Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৪ : ১৭ পুর্বাহ্ন
Home / গাইবান্ধা / “সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়”

“সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়”

Asadul-3001গাইবান্ধা: ভারতের বোম্বেতে দীর্ঘ দুইযুগ আটকে থাকার পর অবশেষে মায়ের কোলে ফিরে এলেন সাদুল্যাপুরের আশাদুল ইসলাম।

খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থান থেকে তাকে এক নজর দেখার জন্য শত শত নারী-পুরুষ তার বাড়িতে ছুটে আসে। তার জীবনের কাহিনী শুনে অনেকেই বলাবলি করতে থাকেন, এ ঘটনাতো সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে।

এদিকে, হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের যেন আনন্দের শেষ নেই। হারানো ধন ফিরে পেয়ে মা নিলুফা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন ‘ওরে আমার বাচা ধন, তুই এতদিন কই ছিলি’।

আশাদুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম খামার দশলিয়া গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে।

আশাদুলের মা জানান, আজ থেকে আনুমানিক ২২ বৎসর আগে আশাদুলের জ্যাঠাই উপজেলার নলডাঙ্গা বাজারে ওকে ময়দা আনতে পাঠায়। তখন আশাদুলের বয়স মাত্র ৮ বৎসর। ওই ময়দার প্যাকেট আনতে গিয়ে আমার বাবা আর বাড়ি ফিরে আসেনি। অনেক দিন বিভিন্ন স্থানে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পাওয়া যায়নি। মনে মনে ধারণা করি আমার আশাদুল হয়তো মরে গেছে। বেঁচে থাকলে এতদিন আসতো। দিনরাত সব সময় ওর চিন্তা করি।

এদিকে দীর্ঘ দিন ভারতে থাকার কারণে আশাদুল হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। তবে বাংলায় কথা বলতে পারেন।

আশাদুল তার হারিয়ে যাওয়ার কাহিনী শোনায় এ প্রতিবেদককে, ছোট বেলায় জ্যাঠাই মা আমাকে নলডাঙ্গা বাজার থেকে ময়দা আনতে পাঠায়। আমি পলিথিন ব্যাগে ময়দা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক সাপুড়ে রাস্তার ধারে লোকজন জমায়েত করে সাপ খেলা দেখাচ্ছিল। এ সময় আমিও সাপ খেলা দেখার জন্য মানুষের ভিড়ে ঢুকে পড়ার সময় পলিথিন ব্যাগটি ফেটে গিয়ে ময়দাগুলো মাটিতে পড়ে যায়। আমি আর ভয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। সাপ খেলা শেষে সব লোক চলে গেলে সাপুরের কাছে বসে থাকি। আমাকে বসা থাকা দেখে সাপুড়ে আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বিস্কুট ও চকলেট খেতে দেয়। এরপর আমি আর কিছু বলতে পারিনি।

আশাদুল বলতে থাকে তার কাহিনী, এভাবে ৪ দিন অচেতন অবস্থায় আমাকে বাংলাদেশ থেকে ওই সাপুড়ে ভারতে পাচার করে তার নিজ বাড়ি বোম্বে কালিমন্দির শ্মশান ঘাটা ৭ নদীর তীরের ৯নং কলোনির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নিজ সন্তানের মতো আদর সোহাগ দিয়ে লালন পালন করে আমার নাম পরিবর্তন করে স্বপন রাখে। সাপুড়ের নাম দিলীপ সাপুড়ে। দিলীপ সাপুড়ে ও তার স্ত্রী মুক্তা রানীর সান্নিধ্যে শৈশব থেকে কৈশর ও কৈশর খেকে যৌবনে পা দেই।

আশাদুলের বয়স এখন ৩০ বৎসর। আসাদুল ওরফে স্বপন কখনই জানতো না যে তিনি হিন্দু না মুসলমান। শুধু জানতো দীলিপ সাপুড়ে ও তার স্ত্রী মুক্তার রানীর নিজের সন্তান। তিনি কখনো জানতে পারেনি সাপুড়ে ও তার স্ত্রী তার পালিত বাবা মা। পালক বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও সাপ ধরা, সাপের খেলা, তন্ত্র-মন্ত্র, জাদু ও ঝাড়ফুঁকের শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ করেন। এজন্য ওই এলাকার লোকজন আশাদুলকে স্বপন সাপুড়ে বলে ডাকতেন। এরই মধ্যে স্বপনকে আরও দক্ষ করার জন্য সাপুড়ে তার শ্বাশুড়ির সঙ্গে কামরুকামরুক্ষা পাঠিয়ে দেয়। সেখানে তিনি ৮ বৎসর অতিবাহিত করে আবারো ফিরে আসেন পালিত বাবার বাড়িতে।

এদিকে, গত তিন মাস আগে দীলিপ সাপুড়ে ৭ স্ত্রী ও ৭ মেয়ে রেখে হঠাৎ মারা যান। সাত স্ত্রীর মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন শিউলি নামে স্ত্রী আছেন। স্বপন জানতো তার পালিত বাবার রেখে যাওয়া ওই সাত মেয়ে তার আপন বোন। কিন্তু এরই মাঝে পালিত মা মুক্তা রানী তার মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে স্বপনের বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে স্বপন হতবিহ্বল হয়। বুঝতে পারে না নিজের বোনকে কীভাবে বিয়ে করবে। এ নিয়ে ওই এলাকায় বেশ কানাঘুষা শুরু হয়।

এমতাবস্থায় স্বপনের মনে নানা প্রশ্নের জাগে। তিনি দীলিপ সাপুড়ের স্ত্রী শিউলির কাছে ঘটনাটি জানতে চান। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্বপনকে সব কিছু খুলে বলেন। জানতে পারেন তিনি মুসলিম পরিবারের ছেলে। দীলিপ সাপুরে তার পালিত ছেলে। আশাদুলের বাড়ি বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার নলডাঙ্গায়। একথা শুনে স্বপন ওরফে আশাদুল যেন আকাশ থেকে পড়েন। তিনি এতদিন হিন্দু ধর্ম পালন করেছেন।

তিনি শিউলির কথা বিশ্বাস করে প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসার জন্য মনস্থির করে ওখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার জন্য হিলি বর্ডারে আসেন। কিন্তু বিধি বাম! বিএসএফ ও বিজিবির বাধার মুখে পড়ে তিনি বর্ডার পাড় হতে পারেননি। এভাবে বর্ডারে ৬/৭ দিন আটকা থাকার পর ভারতীয় সীমান্তে অবস্থানকারী হিজরাদের শরণাপন্ন হন।

১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে হিজরাদল অভিনব কৌশলে স্বপনকে কামিজ শ্যালোয়ার পড়িয়ে, কৃত্রিম হিজরা সাজিয়ে স্বপনকে বাংলাদেশ পাচার করে দেয়। ওই দিনই স্বপন ট্রেনে তার জন্মভূমি নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে নামেন।

এ সময় তার কিছু কিছু স্মৃতি মনে পড়ে। মনে পড়ে নলডাঙ্গা খাদ্য গুদাম ও রেলস্টেশনের কথা। এতে তিনি অনেকটা নিশ্চিত হয়ে পায়ে হেঁটে নিজ বাড়িতে যান। ওই সময় এক হৃদয় বিদারক এক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

আশাদুল ওরফে স্বপনের জীবন কাহিনী ও সিনেমার গল্প যেনো একাকার হয়ে যায়। হারিয়ে গিয়ে কেউ কেউ ফিরে পায় তার ঘর, আবার কেই আবার পায়না। আশাদুলও সেইসব ভাগ্যবানদের একজন তাইতো ফিরে আসতে পেরেছে নিজের মায়ের কোলে।

পিয়ারুল ইসলাম

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful