Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৮ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১ : ১৩ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বিড়ি-সিগারেট থাকলে রাজা, না থাকলে প্রজা

বিড়ি-সিগারেট থাকলে রাজা, না থাকলে প্রজা

তানভীর হাসান তানু,  ঠাকুরগাঁও: ব্রিটিশ আমলের এক বিচ্ছিন্ন জনপদের নাম ঠাকুরগাঁও। ১৮৯২ সালে ব্রিটিশরা বর্তমান ঠাকুরগাঁওয়ে একটি উপ-কারাগার স্থাপন করে। পরে ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সরকার এটিকে জেলা কারাগারে রুপান্তর করে। তবে বাড়েনি কোনোও সুযোগ-সুবিধা। শত বছর পূর্ণ হয়ে বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে কারাগারটি।

যে কোনো সময় হুড়মুড় করে ধ্বসে পড়তে পারে বলে কারাগারে আটক বন্দিরা আশঙ্কা করছেন। তারপরও জরাজীর্ণ এ ভবনে চলছে বন্দিদের বসবাসসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম। ঠাকুরগাঁও সচেতন নাগরিক সমাজ আশঙ্কা করছে, যে কোনো মুহূর্তে ধ্বসে পড়তে পারে জেলা কারাগারটি। আর এতে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, কারাগারের প্রধান ফটকে বড় অক্ষরে লেখা “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলো পথ” এই বাক্যটি শুধুই ¯ে¬াগান। কারণ কারাগারটি হুমকির মুখে। কিন্তু কারাগার কর্তৃপক্ষের দাবি কারাগারের প্রতিটি বন্দিকে রাখা হয় নিবির পর্যবেক্ষণে। কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে দেখানো হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ। তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এর পুরো উল্টো চিত্র। পুরো কারাগার জুড়েই চলছে ক্ষমতার খেলা।

যার কাছে বিড়ি সিগারেট থাকে , সে কারাগারের রাজা, শেষ হয়ে গেলেই তিনি আবার প্রজা। যার যত বেশি প্রভাব, সে তত বেশি প্রভাবশালী। আর যাদের প্রভাব নেই তাদের হতে হয় সাজাপ্রাপ্তদের নির্যাতনের শিকার। তবে কারাগারের বাইরে এসব ঘটনা সহসা প্রকাশ করেন না কেউ। কারণ বেশির ভাগ হাজতি বিভিন্ন প্রকার অপরাধী হওয়ায় তাদের বারবার যেতে হয় কারাগারে। অনুসন্ধানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কারাগার কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন। জেলা কারাগারের ভেতর ও বাইরের নানা সমস্যার খবর।

প্রথম দিন : একজন হাজতি কারাগারে প্রবেশের পর তাকে প্রথম একদিন আমদানিতে রাখা হয়। পরে তাদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু এখানেও রয়েছে প্রভাবের খেলা। যে কেউ চাইলেই আমদানিতে বেড পাবেন না।

ওয়ার্ড: আমদানিতে একদিন রাখার পরে হাজতিদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। অনেক অপরাধী এক জায়গায় বসবাস করায় প্রায়ই হাজতিতের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারি করার অপরাধে তাদেরকে কেস টেবিলে (কারাগারের বিশেষ বিচার ব্যবস্থা) হাজির করা হয়।

খাবার: জেলখানায় খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন একাধিক হাজতি। তবে কারাকর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বন্দিদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার কিশোর কুমার নাগ জানান, বন্দিদের সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে সবজি-ডাল-ভাত এবং রাতে সবজি-ডাল-ভাত-মাছ বা মাংস খেতে দেওয়া হয়। বন্দিরাও জেলারের কথা অস্বীকার করেননি। তবে তাদের অভিযোগ খাবারের মান নিয়ে। একাধিক বন্দি জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উলে¬খ্য থাকে তা দেওয়া হয়না।

ক্যান্টিন: একাধিক বন্দি জানিয়েছেন, কারাগারের ক্যান্টিনে তেমন একটা দুর্নীতি হয়না। তবে যা হয় তাও কম নয়। এখানে রান্নার তেল খুবই খারাপ। একই তেল দিয়ে তৈরি করা হয় নানান খাবার।

দেখার ঘর : বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। সেখানে ভালোভাবে কথা কথা শুনা যায়না। কিন্তু কারারক্ষীদেও সাহায্য চাইলে তারা আইনের বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন। কিন্তু পকেটে ৫০ টাকার নোট ঢুকিয়ে দিতেই তিনি সব আইনের কথা ভুলে যান। পরে দ্বিতীয়বার দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন তারা।

সম্প্রতি, জেল থেকে মুক্তি পাওয়া বন্দি মিজানুর রহমান জানায়, তিনি ৯ মাস  জেল খেটেছেন। আবাসন সংকটের কারণে কোনোদিন সোজা হয়ে ঘুমাতে পারেননি। একইভাবে ২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক নেতা জানায়, একদিকে যেমন আবাসন সংকট, অন্যদিকে পান ও স্যানিটেশনের সমস্যা রয়েছে এ কারাগারটিতে। একবার টয়লেটে যেতে হলে একবার থেকে দেড়ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, যা খুবই অমানবিক।

মাদক: কারাগারের অভ্যন্তরেও ফেন্সিডিল বা ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে, বাইরে  থেকে এমন খবর শোনা গেলেও অনুসন্ধানে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে কারাগারের মাদক যে বিক্রি হচ্ছে না তাও ঠিক নয়। কারাগারে বিক্রি হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে গাঁজা এবং ঘুমের ট্যাবলেট। কারা অভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

বন্দি: মাত্র ১৬৮ জন ধারণ ক্ষমতার ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ২৬৪ জন। এদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন ৯১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৫৫ ও মহিলা ৯ জন। হাজতি রয়েছেন (বিচারাধীন) ১৭৩ জন।

জনবল: জেল সুপার, জেলার, চিকিৎসকসহ ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের প্রয় ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া এখানে প্রধান কারারক্ষীর পদ হলো ২৪টি। এ ব্যাপারে জেলার কিশোর কুমার নাগ বলেন, “ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে যে জনবল রয়েছে তা ১শ বন্দির জন্য। তাই এখানকার নিরাপত্তা  জোরদার করতে আরও দ্বিগুণ কারারক্ষী প্রয়োজন।”
কারাগারে যত সমস্যা: অবকাঠামো, খেলার মাঠ, আবাসন ও জনবল সংকট, পুরতান ভবনে ঝুঁকিপূণ বসবাস এখন কারাগারের প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করা না হলে খুব শিগগিরই ভেঙে পড়তে পারে কারাব্যবস্থা।

কারাকর্তৃপক্ষের বক্তব্য: কারাগারের জেলার কিশোর কুমার নাগ বলেন, “কারাবিধি অনুযায়ী একজন বন্দির জন্য ৩৬ বর্গফুট আয়তন, ফাঁসির আসামির জন্য ৫৪ বর্গফুটের সেল এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ও হাজতির জন্য ২৪ বর্গফুট স্থান বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় আবাসন সংকট এখানে চরম আকার ধারণ করেছে।”

পরিদর্শন টিমের বক্তব্য: ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিদর্শন টিম রয়েছে। সরকারিভাবে কারাগার পরিদর্শন টিমের সদস্য পৌর মেয়র এসএমএ মঈন জানান, কারাগারের সার্বিক অবস্থা ভালোই। যতটুকু সমস্যা আছে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন কারাকর্তৃপক্ষ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful