Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৪ : ১২ পুর্বাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের স্ত্রী মোমেনা বেওয়া ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন

স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের স্ত্রী মোমেনা বেওয়া ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন

Momana Khatun copyকুরবান আলী, দিনাজপুর ॥ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক সেনাদের গুলিতে দিনাজপুরে নিহত শহীদ আজিজউদ্দীন এর স্ত্রী ৮০ বছরের বৃদ্ধা মোমেনা বেওয়া এখন ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কাচারী এলাকায় বিধবা মোমেনা বেওয়ার সাথে কথা বললে তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, বয়স ও বার্ধক্যের কারণে বিধবা মোমেনা বেওয়া নুইয়ে পড়েছে। তার পরেও জীবিকার তাগিদে তাকে ঘর থেকে বের হয়ে প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। মোমেনা বেওয়ার সাথে কথা বললে সে কেঁদে ফেলে। বলে ভিক্ষা না করলে কি খেয়ে থাকব। কে দিবে আমাকে খাবার। অনেকবার গিয়েছিলাম পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর ও কাউন্সিলর সুমনের কাছে বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার আশায়। কিন্তু নিজের লোক না থাকায় মেয়র ও কাউন্সিলর কেউ তাকে বিধবা ভাতা করে দেয়নি। যে দিন ঘর থেকে বের হতে পারে না সে দিন তাকে না খেয়ে ঘরে পড়ে থাকতে হয়। অসুস্থ হলে সরকারী হাসপাতালে গিয়ে ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়। তাকে দেখার মত কেউ নেই।

দিনাজপুর শহরে শেখপুরা গ্রামের (ডায়াবেটিক হাসপাতালের পিছনে) দু‘শতক খাস জমির উপর নির্মিত একটি খড়ের ঘরে মোমেনা বেওয়া কোন রকমে বসবাস করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে তার স্বামী আজিজউদ্দীন শহরের বাহাদুর বাজারে মুদি দোকান করত। ৩ কন্যা শামসুন নাহার, জমিলা খাতুন, নুরজাহান বেগম ও ১ পুত্র আবু সিদ্দিককে নিয়ে তাদের পরিবার ভালই চলছিল। স্বাধীনতার পূর্বেই ২ কন্যা শামসুন নাহার ও জমিলার বিয়ে হয়ে যায়। ১৯৭১ সালের মার্চে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শহরে গোলযোগ শুরু হয়ে যায়। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ বাংলার বৈশাখ মাসের প্রথম দিকে একদিন সন্ধ্যার পর স্বামী আজিজউদ্দীন তার পুত্র আবু সিদ্দিককে নিয়ে বাহাদুর বাজারে মুদি দোকান বন্ধ করে পায়ে হেটে বাড়ী ফিরছিল। শহরের মুন্সিপাড়া সদর হাসপাতাল মোড়ে আসলে অতর্কিতভাবে পাক সেনাদের গুলি বর্ষণ শুরু হয়। ওই গুলি বর্ষনে আজিজউদ্দীন ও তার ১২ বছরের পুত্র আবু সিদ্দিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। এরপর অনেক গুলিবিদ্ধ শহীদদের লাশের সাথে ওই ২ জনের লাশও পাক সেনাদের ক্যাম্প সার্কিট হাউজের পাশে নিয়ে রাখে। পরে লোকমুখে জানতে পারে তার স্বামী ও পুত্রের লাশ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পিছনে একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। ওই পুকুর পাড়ে পাক সেনাদের নির্যাতনে অনেক নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেয়ার কারণেই পুকুরটি নাম জুলুম সাগর বলে পরিচিত হয়েছে। মোমেনা ভয়ে পাক সেনাদের ক্যাম্পে আর যেতে পারেনি। তার অবিবাহিত কন্যা নুরজাহানকে নিয়ে কোন রকমে শহরের রেল লাইনের বস্তিতে সেসময় প্রাণ রক্ষা করেছে। স্বাধীনতার পর স্বামীর যে টুকু সম্বল ছিল তা দিয়ে কন্যা নুরজাহানকে বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ বাজারে বিয়ে দেয়। অপর ২ কন্যা শামসুন নাহার ও জমিলা বেগম স্বাধীনতার পর স্বামীর বাড়ীতেই মারা যায়। মৃত কন্যা নুরজাহানের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ওই পুত্র সন্তানটি মাঝে মধ্যে মোমেনা বেগমের খোজ-খবর নেয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে মোমেনা বেওয়ার কেউ খোজ খবর নেয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার স্বামী ও ১২ বছরের পুত্র শহীদ হয়েছে। এই ঘটনা সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ মোকাদ্দেস হোসেন বাবলু ও মোকছেদ আলী মঙ্গলিয়াকে বলেছিলেন কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের শরীর না চললেও ধুকে ধুকে তাকে অন্যের বাড়ী ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তার পরেও তার প্রত্যাশা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার স্বামী ও সন্তান শহীদ হয়েছে এই প্রত্যাশা নিয়ে জীবনের বাকী দিনগুলো শেষ করতে চান।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful