Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ :: ৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৫৯ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ‘বাবা, জীবনের চেয়ে ট্যাকা বড় না’

‘বাবা, জীবনের চেয়ে ট্যাকা বড় না’

Middle-East-Inner probashi‘আমাকে দেশে ফেরত নেও। বিদেশিরা অনেক খারাপ। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। বাবা, জীবনের চেয়ে ট্যাকা বড় না।’ লেবানন প্রবাসী সালেহা খাতুন (ছদ্মনাম) এভাবেই তার বাবার কাছে নিজের দুঃখ-দুর্দশার কথা টেলিফোনে জানিয়েছেন।

বাবা সাদেক আলী কাছে তার মেয়ের কথা উদ্ধৃত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, গত দেড় মাস হলো সালেহার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগই হচ্ছে না।

নরসিংদীর কাওড়াপাড়া গ্রামের সাদেক আলীর (ছদ্মনাম) মেয়ে সালেহা খাতুন। জীবনের চাকা সচল রাখতে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন। দামি গাড়ি কিংবা আলিশান বাড়িতে বসবাস করা তার স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন ছিল বাবা-মাসহ সংসারের সবাইকে নিয়ে একটু সচ্ছল থাকা। কিন্তু তা পারেননি সালেহা।

জানা গেছে, গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশের মাটিতে তাকে পাঠানো হলেও সালেহাকে এখন ভিন্ন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। তাও নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে। নারী লোভী বিদেশিদের কাছে সালেহার ইজ্জত বিলীন করে লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশেরই কিছু অসাধু মানুষ। তাদের একজন সালেহার পাশের গ্রামের মুজিবুর মেম্বার।

সালেহা খাতুনের বাবা সাদেক আলী বলেন, ‘৬ ছেলেমেয়ের সংসারে সালেহা বড় মেয়ে। একটু ভালো থাকার আশায় মেয়েকে বিদেশ পাঠাই। দেড় লাখ টাকা নিয়ে ঢাকার নেমিরা ওভারসিজের (আরএল নং-১০১০৩) মাধ্যমে সালেহাকে গৃহকর্মী হিসেবে লেবাননে পাঠানো হয়। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পরেই সালেহা জানায়, চুক্তি অনুযায়ী তাকে গৃহকর্মীর কাজ না দিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করাচ্ছে। সর্বশেষ সালেহার সঙ্গে দেড় মাস আগে কথা হয়েছে। এখন সে কোথায় আছে কেমন আছে জানি না। সে ফোনে আমাকে বলেছিল ‘বাবা জীবনের চেয়ে ট্যাকা বড় না। তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।’ আমি আমার মেয়েকে দেশে আনতে নরসিংদী কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের মাধ্যমে আবেদন করেছিলাম (গত ৬ মে)। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই।’

শুধু সালেহা নয় এমন ঘটনা ঘটেছে আরও অনেকের সঙ্গে। তাদের মধ্যে ঢাকার পল্লবীর শামসুন্নাহার (ছদ্মনাম) নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দেশে ফেরত এসেছেন। তিনি গত বছরের ১৭ জুলাই জর্ডানে যান। সেখানে গিয়ে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন। এমন কী বেতন ভাতাও দেওয়া হয়নি তাকে।

লেবাননে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার মো. আলীর (ছদ্মনাম) স্ত্রী সায়মা খাতুন (ছদ্মনাম)। স্ত্রীকে ফেরত পেতে স্থানীয় জনশক্তি কর্মসংস্থান অফিসের মাধ্যমে আবেদন করেছেন তিনি।
আবেদনে তিনি বলেন, গত বছরের ৩ মার্চ আমার স্ত্রীকে বাসার কাজের কথা বলে লেবাননে নেওয়া হয়। কিন্তু ১০-১৫ দিন পরে সায়মা আমাকে জানায়, একটি হোটেলে নিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খেতেও দিচ্ছে না। এখন তার খোঁজ-খবর পাচ্ছি না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে গৃহকর্মী হিসেবে যারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী। অনেকটা পেটের দায়ে জন্মভূমি ছেড়ে তারা পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশের মাটিতে। যে সব নারী ভাগ্য বদলের জন্য বিদেশে গেছেন তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। যৌন হয়রানিসহ শারীরিক নির্যাতন, হুমকি- হয়রানি ও বেতন বৈষম্যের মতো নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। অনেককে আবার দেহ ব্যবসায়ও বাধ্য করা হচ্ছে। লেবানন, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত উল্লেখযোগ্য হলেও নতুন করে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের নাম।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য হচ্ছেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এ সব নারীর অনেকেই দেশে ফিরে আসছেন। আবার অনেক নারীর স্বজনরা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে আবেদন করছেন ওই কর্মীদের দেশে ফেরত আনার জন্য। কিন্তু দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও তাদের ফেরত আনতে পারছেন না স্বজনরা।

জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন ও জর্ডান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে (২০০৮ সাল পরবর্তী) এ সব দেশে জনশক্তি রফতানি বন্ধ রয়েছে। ব্যক্তিগত ভিসায় স্বল্প সংখ্যক কর্মী এ সব দেশে গেলেও সামগ্রিকভাবে বাজার উন্মুক্ত হয়নি এখনও। তবে সামগ্রিকভাবে এ সব দেশে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকলেও আগের চেয়ে নারী কর্মী পাঠানোর হার বেড়েছে কয়েক গুণ।

জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, বর্তমানে (জুন ২০১৪ পর্যন্ত) মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে ৩ লাখ ১২ হাজর ৩৩৭ জন নারী কর্মী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবে ৩২ হাজার ১২৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮১ হাজার ২৭১ জন, কুয়েতে ৭ হাজার ৬৫৮ জন, ওমানে ১৯ হাজার ১০৮ জন, কাতারে ৫ হাজার ১৭৫ জন, বাহরাইনে ৩ হাজার ৬৮৯ জন, লেবাননে ৮৪ হাজার ৫০৫ জন এবং জর্ডানে ৫৫ হাজার ৮৩১ জন কর্মরত আছেন।

বিএমইটির তথ্য মতে, ২০১৩ সালে বিদেশে নারী কর্মী পাঠানো হয় ৫৬ হাজার ৪শ’ জন। আর চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) নারী কর্মী পাঠানো হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৫ জন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে মোট কর্মী পাঠানো হয়েছে ১১ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যাই ১১ হাজার ২১৪ জন। লেবাননে মোট ৭ হাজার ২১০ জন কর্মীর মধ্যে ৫ হাজার ১৬২ জনই নারী। আর জর্ডানে ১০ হাজার ৫৬৬ জন কর্মীর মধ্যে নারীর সংখ্যা ১০ হাজার ৪৮২ জন।

বিএমইটি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ জন কর্মী বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে নারী কর্মী ছিল মাত্র ২০ হাজার ৮৪২ জন। জনশক্তি রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা বিদেশে নারী কর্মী পাঠানোর হার বেশি হওয়াকে সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন কুষ্টিয়ার ‘এস’ ও ‘এ’ আদ্যক্ষরের দুই নারী। তারা দুবাই গিয়ে বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য হয়েছেন বলে বলেছেন। তাদের মধ্যে ‘এস’ আদ্যক্ষরের ওই নারী বাংলাদেশ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেলস এজেন্সির মালিকের লালসার শিকার হয়ে বিদেশে যান।

সূত্র জানায়, নারী শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হওয়ায় ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ শ্রমিক রফতানিকারক অনেক দেশই নারী কর্মী বিদেশে পাঠাতে অনীহা দেখায়। অনেক দেশই নারী শ্রমিক পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু নারী শ্রমিক রফতানি বেড়েছে বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশগুলো থেকে।

বাংলাদেশি অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতকরা ৮০ ভাগ নারী শ্রমিক শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু শ্রম আইনের নানা দুর্বলতার কারণে নির্যাতিত, প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত নারী শ্রমিকরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) তথ্য মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৩৫ ভাগ নারীই সহিংসতা, নির্যাতনসহ নানা সমস্যার শিকার হচ্ছেন৷ নির্যাতনের পর তারা চিকিৎসা সেবাও পাচ্ছেন না৷ তা ছাড়া দালালদের মাধ্যমে বেশি টাকা খরচ করে বিদেশ গিয়ে শ্রমজীবী নারীরা বেতন কম পাচ্ছেন৷

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশি কর্মীরা ওই সব দেশে গিয়ে যৌনসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচারে কঠোর আইন আছে। কিন্তু সমস্যা হলো যারা ভিকটিম হয়ে আসছেন তাদের বেশির ভাগই নাম ঠিকানা ভালোভাবে বলতে পারেন না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন এবং জনশক্তি রফতানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক বেগম শামছুন্নাহার দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে, সম্প্রতি বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামছুন্নাহার জানিয়েছিলেন, ‘নারীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে বিএমইটির পক্ষ থেকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। গৃহকর্মীর জন্য বিভিন্ন দেশের সময়োপযোগী ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে বিদেশে নারী শ্রমিক রফতানি বাড়ছে।’ এটিকে তাদের (মন্ত্রণালয়ের) সফলতা হিসেবেই দাবি করেন তিনি।

বিদেশে নারী শ্রমিক নির্যাতনের ব্যাপারে বিএমইটির মহাপরিচালক বলেন, ‘দু-একটা ঘটনা ঘটলেই সবাই হৈ চৈ শুরু করে। বর্তমানে নারী শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে। কোথাও এ ধরনের সমস্যার কথা শুনলেই সঙ্গে সঙ্গে আমরা এর সমাধানের চেষ্টা করি।’ কাওসার আজম, দ্য রিপোর্ট

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful