৈধ সরকারের সাথে সংলাপের কথাও বলছে। অন্যদিকে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী মো. নাসিম বলেছেন, বিএনপি যদি বর্তমান সরকারকে বৈধ বলে মেনে নেয়, তাহলেই কেবল তাদের সাথে সংলাপ হতে পারে। অন্যথায় নয়। তার মানে কি? একথা দ্বারা নাসিম সাহেব প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন যে, এই সরকারের বৈধতার ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে। না হলে সংলাপের মতো একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে বৈধতাদানের প্রশ্নকে তিনি শর্ত হিসাবে বা পূর্বশর্ত হিসাবে উল্লেখ করবেন কেন? সংলাপ চাও, হবে। তবে শর্ত একটাই—আমাকে বৈধতা দিতে হবে। আমাকে বৈধতা না দিলে কোনো সংলাপ নয়। অর্থাত্ সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে। তাই বৈধতা-অবৈধতার প্রশ্ন আর বাস্তবতার বিষয়টি সরাসরিভাবে এক নয়। একই সাথে বৈধ-অবৈধ প্রশ্নের সংলাপ করা না করার বিষয়টিও একা কারো নয়। অন্তত ইতিহাস সে কথাই বলে। বিগত শতাব্দীর আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচার এইচ এম এরশাদের অবৈধ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের গণতান্ত্রিক দলগুলো আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সেই সরকারকে ‘অবৈধ’ রূপে আখ্যায়িত করা সত্ত্বেও তখন কিন্তু বিভিন্ন সময়েই অবৈধ সামরিক শাসক এরশাদের সঙ্গে নানা ইস্যুতে গণতান্ত্রিক দলগুলো আলোচনায় বা সংলাপে বসেছে। তার মানে কি এই যে, স্বৈরাচারী এরশাদকে তখন তারা বৈধতা দিয়েছিল? না, ব্যাপারটি মোটেই সে রকম নয়। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত শক্তির সাথেও সংলাপে বসতে হয়।

সুপ্রিম কোর্ট তার এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় বলেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ১৯৯০ পর্যন্ত যতগুলো সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে পেছনের দরজা দিয়ে, হত্যা, ক্যু-এর মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এতে জনগণের কোনো সায় ছিল না। তারা অবৈধ। কিন্তু আদালত সে সময়ে অবৈধ সরকারগুলো যেসব প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেগুলোকে কি ‘কনেডানমেন্ট’ প্রদান করে বৈধতা দেয়নি? আসলে বৈধতার প্রশ্ন আর বাস্তবতা ভিন্ন জিনিস। কোনো কিছুকে বাস্তবতা বলে মেনে নিলেই সেটাকে বৈধতা দেয়া হয় না। আবার কোনোকিছুকে অবৈধ বললেই সেটা কল্পজগতের অবাস্তব বিষয় হয়ে যায় না। 

সংলাপের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে আবার আলোচনায় এসেছে। এর সঙ্গে বৈধতার বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংলাপ হবে কী হবে না—এ নিয়ে দীর্ঘ বাহাস হয়েছে দু’দলের মধ্যে। একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সংলাপের পথে এক কদম এগোলে বিএনপি দুই কদম দূরে সরে গেছে। আবার বিএনপি এক কদম এগোলে আওয়ামী লীগ দুই কদম দূরে সরে গেছে। ফলে কার্যকর সংলাপ হয়ে ওঠেনি। সংলাপ নিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্যেই দুই নেত্রীর টেলিফোন সংলাপ রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছিল। সংলাপ ‘হতে হতেও’ আর হয়নি। তবে তাদের মাঝে কথার চুলোচুলি হয়েছিল বেশ। 

বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতারা এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হতে পারে, তবে সেটা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নয়। তা হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। তারা বলেছিলেন যে, দশম সংসদ নির্বাচন একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন, আইন রক্ষার নির্বাচন। সে কারণে এটা ব্যতিক্রমী নির্বাচন। যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে নিয়ে আরেকটি রেগুলার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। এখন অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতারা সেই কথা বেমালুম ‘ভুলে বসে আছেন’। তারা এখন সুর পাল্টিয়ে ফেলেছেন। তারা বলছেন, বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের জন্যই নির্বাচিত হয়েছে। পাঁচ বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এবং তা শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই হবে। এই সময়কালের মধ্যে বিএনপির সঙ্গে আর কোনো সংলাপ হবে না। কিছু কিছু ‘জ্ঞানী’ মন্ত্রী তো সরাসরিই বলেছেন, সংলাপ হবে তবে সেটি হবে জনগণের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে নয়। বিএনপির সঙ্গে আবার কিসের সংলাপ?

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যাতে সংলাপ হয় তার জন্য বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্র তাগাদা দিয়ে চলেছে। তারা এখনো এ ব্যাপারে কথা বলছেন। অনেক সময় তাদের কথা শুনলে মনে হবে, তারা এতোটাই পূত-পবিত্র ও গণতন্ত্রধারী যে তারা ভেজা মাছটিও উল্টে খেতে জানেন না। কিন্তু তাদের আসল চরিত্র হলো- চোরকে বলে চুরি করো, আর গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকো। তারা যে একহাতে সংলাপের ইঙ্গিত দিয়ে অন্য হাতে সংঘাত ও অচলাবস্থা টিকিয়ে রাখার ফন্দি কার্যকর করছে না সে কথা কে বলতে পারে? 

অন্যদিকে যে বিএনপি সংলাপের পথ পরিহার করে আন্দোলনের মাধ্যমে (আসলে সহিংসতার মাধ্যমে) সরকার উত্খাত করার পথে নেমেছিলো, হুঙ্কার দিতো, তারাও এখন বেশ জোরেসোরে সংলাপের কথা বলছে। বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে তুষ্ট করার জন্য সংলাপের প্রস্তাবনাকে এখন তুরুপের তাস হিসাবে তারা ব্যবহার করছে বলে অনেকেরই ধারণা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোতে হর-হামেশাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ বা আলোচনা হতে পারে। সেরূপ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয় ও স্বাভাবিক। সংলাপকে নিছক একটা আনুষ্ঠানিকতা মনে করলে অবশ্য অন্য কথা। কিংবা এটাকে একটা লোক দেখানো ইভেন্ট বা ‘গ্যালারী শো’ হিসেবে বিবেচনা করলে অবশ্য ভিন্ন কথা। কিন্তু দেশ ও জনগণের স্বার্থ নিয়ে, পারস্পরিক মতবিরোধ নিয়ে, ঐকমত্যের বিষয়গুলো নিয়ে, পরস্পরের মতামত ও বিশ্লেষণের আদান-প্রদান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা হবে না কেন? গণতান্ত্রিক সমাজে উঠতে-বসতে এরকমটাই হওয়া উচিত। এ ধরনের আলোচনাই হলো আসল সংলাপ। গণতান্ত্রিক-সংলাপের লক্ষ্য যদি সেটিই হয় তাহলে সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের শর্ত আরোপ করাটা যুক্তিহীন। এ ধরনের সংলাপ চালানোর অর্থ একথা নয় যে তাতে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে সরে আসা হচ্ছে। সংগ্রামও চলবে, সংলাপও চলবে। এমনটাই হওয়া উচিত। এই কালচার শুধু গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ক্ষেত্রেই বাঞ্ছনীয় নয়। যুদ্ধক্ষেত্রেও এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। পরস্পরের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে, তারপরেও রেডিও ট্রান্সমিটারে কিন্তু ফিল্ড কমান্ডাররা পরস্পরের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৬ ডিসেম্বরের আগেও আত্মসমর্পণসহ নানা বিষয় নিয়ে হানাদার পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও যৌথ মৈত্রী বাহিনীর আলোচনা হয়েছে। তখন দু’পক্ষই পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করতে উদ্যত ছিলো, তার মধ্যেও কিন্তু নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যখন একদিকে আমেরিকা ও ভিয়েতনামের হাজার হাজার সৈন্য প্রত্যহ হতাহত হচ্ছে—সেই যুদ্ধ চলাবস্থাতেই প্যারিসে তাদের মধ্যে ‘সংলাপ’ হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যদি আলোচনা হতে পারে, তবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে কেন আলোচনা বা সংলাপ হতে পারবে না?

বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের আসল উত্স কিন্তু সংলাপ হওয়া না হওয়া নিয়ে নয়। এর উত্স আরো গভীরে। বিগত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুব সামান্য সংখ্যক ভোটারই ভোট দিয়েছিল। ১৫৩টি আসনে কোনো ভোট ছাড়াই এমপি ‘ঘোষিত’ হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে এই ‘একতরফা’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একথা সকলেই জানতো যে, সে সময় আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থনে গুরুতর ভাটা চলছিল। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কিছু সময় আগে অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার ঘটনা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ৫ জানুয়ারির আগে ‘আওয়ামী লীগ থেকে একটি বড় সংখ্যক মানুষের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার’ সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছিল বলে মনে করার মতো কোনো কারণ ঘটেনি। জাতীয় নির্বাচনে নগণ্য সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিল। ফলে তা থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনসমর্থন ফিরে পাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাচনের শেষ চার পর্বে যে ‘কারচুপির তামাশা’ চালানো হয়েছে, তা দিয়েও জনসমর্থনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি পাওয়ার কোনো সুযোগ হয়নি। তাই নানা কারণে একথাই ধরে নিতে হয় যে, আওয়ামী লীগ তার জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে সৃষ্টি হওয়া ঘাটতি এখনো পূরণ করতে পারেনি।

৫ জানুয়ারির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচনের পর পরই এই কাজটিই কিন্তু ছিল আওয়ামী লীগের সামনে প্রধান ও সবচেয়ে জরুরি কর্তব্য। জনসমর্থনের প্রত্যক্ষ অভিব্যক্তি ছাড়াই এভাবে নির্বাচনে ‘বিজয়ী’ হওয়া গেলেও এবং ‘জবরদস্তির’ পদ্ধতি চালিয়ে কিছুদিন ‘দাপটে’ শাসন করা সম্ভব হলেও পর্যাপ্ত জনসমর্থন না থাকলে একটি দেশে ‘স্থায়ী ও স্থিতিশীল’ গণতান্ত্রিক শাসন চালানো যায় না। সেরূপ পর্যাপ্ত জনসমর্থনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি কমার বদলে গত ৫ মাসে বরঞ্চ তা আরো বাড়ছে। তবু আওয়ামী লীগ এভাবেই চিরকাল ক্ষমতায় থাকার বাসনা পোষণ করছে। এ এক অতি গুরুতর ভ্রান্তিবিলাস ও আত্মঘাতী চলার পথ।

অন্যদিকে বিএনপি চেয়েছিল নির্বাচন ছাড়াই আওয়ামী লীগকে ‘আন্দোলনের’ মাধ্যমে উত্খাত করবে। কিন্তু একটি প্রকৃত গণআন্দোলনের জন্য যে জনসমর্থন প্রয়োজন তা বিএনপির পেছনে ছিল না। সে কারণে তাকে সহিংস সন্ত্রাসী তাণ্ডব সৃষ্টির পথ নিতে হয়েছিল। এজন্য বিএনপিকে জামায়াতের জঙ্গি শক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। ৫ জানুয়ারির পরবর্তী ৫ মাসে বিএনপি তার পক্ষে ইতিবাচক জনসমর্থন নতুন করে সমবেত করতে সমর্থ হয়নি। হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্যের স্মৃতি, বিএনপির জোট সঙ্গী জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী দেশদ্রোহী তত্পরতা ইত্যাদি অপকর্মের স্মৃতি জনগণ ভুলে যায়নি। সরকারকে উত্খাত করা বা মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধ্য করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন বিএনপির নেই। কিন্তু তারা ক্ষমতায় যেতে মরিয়া। যে দু’টি দল ক্ষমতার দড়ি টানাটানির মরণ খেলায় মত্ত, সাধারণ মানুষ তাদের থেকে আরো বেশি বিমুখ হয়ে পড়ছে। এই জনবিচ্ছিন্নতাকে আড়াল করার জন্য বিপুল অর্থব্যয়ে ও অন্যান্য কায়দায় ‘শো ডাউন’-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের মনের কথা ভিন্ন। উভয় দলের এরূপ জনবিচ্ছিন্নতার ফলে রাজনীতিতে এখন একধরনের একটি ত্রিশঙ্কু অবস্থা চলছে।

মানুষের মাঝে এই ধারণা ক্রমেই দৃঢ়মূল হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কাছে আর ভালো কিছু আশা করার কোনো সুযোগ নেই। তাদের কাছে মানুষের আশা দিন দিন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বলয়ের বাইরে কোনো কার্যকর ও অর্থবহ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিসমাবেশও এখনো সেভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। অথচ সেটিই পরিত্রাণের একমাত্র সম্ভাব্য পথ। এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে একটি বাম-গণতান্ত্রিক-দেশপ্রেমিক বিকল্পের অভ্যুদয় নিশ্চিত করার চেষ্টা জোরদার করার মাধ্যমেই দেশের এরূপ ত্রিশঙ্কু অবস্থা নিরসনের প্রয়াস সফল হতে পারে। সেটা যত mojahid islam selimদ্রুত গড়ে উঠে, জনগণের জন্য ততই মঙ্গল।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

E-mail : selimcpb@yahoo.com

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful