Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৪ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ২২ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / কাজের কাজ যাই করুক না কেন অকাজের জন্য তাদের কোন জুড়ি নেই : মোস্তাফা-জব্বার

কাজের কাজ যাই করুক না কেন অকাজের জন্য তাদের কোন জুড়ি নেই : মোস্তাফা-জব্বার

মোস্তাফা-জব্বার

mostafa jabbarবাংলা প্রবাদটি হলো- নেই কাজ তো খই ভাজ। আমাদের দেশের কোন কোন আমলা বা মন্ত্রণালয় সেই খই ভাজার কাজটি করে যাচ্ছে। কাজের কাজ কিছু না করে তারা অকাজে অধিকতর সময় দিয়ে থাকেন। তোপখানা রোডে, শেরে বাংলানগরে, মতিঝিলে বা গুলিস্তানে আমাদের যেসব মন্ত্রণালয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সেগুলোর বেশকিছু কাজের কাজ যাই করুক না কেন অকাজের জন্য তাদের কোন জুড়ি নেই। কীভাবে দেশের স্বাধীন মানুষদের বন্দী করা যাবে বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করা যাবে সেটি করতে তাদের জুড়ি নেই। অন্যদিকে ক্রিমিনাল, খুনি, মানহানিকারী ও গালিগালাজকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তারা কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন না। এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার প্রচারকারী বা যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ওরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারে না। এদের এ ধরনের অদক্ষতা ও পশ্চাৎপদতা প্রসঙ্গে দেশের অনেক মানুষ মনে করেন যে, এ দেশটির অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো আমলাতন্ত্রকে ঢেলে সাজানো।

আমি এ কথা বলব না যে, ইন্টারনেটের সবকিছু ভালো। এতে খারাপ কনটেন্ট রয়েছে। একে নানাজনে নানাভাবে ব্যবহার করে। এজন্য বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার সময় হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ ও তথ্য সুরক্ষার ব্যাপারে সবাকেই সচেতন হতে হবে। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইনকে ইন্টারনেটের উপযোগী করে অপরাধ দমনে ও ইন্টারনেটের খারাপ দিকের ব্যবহার বন্ধ করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ না নিয়ে একটি বিকাশমান তথ্য মাধ্যমকে গলাটিপে ধরার ইচ্ছা কেন হলো সেটি সত্যি সত্যি চিন্তার বিষয়। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে যে, সরকারকে আরেকটি বেকায়দা অবস্থায় ফেলার জন্য কোন কোন মহল সক্রিয় হয়ে রয়েছে। এ সক্রিয়তা সরকারের ভেতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই থাকতে পারে। অতি উৎসাহী এ মহলটিকে চিহ্নিত করা জরুরি। সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা নীতিমালা ২০১২ নামক একটি নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় তার পছন্দ করা কিছু প্রতিষ্ঠানকে তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে সভা করেছে এবং মতামত দেয়ার জন্যও বলেছে।

এ মতবিনিময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোন সংগঠন বা এ খাতে যারা নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনা দিতে পারেন তাদের কাউকে ডাকা হয়েছে বলে জানি না। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি, বেসিস, আইএসপিএবি ইত্যাদি জাতীয় সংগঠনকে কোনভাবেই এ নীতিমালা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। আমার জানা মতে, ২২ সেপ্টেম্বর ১২ শনিবার (ছুটির দিন) ছিল এ নীতিমালা সম্পর্কে মতামত দেয়ার শেষ দিন। আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি ওয়েবসাইটে তন্নতন্ন করে খুঁজে তেমন কোন নীতিমালার সন্ধান পাইনি। ওখানে কেবল রিপাবলিক বানান ভুল রয়েছে_ তেমনটাই চোখে পড়েছে। তবে ইন্টারনেটে নানা সাইটে এই নীতিমালার কপি আছে। আমিও তেমন একটি কপি পেয়েছি। সেই কপিটি নিয়েই ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নীতিমালাটি সম্পর্কে তাদের মতো করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এটি এরই মাঝে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ নীতিমালার বিরুদ্ধে একটি গণস্বাক্ষরতা কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। অনলাইন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে কেন্দ্র করে একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে এ নীতিমালায় এমন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে যা বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এ নীতিমালার আবেদনপত্র ফিস, লাইসেন্সিং ফিস, আর্নেস্ট মানি, নবায়ন ফিস ও নিয়ন্ত্রণমূলক অংশগুলো রীতিমতো চমকে দেয়ার মতো। আমি ঠিক জানিনা, কীভাবে কার পরামর্শে এ নীতিমালাটি প্রণীত হয়েছে। তবে শুনেছি কমিউনিটি রেডিওর জন্য যে নীতিমালাটি ছিল সেটির কাট পেস্ট কপি এটি। নীতিমালাটি প্রণয়নের সঙ্গে খুব সচেতন ব্যক্তিরা যে জড়িত ছিলেন না তার প্রমাণও অবশ্য এতে ভুরি ভুরি রয়েছে। এক জায়গায় আছে, এর প্রতিটি কপিতে সম্পাদক-প্রকাশকের নাম থাকতে হবে। আমি ঠিক জানিনা যে, অনলাইনে প্রকাশিত কোন গণমাধ্যমে প্রতি কপি মানে কি? কেউ কেউ মনে করেন, কোন কোন স্বার্থান্বেষী মহল এ নীতিমালাটি প্রণয়নের পেছনে লবিং করছেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি মোটেই বোধগম্য হচ্ছে না যে এটি কি কারণে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি জরুরি বিষয়ে পরিণত হলো। এ মন্ত্রণালয় নিউজ সার্ভিস সংক্রান্ত নীতিমালা এখনও তৈরি করতে পারেনি-অনলাইন নিয়ে মাতামাতি করছে কেন? ইন্টারনেটের যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারাবদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে অনলাইন গণমাধ্যমকে পায়ে বেড়ি পরানোর প্রয়োজনীয়তা কেন দেখা দিল সেটি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে এ নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের অর্থ উপার্জন করার প্রয়োজনীয়তাও কেন দেখা দিল সেটি বিবেচনার বিষয়।

সাধারণভাবে পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, এ নীতিমালাটি প্রণয়ন করার সময় অনলাইন গণমাধ্যম বা ইন্টারনেট ও বিশ্ব সভ্যতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন তেমন মানুষদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। যদি আমরা একটু তলিয়ে দেখি তবে এটি বুঝতে হবে যে, আসলে অনলাইন শব্দটি ব্যবহার করে কার্যত ইন্টারনেটে মতপ্রকাশের বা তথ্য প্রকাশের পায়ে বেড়ি দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এটি অবশ্যই মনে করি যে, ইন্টারনেট এখন আমাদের জীবনের এমন প্রবল একটি অংশ যে একে যদি আমরা গুরুত্ব না দিই তবে সেটি মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কিন্তু নীতিমালার প্রণেতারা যে ইন্টারনেটের পরিধি অনুভব করেন না তার প্রমাণ হচ্ছে যে, তারা অনলাইন গণমাধ্যম নামক এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন যার কোন ব্যাখ্যা তাদের দলিলে নেই। আজকের দিনে এমন মুর্খ কোথায় পাওয়া যাবে যিনি ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। নীতিমালার কিছু বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যমের সংজ্ঞা দেয়া নেই। ফলে এ শব্দটি দিয়ে কি বোঝানো হয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। এটি দিয়ে কি কেবলমাত্র অনলাইনে প্রকাশিত নিউজ সার্ভিস বা অনলাইন পত্রিকা নামক গণমাধ্যমকে বোঝানো হয়েছে কিনা সেটিও স্পষ্ট নয়।

বস্তুত, অনলাইন মানে হচ্ছে ইন্টারনেটকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তথ্য প্রকাশ করা। ইন্টারনেটে প্রকাশিত ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও এর সঙ্গে যুক্ত সব কার্যক্রম, গুগল প্লাস, টুইটার, ওয়েব পেজ, বস্নগ সাইট এবং পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণ ইত্যাদি সবই গণমাধ্যম। কোন কোন সময়ে দেখা যায় যে ফেসবুক বা টুইটারের একটি মন্তব্য একটি সংবাদপত্রের হেডলাইনের চেয়েও বেশি মানুষের নজরে আসে এবং তার প্রভাব পড়ে। ইন্টারনেটে এখন রেডিও বা টিভিও প্রচারিত হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ভিডিও প্রচারিত হয়। ইউটিউব নামক একটি মহাশক্তিধর ভিডিও চ্যানেল দুনিয়ার সব টিভি চ্যানেলের চেয়ে অনেক বেশি ভিডিও ধারণ করে এবং দুনিয়ার সব টিভি চ্যানেল যে প্রভাব বিস্তার করে তার চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। অতি সাম্প্রতিককালে ইনোসেন্স অফ মুসলিম নামক মাত্র ১৪ মিনিটের একটি ভিডিও দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছে যার উৎস হচ্ছে ইউটিউিব। ফলে ইন্টারনেটবিহীন দুনিয়ায় মিডিয়া নামক যত প্রকারের মাধ্যম রয়েছে তার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত মতামতও মিডিয়া হয়ে গেছে। দেশের প্রচলিত মুদ্রণ ও প্রকাশনা আইনে কাগজে ছাপা একটি লিফলেটও আইনের অধীনে রয়েছে। সেই হিসেবে একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বাইরে প্রকাশ্যে যতসব কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে তার সবই কাগজে ছাপা লিফলেটের মতোই গণমাধ্যম। কেউ একজন ফেসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাসে যদি কোন মন্তব্য করেন তবে সেটি একটি লিফলেটের চেয়ে কম নয়। এসব মাধ্যমে নোট লেখা বা লিঙ্কগুলো যুক্ত করা প্রচলিত গণমাধ্যমের চেয়ে বেশি পাবলিক কর্মকা-।

বস্নগে যেসব মন্তব্য প্রকাশ করা হয় সেটিও কোনভাবেই প্রকাশ্য মাধ্যমের চেয়ে কম নয়। এ নীতিমালায় এসব প্রকাশনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা সেটি সুস্পষ্ট নয়। তবে হাবেভাবে মনে হয় নীতিমালার টার্গেট হলো খবর সংক্রান্ত ওয়েবসাইট।প্রসঙ্গত এটি বলা দরকার যে, ইন্টারনেটের এই যুগে সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বস্নগ, অনলাইন সম্প্রচার, ওয়েবসাইট ইত্যাদি কোনটাই নীতিমালার আওতায় নিবন্ধিত হওয়ার মতো বিষয় নয়। দুনিয়ার যে কোন প্রান্ত থেকে যে কেউ একটি ডমেইন নাম নিবন্ধিত করে এ ধরনের প্রকাশনা চালিয়ে যেতে পারে। ফলে তথাকথিত নীতিমালা দিয়ে বা লাইসেন্সিং আরোপ করে এসব মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা মোটেই সমীচীন নয়। বরং দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে মানহানিকর, রাষ্ট্রবিরোধী বা ক্ষতিকর উপাদানগুলো কাগজে প্রকাশিত হলে যেভাবে আইনের আওতায় আনা যায় ইন্টারনেটের প্রকাশনাকেও সেই আইনের আওতাতেই আনা যায়। এজন্য আলাদা কোন নিবন্ধন, লাইসেন্স বা অন্য কোন ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন নেই। ধরা যাক যে সরকার কেবলমাত্র নিউজ সার্ভিস বা পত্রিকা, রেডিও বা টিভিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গাইডলাইন তৈরি করছে। এ ধরনের নীতিমালা কার্যত কোন ফলদায়ক হবে না। আমরা যদি সাম্প্রতিক অতীতের দিকে তাকাই তবে দেখতে পাব যে ইন্টারনেটে আপত্তিকর উপাত্ত ইউটিউব, বস্নগ সাইট, ওয়েবসাইট, ফেসবুক ইত্যাদিতে অনেক বেশি প্রকাশিত হয়।

এসব প্রকাশনা কেবল বাংলাদেশ নির্ভরও নয়। ফলে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গিয়ে নানা ধরনের সংকটে পড়তে হয়। সাম্প্রতিককালে কোন নিউজ চ্যানলেকে বন্ধ করতে হয়নি- সরকারকে ইউটিউব ও ফেসবুক বন্ধ করতে হয়েছে। একটি ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে যে, এ নীতিমালায় বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনকে যুক্ত করা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সঙ্গে এ সংস্থাটির কি সম্পর্ক সেটি আমি জানিনা। বিটিআরসি তরঙ্গ ও ব্যান্ডউইদথ নিয়ে কাজ করে। সেজন্য যারা এসব ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। মোবাইল অপারেটর, রেডিও, আইএসপি, স্যাটেলাইট চ্যানেল বিটিআরসির নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী, স্যাটেলাইট টিভির দর্শক বা ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কি কারণে বিটিআরসির দিকে তাকাবে সেটি আমার মাথায় ঢুকে না। অনলাইন গণমাধ্যম মূলত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। একজন সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারী যেমন করে ইন্টারনেট সেবাদানকারীর তরঙ্গ ব্যবহার করে নীতিমালার প্রস্তাবিত গণমাধ্যমও তাই করে। ফলে তার সঙ্গে বিটিআরসির কোন সম্পর্কই নেই। এ নীতিমালায় চরম বৈষম্যমূলকভাবে অনলাইন গণমাধ্যমকে আবেদনের জন্য টাকা, আর্নেস্টমানি, ফিস, নবায়ন ফিস ইত্যাদি আরোপের কথা বলা হয়েছে। দেশে কেউ যদি একটি পত্রিকা বের করে বা যদি কোন নিউজ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করে তবে তার জন্য কোন একটি কড়িও ব্যয় করতে হয় না। অথচ ছোট ছোট ওয়েব পোর্টাল বা নিউজ চ্যানেলের জন্য লাখ লাখ টাকা ফিস ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ফিসের বাহার দেখে বোঝা যায় যে, কোন কোন বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকা বা জন্ম নেয়াকে পছন্দ করে না বলেই এই নীতিমালায় সেগুলো যুক্ত করা হয়েছে। আরও একটি গাইডলাইন : আমরা আইসটি বিষয়ে সরকারের আরও একটি গাইডলাইন হাতে পেলাম। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ১২ বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি গাইডলাইনসহ একটি পত্র পায় এবং এ বিষয়ে মতামত দেয়ার সময় ২০ সেপ্টেম্বর ‘১২ ধার্য করা হয়। আমি ভাবতেও পারিনি যে, মাত্র ২ দিন সময়ের মাঝে এমন একটি বিষয়ে মতামত প্রত্যাশা করা হয় কেমন করে। বিষয়টি সম্পর্কে এর আগে কাউকে জানানো হয়নি। ফলে এ সম্পর্কে কারও পূর্ব ধারণাও তৈরি হয়নি। অথচ নীতিমালার খসড়া তৈরির আগেই এটি নিয়ে সামনা সামনি ও খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি ছিল। বস্তুত, এটি নিয়ে একটি দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল।

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, তথ্য সুরক্ষা বিষয়ক খসড়া গাইডলাইনটি প্রধানত প্রস্তাবনামূলক ও আংশিক। এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। এতে বেশকিছু বিষয় আলোচিত হয়নি। তথ্য প্রসেসিং, বিতরণ, ব্যবহার, সুরক্ষা, প্রতিরোধ ইত্যাদি প্রসঙ্গ বিস্তারিতভাবে আলোচিত হওয়া উচিত। অন্যদিকে এতে সাইবার অপরাধ বিষয়ক আলোচনা বিস্তারিতভাবে করা উচিত এবং সেসব অপরাধ থেকে কারিগরি ও আইনগত দিক থেকে সুরক্ষার উপায় বর্ণনা করা উচিত। এই গাইডলাইনের আলোকেই আইসিটি এ্যাক্ট ২০০৬ (২০০৯ সালে সংশোধিত) এর সংশোধনী করা প্রয়োজন যাতে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। বলাবাহুল্য, আমাদের আমলারা বাংলা লিখতে জানে না ফলে সেটি ইংরেজিতে তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি এ গাইডলাইনটির বাংলা সংস্করণ থাকা প্রয়োজন, কারণ এ গাইডলাইনটি যারা ব্যবহার করবেন তাদের মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষা বাংলা।

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যারের প্রণেতা]

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful