Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ২১ অপরাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / বিদ্যুৎবিহীন মাটির হিমাগার

বিদ্যুৎবিহীন মাটির হিমাগার

Himagar-01 copyকুরবান আলী, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎবিহীন মাটির হিমাগারটি জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। বদলে দিতে পারে গ্রামীণ জনপদে সাধারণ কৃষকদের ভাগ্যের চাকা।

সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেছে, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৪নং পাল্টাপুর ইউনিয়নের মৃতঃ আলহাজ্ব ডাঃ সমসের আলীর পুত্র মীম সীড-এর স্বত্ত্বাধিকারী কৃষিবিদ মোঃ তোহিদুল ইসলাম বকুল বীরগঞ্জ পৌর শহরের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের মাকড়াই মৌজায় ১১০ টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিদ্যুৎবিহীন মাটির হিমাগার নির্মান করেছেন। কাহারোল উপজেলা স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের প্রকৌশলী দিলীপ কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে ক্যাটালিষ্ট ও জিমার্ক-এর আর্থিক সহযোগিতায় সুদুর ভারত থেকে প্রযুক্তি ভিডিও চিত্রধারণ করে হিমাগারটি নির্মাণ করা হয়। হিমাগারটি পরীক্ষা মূলক চালুর পর কাচা সবজি ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেছে। বিদ্যুৎ ছাড়াই প্রাকৃতিক ভাবে আলুসহ সকল প্রকার কাঁচামাল হিমায়িত করে রাখার ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনপদে সাধারণ কৃষকদের উন্নয়নে বেশ ভূমিকা রাখবে। হিমাগারটি নির্মানে সর্বসাকুর্ল্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা।

এ ব্যাপারে কৃষিবিদ মোঃ তোহিদুল ইসলাম বকুল জানান, প্রাকৃতিক ভাবে আলু, সবজি ও বিভিন্ন ফলসহ যে কোন কাঁচামাল প্রাকৃতিক ভাবে হিমাগারে সংরক্ষন করে রাখা যায়। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মেদেনিপুরে ১১০টন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাকৃতিক হিমাগার র্নিমান করলেও তেমন ভাবে সফলতা লাভ করেনি। তবে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এধরনের বিদ্যুৎবিহীন হিমাগার নির্মান করে সফলতা অর্জন করেছেন। সরকারী ভাবে আর্থিক সহযোগীতা পেলে ১১০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাকৃতিক হিমাগার র্নিমান করা সম্ভব। প্রতি মৌসুমের মার্চ মাস থেকে কৃষকেরা এখানে একাধারে ৬ মাস পর্যন্ত আলু সহ বিভিন্ন কাঁচামাল অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। হিমাগারে পরীক্ষা মূলক ২৮দিন পর্যন্ত ফুলকপি ও ৭৫ দিন পর্যন্ত পাতা কপি সংরক্ষণ করে সফল হয়েছে। হিমাগারটির ঠান্ডা রাখার তলদেশে ৪ফিট গভীরতার মধ্যে পানি সংরক্ষণ করে রাখা হয়। উক্ত পানির মধ্যে মাছ চাষ করা সম্ভব। হিমাগারটির তলদেশের পানি ১৫দিন পর পর পরিবর্তন করা হয়। বিদ্যুৎ চালিত হিমাগারের বিকল্প হিসেবে এই বিদ্যুৎ বিহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় কৃষক এবং আলু চাষী মোঃ হবিবর রহমান, আব্বাস আলী, শফিকুল ইসলাম, পুরেন চন্দ্র রায়সহ কয়েক জন কৃষক জানান, ইতিপূর্বে হিমাগারের আলু সংরক্ষনের জন্য কেজি প্রতি ৫/৬ টাকা দিতে হত। কোন কারণে আলু পচে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরন পাওয়ায় যেতনা। অথচ প্রাকৃতিক হিমাগারে আলু সংরক্ষনের জন্য ব্যয় হয় কেজি প্রতি মাত্র ১ টাকা। বিদ্যুতের কারণে এখানে আলু সহ সকল প্রকার সবজি পচে যাওয়ার আশংকা থাকেনা। তাই বিদ্যুৎবিহীন মাটির হিমাগারটিকে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীদের উপকারী ও সময় উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলায় কৃষিবিদ মোঃ তোহিদুল ইসলাম বকুলের এই প্রয়াস গ্রামীণ অর্থনীতিতে Himagar-05 copyব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক আনোয়ারুল আলম জানান, তিনি এই হিমাগারটি গত এপ্রিল মাসে পরিদর্শন করেছেন। নতুন উদ্ভাবনায় বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক রূপরেখায় হিমাগারটি নির্মিত করা হয়েছে। এধরনের হিমাগার নির্মান করে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষকের কাচা তৈরি তরকারী মাস ব্যাপী সংরক্ষণ করা যাবে। তিনি এধরনের হিমাগার নির্মাণ করে উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় হিমাগার স্থাপনকারী তৈহিদুল ইসলামকে সাধুবাদ জানান।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন, ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে এই উপজেলা গঠিত হয়েছে। উপজেলার ৮৫ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানে প্রতিবছরই সব ধরনের সব্জি এবং আলুর উৎপাদন হয়। সব্জি ও আলু সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষিবিদ তোহিদুল ইসলামের হিমাগারটি নির্মানের পর সফলতা আসায় এধরনের হিমাগার আরো ৪টি নির্মানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful