Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ :: ৯ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ৩২ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Argetina-o1_1আগের রাতে চোখের জল ফেলেছিল ব্রাজিলিয়ানরা। পরের রাতে কেঁদেছে আর্জেন্টিনাও। তবে ব্রাজিলের মতো কষ্টে নয়, আনন্দে। দুই যুগের তৃষ্ণা মিটিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে পৌঁছে গেছে লিওনেল মেসির দেশ। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। বুধবার রাতে ডাচদের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ম্যাচ জিতে নিয়েছে মেসি ও তার সতীর্থরা। আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে ০(৪)-০(২) ব্যবধানে। জয়ের নায়ক দলের গোলরক্ষক সার্জিও রমেরো। পেনাল্টিশুট আউটে ডাচদের প্রথম দুটি শটই ঠেকিয়ে দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক। আর্জেন্টিনাকে সুযোগ করে দিয়েছেন ফাইনালের টিকিট কাটার। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রথম ৪ শটেই গোল করেছে মেসির দল। দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাই জায়গা করে নিয়েছে আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে। যে ফাইনালের জন্য এক কিংবা দুই নয়, গুণে গুণে ২৪ বছর তৃষ্ণার্ত বুকে অপেক্ষার প্রহর কাটাতে হয়েছে আর্জেন্টাইনদের। সুদীর্ঘ দুই যুগের তৃষ্ণা মিটে যাবার অতি আনন্দে তাই কেঁদেছে আর্জেন্টাইনরা, পৌঁছে গেছে ২৮ বছর পর বিশ্ব সেরা হওয়ার শেষ ধাপে। আর মাত্র ১টি ম্যাচ। ১৩ জুলাইয়ের ওই ‘ফাইনাল’ নামক ম্যাচে জার্মানিকে হারাতে পারলেই ১৮ ক্যারেটের বিশ্বকাপ ট্রফির মালিক হবে আর্জেন্টিনা। তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ওঠবে মাথায়। আনন্দের সাগরে সাঁতার কাটছে আর্জেন্টিনা।

সাবধানী হয়েই সাও পাওলোর অ্যারিনা করিন্থিয়াস স্টেডিয়ামের মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার রাতে প্রথম সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে স্বাগতিক ব্রাজিলের ‘ম্যাসাকার’ হওয়ার কথা অজানা ছিল না আলেসান্দ্রো সাবেলা ও তার শিষ্যদের। ব্রাজিলিয়ানদের মতো আর্জেন্টিনাকেও যেন আর্তনাদের অশ্রুতে সিক্ত হতে না হয়, শুরু থেকেই সাবধানী ফুটবল খেলেছেন মেসিরা। তবে সতর্ক ফুটবল খেললেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছিল আর্জেন্টিনা। সব দিক থেকেই রবনদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন মেসিরা। আর্জেন্টিনার সেন্টার দিয়ে শুরু হয়েছিল ম্যাচ।। প্রথমদিকে ডাচদের গতির তুলনায় কিছুটা স্লো মনে হলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের কন্ট্রোল নিয়েছে আর্জেন্টাইনরা। দ্বিতীয় মিনিটে ডাচ শিবিরে প্রথম হানা দেয় তারা। কাউন্টার এ্যাটাকে পর মিনিটেই আর্জেন্টাইন শিবিরে হাজির হয় নেদারল্যান্ডস। যদিও ভয় জাগানোর মতো কোন আক্রমণ শানাতে পারেনি কোন দলই। তবে বেশিরভাগ সময় বল থেকেছে আর্জেন্টিনার পায়্। ম্যাচের ৫১ শতাংশ সময় বল মেসিদের পায়েই থেকেছে। প্রথমার্ধে মোট ৩টি কর্নার পেয়েছে আর্জেন্টিনা। নেদারল্যান্ডস পেয়েছে ১টি। আর্জেন্টিনা শট নিয়েছে ৩টি, ডাচরা নিয়েছে ১টি। ম্যাচে দুই দলই একাধিকবার হালকা পাতলা ফাউল করেছে। তবে ৪৫ মিনিটে মেসিকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড পান ডাচ ফুটবলার ব্রুনো মার্টিন। দুই দলের লড়াইয়ের প্রধমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্যতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ধরণ পাল্টে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে অ্যারিয়েন রবেন অ্রান্ড কোং। আর্জেন্টিনার সবচেয়ে ভয়ের জায়গা ছিল তাদের রক্ষণভাগে। আসরের শুরু থেকেই এ নিয়ে আতঙ্কিত থাকতে হয়েছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। তবে কোরিন্থিয়াসের মাঠে সব ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলেছে নীল-সাদার নিরাপত্তা দুর্গ। ম্যাচে দারুণ খেলেছে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ফুটবলাররা। নেদারল্যান্ডসের প্রতিটি আক্রমণই দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করেছে তারা। এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে রবেনের নিশ্চিত গোল করার একটি সুযোগও ব্যর্থ করেছে তারা। আর্জেন্টিনাও বেশ কিছু আক্রমণ শানিয়েছে। তবে একজন ভালো ফিনিশারের অভাবে হতাশ হয়েছে মেসিদের।

নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ অবধি গোলশূন্যই থেকেছে। ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু বাড়তি ৩০ মিনিটেও গোল করতে পারেনি দুই দেশ। ১২০ মিনিটেরে ব্যর্থ লড়াই শেষে তাই দুই দলকে অংশ নিতে হয়েছে টাইব্রেকারে।

পেনাল্টিশুট আউটে প্রথম শট নিয়েছিল নেদারল্যান্ডসের রন ভ্লার। তার শট আটকে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রমেরো। প্রথম শট নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে নিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ডাচদের দ্বিতীয় শট নিয়েছিলেন রবেন। গোল করেছেন (১-১) সহজাত দক্ষতা দেখিয়েই। আর্জেন্টিনাকে আবার লিড এনে দিতে সফল শট নিয়েছেন অ্যাজেকুইয়েল গ্যারে (২-১)। এরপর নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলি স্নেইডারে শটও ঠেকিয়ে দিয়েছেন রোমেরো। পরের শটে সার্জিও অ্যাগুয়েরো গোল করলে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা (৩-১)। চতুর্থ শটে গোল করেছেন ডাচ তারকা ডার্ক কুইট (৩-২)। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে চতুর্থ শটে ম্যাক্সি রদ্রিগুয়েজ গোল করলে বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠেছে বিশ্বকাপে তিন বারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসের। ডাচদের বিপক্ষে ০(৪)-০(২) গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে বহু প্রতীক্ষিত ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে আর্জেন্টিনা।

রদ্রিগুয়েজের শট জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেছে আর্জেন্টিনা শিবির। আনন্দের আতিশায্যে স্টেডিয়াম ভর্তি আর্জেন্টাইন সমর্থক আর মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়রা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কেঁদেছেন একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে। এই কান্নায় সামিল হয়েছেন লিওনেল মেসি নামক ‘ভিন্ন গ্রহের ফুটবলার’টিও-যেই ফুটবলারের জাদুকরী ফুটবলের ঝলক আর নেতৃত্বে ২৪ বছর পর ফাইনালে খেলার পাশাপাশি ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন পূরণের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। দিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে ১৯৮৬ সালে শেষবোরে মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল লাতিন আমেরিকান দেশটি। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সংগে আঁড়ি হয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টাইনদের!

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful