Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৭ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ০৪ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ঠাকুরগাঁওয়ে একই বিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহের শিকার

ঠাকুরগাঁওয়ে একই বিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহের শিকার

তানভীর হাসান তানু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বাল্য বিবাহ অভিশাপ ও এর নানামূখি কুফল থেকে মেয়ে শিশুদের রক্ষায় সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচারণা থাকলেও সম্পূন্নরুপে ভিন্ন এক ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ে।

সরেজমিনে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের একটি স্কুলের ৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জনই বাল্যবিবাহের শিকার। আর এমনি এক ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে সালন্দর চৌধুরী হাট এলাকায় হাজি কামরুল হুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যলয়ের নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ৭৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে গত ১ বছরে ২৩ জন বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছে।

এছাড়াও ওই বিদ্যালয়ে একই বছরে ৬ষ্ঠ,৭ম,৮ম ও ১০ম শ্রেণীর আরও ২১ জন শিক্ষাথী একই ঘটনার শিকার। বাল্য বিবাহের এসব ঘটনায় সচেতন মহলে বিশেষ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো ভূমিকাই ছিলোনা।

বাল্য বিবাহের শিকার ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী হ্যাপি আক্তার জানায়, বাবা মায়ের অমতে বর পক্ষের সহায়তায় অন্যত্র গিয়ে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বরের অল্প বয়স ও আয় রোজগার না থাকায় বর্তমানে সে নিজ পরিবারের আশ্রয়ে আছে। তবে সে অনুতপ্ত সুরে জানায়, এ বয়সে তার বিয়ে করা ঠিক হয়নি।

একই ঘটনার বলি শাহীনার বাবা আবু সাইদ বলেন, ‘আমার ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া নাবালক মেয়েকে ফুসলিয়ে ছেলে পক্ষ অন্যত্র নিয়ে ১০ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এ বিয়ে আমি মেনে নিতে পারিনি, মেয়ে নাবালক হওয়ায় আমি মামলা  করেছি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধিন রয়েছে।’

ওই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষক জানান, বাল্যবিয়ের শিকার ৯৫ ভাগ মেয়ে শিশু যারা নিম্নবিত্ত পরিবারের এবং দেখতে শুনতে ভালো তারাই এর শিকারে পরিণত হচ্ছে। পরবর্তীতে বাল্যবিয়ের শিকার এসব মেয়ে শিশুর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে তারা যখন সংসার জীবনে প্রবেশ করছে তখন নানা রকম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর ফলে পারিবারিক কলহ,নির্যাতন,মামলা, বিবাহ বিচ্ছেদ, নির্যাতনে হত্যা কিংবা আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক নানামূখি উদ্যোগ ও প্রচারণা থাকলেও এর ব্যাপকতায় তিনি বিস্মিত ও হতবাক। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি সব মহলের ঐক্যবদ্ধ কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার সালন্দর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী জানান, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি বিবেচনায় আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে বাল্য বিবাহের ঘটনায় বাধাদিলে পরবর্তীতে এসব বিয়ে অন্য এলাকায় কোনো আত্মীয়’র বাড়িতে সংঘটিত হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জন্ম সনদে বয়স বাড়িয়ে এসব বিয়ে সম্পন্ন হলেও তিনি জানান,তার ইউনিয়নে জন্ম সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কাজী আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান,আমি নিজে কোনো বাল্য বিবাহ দেইনা। তবে অনেক সময় দেখা যায় বাস্তবে মেয়ের বয়স কম থাকা সত্ত্বেও জন্ম নিবন্ধনে বয়স ঠিক থাকায় আমরা বিয়ে দিতে বাধ্য হই।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful