Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৩ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ০৭ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / আওয়ামী লীগ-বিএনপির সাংগঠনিক বিপর্যয়

আওয়ামী লীগ-বিএনপির সাংগঠনিক বিপর্যয়

logo_29870ঢাকা: আওয়ামী লীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ছিল ২৫ জুন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ওই অনুষ্ঠান ছিল প্রায় কর্মীশূন্য। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অসুস্থতার কারণে তিনি নিজেও আসতে পারেননি। পরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে আসার জন্য বলা হলে তিনি ‘সংসদের ব্যস্ততা’ দেখিয়ে না করে দেন। পরদিন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। স্থান একই। কিন্তু ওই দিনও সভাস্থলে কেউ না আসায় সাজেদা চৌধুরীও আসেননি। এরপর বিকালে সভামঞ্চে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাবেক দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান প্রমুখ নেতা এলেও কর্মীরা আসেনি। দীর্ঘক্ষণ কর্মীদের প্রতীক্ষায় কাটিয়ে তারাও চলে যান। ২৭ জুন অবশ্য নামকাওয়াস্তে বেশকিছু লোক সমাগম হয়েছিল। কারণ ওইদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটগুলোতে যত নেতা আছেন তারাও যদি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসতেন তবে কয়েক হাজার লোক সমাগম হতো। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিপর্যয় কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে, তা বোঝার জন্য প্রায় কর্মীশূন্য প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছোট উদাহরণ বলে মনে করেন তাঁরা।

ফরিদপুরে সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী ও কাজী জাফরউল্লাহ দলের সভাপতিম-লীর সদস্য। ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য। বিস্ময়কর হলেও সত্য, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দলের জেলা কমিটি কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। প্রায় দেড় যুগ সেখানে সম্মেলন হয় না।

দুই বছর আগে সম্মেলন হলেও এখনো ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। সারা দেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটি ৭২টি। এর মধ্যে কমপক্ষে ২৪টি কমিটি চলছে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে। তিনটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দুই পদেই আছেন ভারপ্রাপ্তরা। আবার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দূরে থাক, আহ্বায়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়কও নেই এমন জেলাও আছে। ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ওই অর্থে অভিভাবকহীন। মহানগর কমিটিগুলোও চলছে জোড়াতালি দিয়ে। অথচ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্মেলন করে প্রতি তিন বছর পর পর নতুন কমিটি করার কথা।

তবে এসব ঘটনা থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রমাণ হয় না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘গত মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে দলকে গোছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিয়ন ও থানায় সম্মেলন হয়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের অপচেষ্টা, হেফাজতের হঠাৎ উত্থানকে ঠেকাতে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। পরে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এসব কারণে ওই সময় সম্মেলন করে কমিটি করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার যত দ্রুত সম্ভব সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, ‘আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই সম্মেলন করার ব্যাপারে জেলাগুলোকে তাগাদা দেয়া হয়েছে। কেউ যদি রোজা ও আগস্ট মাসের কারণে করতে না পারে তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলন করবে। এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

আ’লীগের জেলা কমিটিগুলো বেহাল, ভারপ্রাপ্তের ছড়াছড়ি

আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির প্রায় সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। যে কারণে স্থবিরতা নেমেছে রাজনৈতিক কার্যক্রমে। নামকাওয়াস্তে কেন্দ্রের কর্মসূচি পালন ছাড়া কোনো নতুন কর্মসূচিই নেই তাদের। এসব কারণে দলের শৃঙ্খলা অনেকটা ভেঙে পড়েছে। তবে চতুর ও বিচক্ষণ নেতাদের একটি অংশ মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় না থাকলেও কেন্দ্রের হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ-সম্পর্ক ধরে রাখছেন। অনেকে এলাকা ছেড়ে ঢাকাতেই আবাস গড়েছেন। এতে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে সম্মেলন হয় না এমন জেলার সংখ্যাও ১০টির বেশি। দলের জাতীয় কাউন্সিল করা হলেও অনেক জেলা-উপজেলা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায় থাকে। প্রয়াত আবদুল জলিল সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা (দক্ষিণ), বরিশাল মহানগর, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর ও কুমিল্লা (উত্তর) জেলায় সম্মেলন হয়নি। এসব জেলার নেতা-কর্মীরা জানেন না সম্মেলন কী জিনিস। এই ১১ জেলা কমিটির মেয়াদ পেরিয়েছে এক যুগ আগে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জেলা কিশোরগঞ্জে সম্মেলন হয় না ১৬ বছর ধরে। এই জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুইজনই ভারপ্রাপ্ত। ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক গোলাপ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এলে স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ওই একই বছর মারা যান সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক গোলাপ। তারপর থেকে দীর্ঘ ছয় বছর ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি চলছে। বর্তমানে এ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম। তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচা। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন এম এ আফজল।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেলা গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগও চলছে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় দশ বছর আগে ২০০৪ সালে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আলী খান আবু মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক  চৌধুরী এমদাদুল হক। পরে আবু মিয়া মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান রাজা মিয়া বাটু। এই জেলার মেয়াদ শেষ হওয়া কমিটি চলছে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে। কাশিয়ানী ছাড়া জেলার অন্য থানা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর অবস্থাও প্রায় একই।

জানতে চাইলে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজা মিয়া বাটু বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সম্মেলন করে নতুন কমিটি করা হবে।’

তিন বছর আগে মারা যান ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান লাবলু। এরপর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সৈয়দ মাসুদ হোসেন। পিরোজপুর জেলা সম্মেলন হয় না ২১ বছর। ২০০৪ সালের ২৯ অক্টোবর পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুধাংশু শেখর হালদার মারা যান। সেই থেকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন।

কথা বলার জন্য আকরাম হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তাঁর স্ত্রী জানান, গত পাঁচ মাস ধরে আকরাম হোসেন গুরুতর অসুস্থ। কথা বলতে পারেন না তিনি।

২০০৯ সালে রমেশ চন্দ্র সেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন মকবুল হোসেন বাবু। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি রমেশ চন্দ্র সেনের। কিন্তু এখনো মকবুল হোসেনই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আছেন।

ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক কোরাইশী বলেন, ‘কাগজে-কলমে রমেশ চন্দ্র সেন এখনো সভাপতি। আগামী ১২ জুলাই সম্মেলনের দিন ঠিক করা হয়েছে। শিগগির নতুন কমিটি করা হবে।’  

দুই বছর আগে ঘোষিত নতুন কমিটিতে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন আবুল মনসুর আহমেদ। তিনি মারা গেছেন। তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে আছেন মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। গাইবান্ধা জেলা সম্মেলন হয় ২০০৫ সালে। ওই সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ খালেদ। পরের বছর তিনি মারা গেলে সৈয়দ শামসুল আলম হিরু ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে গাইবান্ধা থানা ও শহর কমিটির সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জেলার সম্মেলন হবে বলে আশা করছি।’

মেয়াদ পার হওয়া নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী শেখ মারা যান ২০১২ সালে। তাঁর মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার।

জেলার সম্মেলন না হওয়ার জন্য কেন্দ্রকে দোষারোপ করলেন সভাপতি সাজেদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘জেলার সাতটি থানার মধ্যে দুটি ছাড়া সবগুলোতে সম্মেলন করে কমিটি করা হয়েছে। বাকি দুটি আটকে আছে কেন্দ্রের কারণে। কেন্দ্র থেকে নেতারা এলেই বাকি দুটোতেই হয়ে যাবে। এর পরই জেলার সম্মেলন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে নেতারা আসছেন না বলে সম্মেলন পিছিয়ে যাচ্ছে।’ জেলার সম্মেলনের ব্যাপারে কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই বলেও জানান সভাপতি।

২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর মারা যান সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ মির্জা। তারপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

কথা বলার জন্য জেলার সাধারণ সম্পাদক কে এম হোসেন আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বলা হয় তিনি ঢাকায়। পরে তাঁর নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

মারা গেছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রশীদুজ্জামান দুদু। এর পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার জুলফিকার আলী আরজু।

জানতে চাইলে জেলার সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের তাগাদা দেয়া হয়েছে। তারিখ পেলেই আমরা সম্মেলন করব।’

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন মারা যান গত বছর। সেই থেকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজেল হোসেন খান।

২০১০ সালের ২২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুল হাই সাচ্চু মারা যাওয়ার পর সৈয়দ এমদাদুল বারীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি কথা বলতে পারেন না। বর্তমানে জহিরুল হক খান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একে আহম্মদ হোছাইন। ২০০৩ সালে আলী আশরাফ কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হওয়ার পর কুমিল্লা (উত্তর) জেলার সভাপতির পদ ছাড়েন। তখন থেকে আবদুল আউয়াল সরকার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে।

নোয়াখালী জেলা সভাপতি মারা যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন খায়রুল আনম সেলিম।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি এস এম আকরাম দল ছেড়েছেন আগেই, কিন্তু এই পদে আর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি কাউকে।

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের শেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৬ সালের জুলাইয়ে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া আর কোনো কর্মকর্তা এখানে নির্বাচন করা হয়নি। জেলা কমিটির সভাপতি ফেরদৌস জমাদ্দার মারা যাওয়ার পর কাউকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না সহসভাপতি পদে কেউ না থাকায়।

নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুজ্জোহাকে দল থেকে বহিষ্কারের পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মতিয়ার রহমান খান। নয় বছর আগে এ জেলার সম্মেলন হয়েছিল।

সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুইজনই ভারপ্রাপ্ত। ১৯৯৯ সালের সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি আবদুস জহুর মারা যাওয়ার পর ছয় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মতিউর রহমান। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হুদা মুকুট। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনও কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের ব্যাপারে কোনো চিঠি পাইনি বা মৌখিকও কিছু জানানো হয়নি। তবে আমরা সাংগঠনিকভাবে সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত আছি। তারিখ ঠিক করে দিলে সম্মেলন হবে।’

মহানগর আ’লীগের কমিটিও যাচ্ছেতাই

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০০৩ সালের ৪ জুন। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মারা যাওয়ার পর থেকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতির পদটি চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এ পদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম এ আজিজ। কিন্তু এম এ আজিজের সঙ্গে অন্য নেতাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে নানা কারণে।

রাজশাহী ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির বয়স দশ থেকে এক যুগ হতে চলল। রাজশাহী মহানগরের সম্মেলন হয়েছিল ২০০৪ সালে। সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি মাসুদুল হক ডুলু মারা গেছেন ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তখন থেকে প্রায় আড়াই বছর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বজলুর রহমানকে। পরবর্তী সময়ে তাকে ‘ভারমুক্ত’ করে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম একাই সব। মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে বর্তমানে আর কোনো নেতা নেই। এ কমিটির সভাপতি শওকত হোসেন হিরন মারা যাওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০১২ সালে মহানগর কমিটির সম্মেলন হলে শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি দেড় বছরেও। এর আগেই গত ৯ এপ্রিল মারা যান সভাপতি শওকত হোসেন হিরন। এর পর কাউকে যে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হবেÑ সেই উপায় নেই।

চট্টগ্রাম ও সিলেটের কমিটি এক যুগ পার করার পর গত বছর সম্মেলন ছাড়াই নতুন কমিটি করা হয়েছে। একই অবস্থা রংপুরেও। সেখানে সম্মেলন ছাড়া ঘোষণা করা হয়েছে নতুন মহানগর কমিটি।

আ’লীগের সম্মেলন করতে কেন্দ্রের চিঠি, বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেই

দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় পুরো সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক ধরনের ধীর গতি চলে এসেছে। কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ কমে গেছে জেলা নেতাদের। তৃণমূলের সঙ্গেও সম্পর্কে চরম অবনতি হয়েছে। যে কারণে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। সম্প্রতি ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নারায়ণগঞ্জের ঘটনা এসবের উদাহরণ বহন করে। এই অবস্থায় ঘর গোছাতে তৎপর হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক জেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ। প্রাথমিকভাবে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাতটি জেলায় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষে মেয়াদ শেষ হওয়া জেলায় চিঠি পাঠিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এতে সম্মেলনের ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে সম্মেলন আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছে বেশ কটি জেলা।

কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জে ২১ জুন, বরগুনায় ২৬ জুন, পটুয়াখালীতে ২৭ জুন, কিশোরগঞ্জে ২৮ জুন সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু সব এলাকায় সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল বলেন, ‘রোজার মাস, আগস্ট মাসে সম্মেলন করা সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বরের দিকে সম্মেলন হতে পারে।’

তবে কেন্দ্র থেকে ‘অপারগতা’ প্রকাশ না করলে আগামী ১৪ জুলাই সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলার সাধারণ সম্পাদক খান মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সম্মেলনের প্রস্তুতি আছে। কেন্দ্র চাইলে নির্ধারিত সময়েই সম্মেলন হবে।’

এছাড়া পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও ১২ জুলাই, খুলনা মহানগর ১৫ জুলাই ও রাজশাহী মহানগরের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৯ জুলাই।

বিপর্যয়ের মুখে বিএনপি

সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। গত প্রায় তিন বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়েই চলছে সংগঠনটি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর কাউন্সিল করার কথা থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে বিএনপির নির্বাহী কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি আড়াই বছরেও। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, কৃষকদলসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনও মেয়াদোত্তীর্ণ। তাছাড়া ঢাকার বাইরে বেশিরভাগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি। নিষ্ক্রিয় ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠন করার কথা থাকলেও কবে নাগাদ হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আন্দোলনে সক্রিয় থাকলেও হামলা-মামলাসহ সাংগঠনিক দুর্বলতায় তারা এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। এ অবস্থায় দলকে সম্পূর্ণ গতিশীল না করে আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ঈদের পর সরকার পতন আন্দোলনে যাবেন তিনি।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয় ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল আরেকটি সম্মেলন। কিন্তু এই সম্মেলন কবে হবে সেটা জানা নেই বিএনপি নেতাদেরও।

সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক জেলা ৭৫টি। তৃণমূল সংগঠনের চালচিত্র দেখভালের ঘোষণা দিয়েও উপজেলা নির্বাচনের অজুহাত দেখিয়ে সাংগঠনিক সফর স্থগিত করে বিএনপি। কবে নাগাদ সেই সাংগঠনিক সফর হবে তাও অনিশ্চিত।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই তৃণমূলে গেলে নানাভাবে নাজেহাল হতে পারেন। কারণ, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকলেও অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই ছিলেন আত্মগোপনে। এই আশঙ্কা থেকেই নেতারা ঘোষণা দিয়েও সফর থেকে বিরত থেকেছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। কমিটি গঠনের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কমিটি গঠন নিয়ে মাতামাতির কিছু নেই।’

মির্জা ফখরুল ভারমুক্ত হবেন কবে?

মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালের ২০ মার্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়নি তিন বছরেও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসচিব পদের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী বিএনপির বেশ কজন জ্যেষ্ঠ নেতা। এই অবস্থায় কাউকে দায়িত্ব দিলে কোন্দল নতুন করে বাড়তে পারে এই আশঙ্কা আছে দলের নীতি নির্ধারণী মহলে। তবে ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে কেউ একজন পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পাবেন সেটা নিশ্চিত করেই বলছেন শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।

কবে হবে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি?

পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে মহানগর বিএনপি অচল। বিশেষ করে ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে ঢাকার নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। নেতাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, থানা ও ওয়ার্ডে কমিটি না থাকায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয় ঢাকা মহানগর বিএনপি।

২০১১ সালের ১৪ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরে ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন। সে সময় ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ছয় মাস শেষ হয়নি এখনো।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সাদেক হোসেন খোকা সরে গেলে নতুন আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেওয়া হলেও সে কমিটি করা হয়নি। বিষয়টি কোন পর্যায়ে আছে তা জানাতে পারেননি বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাই।

মেয়াদ নেই বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোরও

ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয় ২০১১ সালে। নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও এই সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। বিএনপির আরেক সহযোগী সংগঠন যুবদলের সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল ২০১০ সালের ১ মার্চ। এই কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব। এটির মেয়াদও  শেষ হয়ে গেছে বেশ আগে।

বিএনপির সহযোগী সংগঠনের মধ্যে অন্যতম স্বেচ্ছাসেবকদল। এই কমিটির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু সাড়ে তিন বছর ধরে আছেন নেতৃত্বে। এই সংগঠনের সর্বশেষ কমিটি করা হয় ২০১০ সালের অক্টোবরে। ২০১৩ সালে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।

বিএনপির আরেক আলোচিত সহযোগী সংগঠন শ্রমিকদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। এই সংগঠনের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় ২০১০ সালের ৬ জুন।

আরেক সহযোগী সংগঠন তাঁতীদলের অবস্থা আরও খারাপ। এই সংগঠনের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সাড়ে তিন বছর আগে। ২০০৮ সালের ২৩ মে গঠিত কমিটি কাজ করছে এখনো।

কৃষকদলের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয় ২০০৭ সালে। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও এই সময়ের মধ্যে কমিটিই গঠন হয়নি। বরং ২০০৭ সালে কৃষকদলের সভাপতি মুজিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

মৎস্যজীবী দলের সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো সভাপতি হিসেবে রফিকুল ইসলাম মাহতাব এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. নুরুল হক মোল্লা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

মহিলাদলের সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল। নূরে আরা সাফা সভাপতি এবং শিরিন সুলতানা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপির পাশাপাশি পুরো নিষ্ক্রিয় ছিল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। বিশেষ করে বিএনপির প্রাণ বলেখ্যাত ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা চরম হতাশ। শ্রমিকদল, মৎস্যজীবীদল, তাঁতীদল, জাসাস-এরও আন্দোলন-সংগ্রামে তেমন কোনো ভূমিকা নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বড় দলে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা হয়। এটাকে কোন্দল বা বড় কোনো সমস্যা বলা ঠিক হবে না। আমরা আন্দোলনের পাশাপাশি দলকে শক্তিশালী করছি। শিগগিরই সংগঠনকে শক্তিশালী করে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মেয়াদ নেই বিএনপির কোনো জেলা কমিটির

খুলনা বিএনপির কমিটি করা হয়েছিল ২০০৪ সালে। এর পর আর কোনো কমিটি দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি।

খুলনা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ থাকে তিন বছর। কিন্তু ১০ বছরেও এই জেলায় সম্মেলন হয়নি। তবে আমরা নতুন কমিটি দেওয়ার পক্ষে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও বিএনপির কমিটি করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। ২০১২ সালে সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা হয়নি আর। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান বলেন, ‘কেন নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি তা কেন্দ্রীয় নেতারা বলতে পারবেন।’

দিনাজপুর জেলা বিএনপির কমিটি করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। এই কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে ২০১২ সালে।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। আমরা নতুন কমিটির জন্য আবেদন করেছি।’

নীলফামারী জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান আহম্মদ হাসান বলেন, ‘আমাদের জেলা কমিটির মেয়াদ গত বছর শেষ হয়েছে। নতুন কমিটির বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

লালমনিরহাটে বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলেও কেন নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি তা আমি বলতে পারব না। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বলতে পারবেন।

কুড়িগ্রাম বিএনপির কমিটি হয়েছিল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১২ সালে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বলেন, ‘আমরা নতুন কমিটি চাই। কিন্তু কেন নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি সেটা কেন্দ্রীয় নেতারা বলতে পারবেন।’

গাইবান্ধা বিএনপির কমিটি করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। এরপর কেন কমিটি করা হয়নি জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবু বলেন, ‘শুধু গাইবান্ধা নয়, দেশের প্রতিটি জেলার বিএনপির কমিটিগুলোর মেয়াদ শেষ। কিন্তু নতুন কমিটি কেন দেওয়া হয় না তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সরকারের বাধার কারণে আমরা বার বার পদক্ষেপ নিয়েও কমিটি গঠন করতে পারিনি। এর দায় দায়িত্ব সরকারের।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সাথে কমিটি গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলন চলবে রাজপথে। বিএনপির সকল নেতাকর্মী রাজপথে ঝাপিয়ে পড়বে। কমিটির মেয়াদ শেষের প্রভাব আন্দোলনের উপর পড়বে না। কমিটি গঠন চলমান প্রক্রিয়া। এটা চলমান রয়েছে।’ হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, মহিউদ্দিন মাহী ও কিরণ সেখ, ঢাকাটাইমস 

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful