Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ :: ৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ১০ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / রংপুর সিটি মেয়র আপনাকে বলছি……

রংপুর সিটি মেয়র আপনাকে বলছি……

মহিউদ্দিন মখদুমী

Jhuntuগত বছর একটি সাক্ষাৎকার নিতে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলায় গিয়েছিলাম । যার সাক্ষাৎকার নেয়া হবে তিনি একটি গ্রুপ অব কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সময়টা ছিল শীতকাল, ছোট দিন। দেখা পেতেই হবে। মোটরসাইকেলে চেপে ভোরের আলো ফোটার একটু পরে নীলফামারী শহরে ঢুকেছি। তখনো তার অফিস খোলা হয়নি। একটি চায়ের দোকানে বসে নাস্তা করছি। কৌতূহলী অনেক চোখ আমার দিকে। একজন প্রশ্ন করলেন কোথা থেকে এসেছেন। রংপুর থেকে। বিশ থেকে একুশ বছর বয়স হবে এক যুবক প্রশ্ন করলো রংপুর সিটির মেয়র ঝন্টু না? যুবকটি এমন ভাবে ঝন্টু নামটা উচ্চারণ করেছে তা শুনলে যে কারো মনে হতো যুবকটি ঝন্টু ভাইয়ের বন্ধু ছিল। হ্যাঁ-বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। বললাম ঝন্টু ভাইকে চেনেন। বলল- না। তবে সু-নাম শুনেছি। আমি অবাক! আমি বিস্মিত! এই ভেবে যে,কি গভীর ভাবে ঝন্টু নামটি পার্শ্ববর্তী একটি জেলার মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। বিশ কিংবা একুশ বছরের একটি যুবকের মুখে ষাটোর্ধ ঝন্টু ভাইয়ের নাম বন্ধুর মতো উচ্চারিত হয়।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় আমি ভোটারদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি, সড়ক, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বিশুদ্ধ পানি, শ্যামা সুন্দরী খাল, মাদক, বেকারত্ব, ময়লা আবর্জনা, মশা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলা-ধুলা ইত্যাদি সমস্যায় নাজেহাল নবগঠিত রংপুর নগরী। এই সব সমস্যা দূর করে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন মডেল রংপুর নগরী গড়ে তুলতে প্রয়োজন একজন যোগ্য, সাহসী নেতা। প্রয়োজন সিংহের মতো দৃঢ়চেতা একজন নগর পিতার। প্রয়োজন উন্নয়ন স্থিতিশীল করার মতো দুরন্ত সাহসী কাণ্ডারি। প্রথম মেয়র হিসেবে এমন ব্যক্তিকে বেছে নিতে হবে যিনি মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করবেন। যিনি ভেঙ্গে ভেঙ্গে গড়তে পারবেন তাকেই ভোট দিতে হবে।

২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর সমস্যার শহরে স্বপ্নের ভোট হয়েছে। সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। শুরুতেই একটি সড়ক দুর্ঘটনা এসেছিল মেয়র ঝন্টুর জীবনে। লাখো মানুষের প্রার্থনায় তিনি ফিরে এসেছেন সুস্থতায়। এরই মধ্যে কেটে গেছে দেড় বছরেরও অধিক সময়। এখন নগরবাসী হিসেব মিলাতে বসেছে। খতিয়ে দেখা শুরু করেছে প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতা। মেয়র ঝন্টু চেষ্টা করছেন নিজস্ব স্টাইলে। দ্রুত সময়ে সফলতাও এসেছে মুঠি-মুঠি।

গত ২৫ জুন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ৫০০কোটি ১৪ লক্ষ ১৬ হাজার ১শত ৩২ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বিশাল বরাদ্দের বাজেট। বাস্তবায়ন সম্ভব কিন্তু কঠিন। এটি একটি চ্যালেঞ্জ। আর মেয়র ঝন্টুকে চ্যালেঞ্জই মানায়। প্রস্তাবিত বাজেটে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ কোন খাতেই কর বাড়ানো হয়নি। দরিদ্রতা দূরী করণ,চিকিৎসা,শিক্ষা, সড়ক নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেবামুলক খাত গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব প্রকল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

একটি বিভাগীয় নগরীতে বিভিন্ন জেলার মানুষ নানান কাজে আসে। তাদের চোখ অন্য কিছু নয় নগরীর সৌন্দর্য খোঁজে। রিক্সায় বা অটোতে করে যেতে যেতে যতদূর দেখা যায় ততটুকুর মধ্যে সৌন্দর্য দেখতে চায়। অপ্রকৃতিক সৌন্দর্য বহন করে বৃক্ষ,ফুলগাছ। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের রোড ডিভাইডার গুলো ফাঁকা খাঁ-খাঁ করছে। কিছুদিন আগে সেগুলোতে লালশাক,গাজর,পাট গাছ দেখেছি। এখন তাও নেই। এর সাথে আছে জমানো ময়লার দুর্গন্ধ,ফুটপাত দখল। উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণার দিন মেয়রকে প্রশ্ন করেছিলাম,মাননীয় মেয়র সিটি কর্পোরেশনের সৌন্দর্য বর্ধনে কোন বরাদ্দ আছে কি না?

জবাবে মেয়র বলেছিলেন,আমার গোটা শরীরে ঘা। আমি কেমন করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করি। আগে শরীর ভালো হোক তারপর সৌন্দর্য। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ২০৩ কিলোমিটারের বিশাল সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন চাহিদা অনেক। চাহিদা পূরণ না করে কি ভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধির বরাদ্দ দেই।

মাননীয় মেয়র আপনাকে বলছি। আমার শরীরের ঘা একান্ত আমার। আমার দরিদ্রতা একান্ত আমার। আমার কষ্ট একান্ত আমার। আমার সবকিছুই অভ্যন্তরীণ,অন্যের চোখে অদৃশ্যমান। যা বাইরে থেকে কেউ দেখে না। দেখতে পায় না। দেখানো হয় না। শরীরের ঘা, দরিদ্রতা এবং কষ্টকে লুকিয়ে বাইরের দৃশ্যপটে স্বাভাবিক ভাবে পরিপাটি সুন্দর, সুস্থ থাকার নামই হচ্ছে সুন্দর বেচে থাকার কৌশল। এও তো জানি, একজন ক্ষুধার্ত মানুষ সারাদিন উপোষ থেকে ও বন্ধুদের বলে তার ক্ষুধা নেই। কারণ একটাই নিজেকে আড়াল করা। লজ্জার ও তো রকম আছে।

সে রকমই আপনার সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন চাহিদা, সড়ক, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য বিষয়সহ পরিকল্পিত মডেল নগরী তৈরির বাসনা ও বাস্তবায়ন প্রচেষ্টা সিটি অধিবাসীদের অভিভাবক হিসেবে একান্ত আপনার। কি হচ্ছে, কি হচ্ছে না, কি করা দরকার তাও আপনার একান্ত চিন্তার ব্যাপার। তা অনেকের কাছে কখনই দৃশ্যমান হবে না। কেউ দেখবে না। দেখতেও চাইবে না। সব সমস্যার সমাধান আপনাকেই করতে হবে যোগ্যতার ভূমিকায় থেকে।

সুতরাং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ভিতরের পাশাপাশি বাহিরের সৌন্দর্য বর্ধন জরুরী। অন্য জেলা থেকে আসা মানুষেরা যেন নগরীর সৌন্দর্যের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে স্বপ্ন দেখতে পারেন। বলতে পারেন রংপুর সিটি শান্তির পাশাপাশি সৌন্দর্যের নগর। অনেক ক্ষেত্রে বাহিরের দৃশ্যপটই বলে দেয় ভিতরে কি আছে।

নীলফামারী জেলার সেই যুবকের মতো আপনার অনেক ভক্ত যখন আপনার সিটিতে প্রবেশ করবে। তখন সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান বাহিরের বিরস সৌন্দর্যহীনতা দেখে কি বলবে? উত্তরটাও তো জানা। মনক্ষুন্ন করার মতো সেই উত্তর কানে না আসাই ভালো। সব চেয়ে এই ভালো হয় একটি সিদ্ধান্ত নেয়া। বাজেটে অনেক খাত Mohiuddin Mokhdumeরেখেছেন।সৌন্দর্য বর্ধনের একটি খাত সৃষ্টি করা যায় না? যারা সবকিছু পার আপনি তো তাদের দলের স্ব-শিক্ষিত সেনাপতি। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে একটি সিদ্ধান্ত নিন। প্লিজ…….

সাংবাদিক,কবি ও কলাম লেখক।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful