Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ :: ৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ৪০ পুর্বাহ্ন
Home / নীলফামারী / চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ॥ ৪২বস্তা চাল উদ্ধার

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ॥ ৪২বস্তা চাল উদ্ধার

unnamedইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী ৯ জুলাই॥ নীলফামারীর ডিমলায় বিএনপি নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডিমলা উপজেলার খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকা থেকে অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারের দেয়া বিনা মূল্যে বিতরনের জন্য ভিজিএফ’র ৫০ কেজি করে ওজনের ৪২বস্তা চাল ও সরকারী সিল মারা ভিজিএফের খালী আরো ১০৭টি বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন গোডাউনের হাটের পরেশ চন্দ্র রায়ের মালিকাধীন ওই গুদামটি সিল গালা করে দেন ডিমলা উপজেলা ইউএনও শফিউর রহমান।

অপর দিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায় একই স্থানে মজিবর রহমান ও নুর ইসলামের দুটি গোডাউনে অভিযান না করে ইউএনও ও পুলিশ ফিরে যায়। তারা ফিরে চলে যাওয়ার পর ওই দুটি গোডাউন থেকে রাত দুইটায় দুইশত বস্তা ভিজিএফের চাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন। এদিকে এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কে গ্রেফতার না করায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও)অফিস সুত্র মতে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দরিদ্রদের মাঝে বিনামুল্যে চাল বিতরনের জন্য উপজেলার ১০ ইউনিয়নের জন্য ৬৪ হাজার ৬২৪টি ভিজিএফ কাডের বিপরিতে ৬৪৬ দশমিক ২৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৭ হাজার ৬৮৫ টি ভিজিএফের কাডের বিপরিতে ৫০ কেজি ওজনে ৭৬ দশমিক ৮৫০ মেট্রিক টন চাল। যা প্রতি কাডধারী ১০ কেজি করে চাল পাবেন। চাল বিতরনে কাডধারী ৫ জন করে সরকারি ভিজিএফের চালের ৫০ কেজির বস্তা কেটে কাডধারীর বস্তায় চাল ঢেলে দিয়ে সরকারি বস্তা গুলো ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে রাখতে হবে।

অভিযোগে জানা যায় ওই ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত ৭ হাজার ৬৮৫টি ভিজিএফের কাডের মধ্যে ডিমলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক খালিশা চাঁপানীর ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক হুদা ৯টি ওয়াডের ৯ জন ইউপি সদস্যকে ৪১০টি করে ৩ হাজার ৬৯০টি, তিনজন সংরক্ষতি মহিলা ইউপি সদস্যাকে ৫০০ করে দেড় হাজার, ইউনিয়নের বিএনপি অফিসে ৫০০ টি, ইউনিয়ন জামায়াত শিবিরকে ১০০ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কে ৩০০ টি এবং চেয়ারম্যান নিজে কাড নেয় ১ হাজার ৫৮৫টি। এই কাডের মাধ্যমে গত ৬ জুলাই শনিবার থেকে ৮ জুলাই সোমবার চাল বিতরন করার তারিখ নির্ধারন করা হলেও মঙ্গলবার ৮ জুলাই বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ভিজিএফের এই চাল বিতরন দেখানো হয়। সুত্র মতে তিস্তা নদীর সম্প্রতি বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ ওই ইউনিয়নের অসহায় ৫শত পরিবারকে এই ভিজিএফের কাডের আওয়াত এনে চাল দেয়ার নির্দেশ থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান তা করেননি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিএনপি,আওয়ামী লীগ ও জামায়াত শিবিরের কাডের চালগুলো ঠিকমত বিতরন করা হওে বাকী কাডের চাল বিতরনে ব্যাপক অনিয়ম করে তা কালোবাজারে বিক্রি করে দেন ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সামছুল হক হুদা। যা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন গোডাউনের হাটে পরেশ চন্দ্র রায়ের গুদামে ৪২ বস্তা,মজিবর রহমান ও নুরুল ইসলামের গোডাউনে ১শত করে ২শত বস্তা মজুদ রাখা হয় কালোবাজারে বিক্রির জন্য।

এলাকাবাসীর অভিযোগ মতে পরেশের গুদামের চাল সিলগালা করা হলেও বাকী দুটি গুদামের চাল সিলগালা করা হয়নি। ফলে ইউএনও ও পুলিশ চলে যাওয়ার পর ওই দুটি গুদামে থাকা ১শত করে ২শত বস্তা চাল রাতের মধ্যে প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগীতায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। পাশাপাশি চাল বিতরন করা হয়েছে এমন শত শত খালিবস্তা ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে নিয়ে রাখা হয়।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ডিমলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল হক হুদার সাথে বুধবার দুপুরে কথা বলা হয়। তিনি দাবি করে বলেন আমি কোন ভিজিএফের চাল কালোবাজারে বিক্রি করিনি। চাল বিতরনের পর খালি বস্তা গুলো আমার ইউনিয়নের পরিষদের গুদাম ঘরে রক্ষিত রয়েছে। তদন্ত হলে আমি নির্দোষ প্রমানিত হবো। আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসাতে চক্রান্ত করছে।

ডিমলা উপজেলা পিআইও নায়মা তাবাচ্ছুম শাহ সাংবাদিকদের বলেন ইউএনও শফিউর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিজিএফ’র চাল রাখা পরেশ চন্দ্র রায়ের গুদামটির তালা ভেঙ্গে ভিজিএফের ৫০ কেজী ওজনের ৪২ বস্তা সরকারি চাল ও খালি ১০৭টি বস্তা পেয়েছেন। পরে গুদামটি সিলগালা করে চৌকিদার পাহাড়া বসানো হয়। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত টিম তদন্ত করে প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি জানান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহিদুর রহমান কে আহবায়ক এবং আমাকে (পিআইও) ও ডিমলা উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবেদ কুমার দাস কে সদস্য করে তদন্ত টিম গঠন করে দেন ইউএনও স্যার। দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলার ইউএনও এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডিমলা উপজেলার ইউএনও শফিউর রহমানের সাথে সেলফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful