Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৯ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ৪৫ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / মন্তব্য প্রতিবেদন: জাবি, বুয়েটের আগুনে পুড়ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য প্রতিবেদন: জাবি, বুয়েটের আগুনে পুড়ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

মুরাদ মাহমুদ, সিইও, উত্তরবাংলা ডটকম

গত কয়েক দিনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা দেশ জুরে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশের সব গুলো সংবাদ পত্র ফলাও করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিরোধী আন্দোলনের খবর প্রচার করেছে।

বর্তমান সরকারের তিন বছরে বাংলাদেশের প্রায় সবগুলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কত কিছুই না হলো। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বুয়েট আর এখন পুড়ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০৮ সালে ১২ অক্টোবর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এ সময় ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের নেতৃতে ভালোই চলছিল ক্যাম্পাসটি। উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থী, শিক ও অভিভাবকরা নতুন-রূপে পেয়েছিল শিক্ষার পরিবেশ। তারপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই হোক আর ব্যক্তির যোগ্যতায় হোক ভিসি পদে নিয়োগ পান বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল মিয়া।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই ভিসির বিরুদ্ধে এক ধরণের চাপা আন্দোলন চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজন প্রীতি, শিক্ষা বাণিজ্য-করণ সহ বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। এ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল মিছিল-মিটিং, মানব-বন্ধন, সমাবেশ করেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। অন্যান্য ভার্সিটির মত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে গাড়ী ভাংচুর করে নাই, সড়ক অবরোধ করে নাই, পুলিশের সাথে কোন হাতাহাতির ঘটনা ঘটে নাই। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছিল। ভিসি মহোদয়ের উচিত ছিল আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করে তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবী মেনে নেওয়া। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো আন্দোলন ঠেকানোর পথ হিসেবে পেশী শক্তির ব্যবহার করেছে বলে শোনা গেছে। যার ফলশ্রুতিতে এসিডে ঝলসে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের শরীর। আগুনে ঘি ঢালার মতই ফুঁসে উঠে আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা আমরণ অনশন কর্মসূচী ঘোষণা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে ভিসি মহোদয় তার সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
একই পথ বেছে নিয়েছিল বুয়েট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি বুয়েট খুলে দেওয়ার ১৯ দিন পর আন্দোলনের ফলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুয়েটের মত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও সেই একই পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হয়। কারণ আন্দোলনকারীরা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে সেদিন আবার তারা তাদের স্থগিতকৃত আন্দোলন শুরু করবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংগঠিত বেশ কিছু ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা যে ভাবে অস্ত্রবাজি করে আন্দোলনকারীদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল তার পিছনে কার ইন্ধন ছিল? বৃহস্পতিবার পুলিশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাঁধা দিলেও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কার অনুমতিতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের মঞ্চ, মাইক ভাংচুর করলো? একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ হলেও পুলিশ কেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল? ব্যাটারির এসিড ছিটকেই যদি লাগবে তাহলে কেন তা অন্য কারও শরীরে না লেগে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দুই শিক্ষকের শরীরে লাগলো?
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আব্দুল জলিল কে আরও বেশী দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে উপরোন্ত শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অ-নিয়মতান্ত্রিক উল্লেখ করে আ’লীগের আদর্শ শিশ্যের মত তিনি এ আন্দোলনের পিছনে ’স্বাধীনতা বিরোধীদের ইন্ধন’ খুঁজেছেন।
কিন্তু আসলে কি তাই? বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষকের মধ্য মাত্র ৮-১২ জন শিক্ষকের নেতৃত্বে যে ভাবে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাতে এর পিছনে অন্য কোন ইন্ধন খোঁজা মোটেও সমীচীন হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণ ছাড়া এতটা ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া রংপুরের অধিকাংশ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনকারীদের সাথে একত্বতা প্রকাশ করার ফলে ভিসি বিরোধী আন্দোলন আরও বেশী জোরদার হয়ে উঠেছে।
তারপরও অতীতের ভিন্ন অভিজ্ঞতাও কম নয়। রাবির নাট্যকলা বিভাগে শিকদের নিজেদের দ্বন্দ্ব ও স্বার্থ নিয়ে সভাপতির সঙ্গে বিরোধ। শিকরা শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিলেন সভাপতির বিরুদ্ধে, কি বীভৎস সেই অপমান, সভাপতি বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করলেন। অন্য সভাপতি এলেন। কিন্তু এতে করে শিক্ষার্থীদের কোন লাভ হয়নি, মাঝখান থেকে ছাত্রদের সময়-মেধা নষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা তাদের নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করলেও ছাত্রদের স্বার্থে কোনদিন শিক দের আন্দোলন করতে দেখি না। ডাক্তাররা ধর্মঘট করলে রোগীর দূর্ভোগ পোহাতে হয়- তাই সেটা অনৈতিক। শিক ধর্মঘট করলে ছাত্রদের দূর্ভোগ হচ্ছে- তাই এটাকে অযৌক্তিক বললে ভুল হবে না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হয়তো নতুন ভিসি আসবে আর না হয় আলোচনার মাধ্যমে কোন সমাধানে পৌঁছাবে। কোন একটা সমাধান হবেই। কিন্তু এই আন্দোলনের ফলে শিক্ষার্থীরা যে সময় হারাচ্ছে তার কি কোন সমাধান দেওয়া সম্ভব হবে?
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আব্দুল জলিলের বাড়ী রংপুরের পীরগঞ্জে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পীরগঞ্জের পুত্রবধূ হওয়ায় আব্দুল জলিল প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ পুষ্ট এটাই স্বাভাবিক। প্রসঙ্গত একটা কথা না বললেই নয়, সম্প্রতি বুয়েটে যে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত হলো তার বাড়ি গোপালঞ্জ। বুয়েট উপাচার্যকে রক্ষা করতে সরকার যে চেষ্টা করেছে পীরগঞ্জের আব্দুল জলিলকে রক্ষা করতেও সরকার যে সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

নানা ভাবে নোংরা, ধ্বংসাত্মক, আত্মঘাতী রাজনীতির কারণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। নীতি-নৈতিকতা শুধু মাত্র বইপত্রে, গলাবাজিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাস্তবতা অন্যরকম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ পাহারায় শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে। যা আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম লজ্জাজনক।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful