Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ :: ৯ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৫১ পুর্বাহ্ন
Home / শিল্প ও সাহিত্য / শেষ বেলায় বিখ্যাতদের শেষ কথা

শেষ বেলায় বিখ্যাতদের শেষ কথা

চিরনিদ্রায় বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক লিও টলস্টয়। ছবি : সংগৃহীত

চিরনিদ্রায় বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক লিও টলস্টয়। ছবি : সংগৃহীত

তাপস রায় : মৃত্যুশয্যায় মানুষ নাকি কোনো রকম ভান করতে পারে না। সেই চরম মুহূর্তে সত্যের মুখোমুখি; জীবনের শেষ গন্তব্যের ফটকে দাঁড়িয়ে ভাগ্যকে বরণ করে নিতে মনুষ কতটা প্রস্তুত থাকে- মনোবিজ্ঞানের এও এক রহস্য বটে! সেই রহস্য আরো ঘনীভূত হয় কিছু মানুষের ব্যতিক্রমী মানসিকতায়। জীবদ্দশায় তারা এমন কিছু করেন যা অনেকের কাছেই অনুকরণীয় হয়ে থাকে।  মৃত্যুশয্যায় তারাই যে দৃষ্টান্ত রেখে যাবেন এ আর নতুন কী! জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধায় তারা যে সত্যিই ব্যতিক্রম তাদের শেষ কথায় পুনরায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মৃত্যুশয্যায় অনেক মনীষীর শেষ কথায় থাকে চরম সত্য উপলব্ধি, আবার কখনও বুদ্ধির দীপ্তি।

পিটার প্যানের লেখক জেএম ব্যারিকে দিয়েই শুরু করা যাক। ‘পিটার প্যান’ ছাড়াও তার আরেকটি কীর্তি আছে। ব্যারি ১৮৮৭ সালে বন্ধুদের নিয়ে একটি ক্রিকেট ক্লাব করেছিলেন। ক্লাবের নাম ছিল ‘আল্লাহ আকবরিজ সি সি’। খ্রিস্টানদের ক্লাবের এমন নাম শুনে যারা এর সত্যতা নিয়ে ভাবছেন তাদের বলি, ব্যারি ভেবেছিলেন, ‘আল্লাহু আকবর’ কথাটার মানে হলো ‘খোদা, রক্ষা করো’। (আসল অর্থ : আল্লাহ মহান)। প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে নেমে তারা প্রতিবারই গো-হারা হারতেন, তাই এ নাম রেখেছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো ক্লাবের হয়ে কারা খেলতেন যে এমন বাজে ফল হতো। তাহলে শুনুন, ক্লাবের সেরা ক্রিকেটার ছিলেন, সাহিত্যিক আর্থার কোনান ডয়েল। তারপর এইচজি ওয়েলস, জেরোম কে জেরোম, পি জি উডহাউস এমন অনেকে। তারা সাহিত্যে রাঘববোয়াল বটে কিন্তু মাঠে ছিলেন চুঁনোপুটি। যাই হোক, জেএম ব্যারির মৃত্যুশয্যায় শেষ কথা ছিল, ‘আমি ঘুমাতে পারছি না।’ এটা বলার পরেই তিনি চিরনিদ্রায় ঢলে পড়েন। খেলায় প্রতিবার শোচনীয় পরাজয়ের দুশ্চিন্তাই তার মৃত্যুর কারণ ছিল কিনা তা অবশ্য জানা যায় নি।

হামফ্রে বোগার্টকে মার্কিন চলচ্চিত্রের ‘কালচারাল আইকন’ বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। অস্কারজয়ী  বিখ্যাত এই অভিনেতা এতটাই মাদকাসক্ত ছিলেন যে, মাতাল হয়ে স্ত্রীর গায়ে প্রায়ই হাত তুলতেন। এতে পুলিশি ঝামেলাও হতো। কিন্তু পুলিশ এলে বলতেন, ‘স্ত্রীর সঙ্গে নাটকের মহড়া করছিলাম!’ অতিরিক্ত পানাসক্তিই তার মৃত্যু ত্বরান্বিত করে। মারা যাবার আগে তার শেষ কথা ছিল, ‘স্কচ ছেড়ে মার্টিনি ধরাটা ঠিক হয়নি।’
মনে পড়ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির কথা। তিনি থিওডর রুজভেল্টের পর আমেরিকার দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে তিনি প্রথম আইরিশ আমেরিকান রাষ্ট্রপতি। শুধু তাই নয়, তার ঝুলিতে পুলিৎজার পুরস্কারও রয়েছে। এই প্রেসিডেন্টের মৃত্যু হয়েছিল হঠাৎ করেই আততায়ীর গুলিতে। ঈশ্বর ছাড়া মাটির পৃথিবীর কেউই জানতেন না সে কথা। তিনি মৃত্যুর আগমুহূর্তে বেশ খোশমেজাজে ছিলেন। গর্ভনর জন কনেলির স্ত্রী তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আপনি নিশ্চয় বলবেন না, ডালাসের মানুষ আপনাকে চমৎকার একটা অভ্যর্থনা দেয়নি।’
তখন কেনেডি বলেছিলেন, ‘না নিশ্চয় কেউ তা বলবে না।’ এটিই ছিল কেনেডির শেষ কথা।

চীনা রাষ্ট্রনায়ক মাও সে তুং-এর জীবনের শেষ কথা ছিল, ‘আমি অসুস্থ বোধ করছি। ডাক্তার ডাকো।’ এই কথাটি সম্ভবত অনেক মৃত্যু পথযাত্রীরও শেষ কথা। কিন্তু হায়! ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগী মারা গেলেন। অর্থাৎ মাও সে তুং মারা গিয়েছিলেন। ওদিকে মৃত্যু আসন্ন দেখে ডাক্তার নয়, মার্কিন অভিনেত্রী জোয়ান ক্রফোর্ডের গৃহতত্ত্বাবধায়ক যখন উচ্চস্বরে প্রার্থনা শুরু করলেন, তখন তিনি বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘ধুত্তরি! ঈশ্বরের কৃপার আমার দরকার নেই।’

অন্যদিকে ভবিষ্যদ্বক্তা নস্ট্রাদামুস মারা যাওয়ার আগে বলেছিলেন, ‘আগামীকাল আমি থাকব না।’ এই উপলব্ধি যদি পৃথিবীর সব মানুষের থাকত তাহলে পৃথিবী হয়তো আরো বাসযোগ্য এবং সুখী হতো। মৃত্যুকালে নস্ট্রাদামুস ছিলেন শান্ত এবং ভাবলেশহীন। এও কিন্তু কম কথা নয়। অথচ বিখ্যাত চিকিৎসক জোসেফ হেনরি গ্রিনের মৃত্যুর কারণ ছিল হঠাৎ উত্তেজনা। নিজের চিকিৎসার জন্য অন্য কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন তিনি হননি। নিজের নাড়ি পরীক্ষা করে তিনি এতটাই চমকে উঠেছিলেন যে, বিস্ময়ে শুধু এটুকু বলতে পেরেছিলেন, ‘এটা থেমে গেছে।’ এরপরই তিনি মারা যান।

ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের বাকচাতুর্য এবং দার্শনিক কলা সুবিদিত। তিনি নাগরিক স্বাধীনতার স্বপক্ষে, বিশেষত ধর্মের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। খ্রিস্টান গির্জা ও তৎকালীন ফরাসি সামাজিক আচার ছিল তার ব্যঙ্গবিদ্রুপের লক্ষ্য। তিনি গির্জার চাপিয়ে দেয়া মতের সরকারি স্বীকৃতির বিরোধীতা করে ব্যর্থ হয়ে আক্ষেপ করে মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন, ‘গ্যালিলিও, তুমিই জিতেছ।’

জনপ্রিয় আফ্রিকান সঙ্গীতশিল্পী বব মার্লে। তার জীবনের শেষ কথাগুলো ছিল সন্তানের প্রতি। তিনি বলেছিলেন, ‘অর্থ জীবন কিনতে পারে না।’ অথচ জীবনের জন্য জীবনের শেষ দিকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বিটলস সদস্য জন লেলন। তার শেষ কথা ছিল, ‘আমাকে গুলি করা হয়েছে।’ বিটলসের আরেক সদস্য জর্জ হ্যারিসনের শেষ কথা ছিলো, ‘একজন আরেকজনকে ভালোবাসো।’ মৃত্যুকালে ভালোবাসার কথা শুনিয়েছেন বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক লিও টলস্টয়। যতদূর জানা যায় রাশিয়ান এই কিংবদন্তি লেখকের শেষ কথা ছিল, ‘আমি অনেক কিছু ভালোবাসি, আমি সব মানুষকে ভালোবাসি।’

বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন ওপারে চলে যাওয়ার আগে জীবনের শেষ বাক্যে বলেছিলেন, ‘সেখানে অপার সৌন্দর্য্য।’ অর্থাৎ ঈশ্বরে তার বিশ্বাস ছিল। তিনি পরম সৌন্দর্যের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষাতেই ছিলেন। বিখ্যাত এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত ছিলেন ফ্রিদা কাহলো। নারী অধিকার বিষয়ে সচেতন এই চিত্রশিল্পীর জীবনের শেষ কথা ছিল, ‘আশা করছি এ বিদায় আনন্দঘন হবে এবং কখনো ফিরবো না।’
আহা! আনন্দঘন বিদায় সবাই চায়। কেউ পায়, কেউ পায় না।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful