Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ :: ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ :: সময়- ৫ : ১৯ পুর্বাহ্ন
Home / জাতীয় / আজহারের নির্যাতনের শিকার রংপুরের সেই বীরাঙ্গনাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি

আজহারের নির্যাতনের শিকার রংপুরের সেই বীরাঙ্গনাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি

azaharডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের ‍নির্যাতনের শিকার একজন বীরাঙ্গনাকে ক্ষতিপূরণ দিতে রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। 

মঙ্গলবার আজহারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তিসহ এ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এ মামলায় আজহারের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেওয়া একজন বীরাঙ্গনার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। ওই বীরাঙ্গনা ছিলেন আজহারের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী। রংপুর টাউন হলের পাকিস্তানি ও রাজাকার ক্যাম্পে আজহারের নেতৃত্বে ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

সে সময় সাক্ষী দু’মাসের অন্ত্ব:সত্তা ছিলেন বলে উল্লেখ করে তুরিন আফরোজ যুক্তিতর্কে বলেন, এ নির্যাতনে আজহারের বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ পায়।  ওই সাক্ষীসহ অন্য নারীদের ওপর তিনি যে নির্যাতন চালান, তাতে বোঝা যায়, তিনি পশু ছাড়া কিছুই ছিলেন না।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের ষষ্ঠ দিনে আজহারের বিরুদ্ধে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তুরিন আফরোজ। এর মাধ্যমে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট থেকে সোমবার পর্যন্ত আরও ৫ কার্যদিবসে আজহারের বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও তাপস কান্তি বল।
 
বুধবার থেকে আজহারের পক্ষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হবে। পরে আইন অনুসারে রায়ের দিন ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল।

এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে ক্ষতিপূরণের দ্বিতীয় দাবি। এর আগে গত ৭ আগস্ট প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজই মানবতাবিরোধী অপরাধে অপর অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতা হয়ে বীরাঙ্গনা মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া একজন যুদ্ধশিশু ও দুই বীরাঙ্গনাকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেন। 

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে গত ৬ জুলাই পর্যন্ত আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এম ইদ্রিস আলীসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৯ জন সাক্ষী। তাদের মধ্যে সপ্তম সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে বৈরি ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। বাকি ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ঘটনার ১৪ সাক্ষী হলেন ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেওয়া একজন ভিকটিম, মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা, শহীদপুত্র মোখলেসার রহমান সরকার ওরফে মোখলেস আলী, মো. মেছের উদ্দিন, আব্দুর রহমান, মকবুল হোসেন, মো. মুজিবর রহমান মাস্টার, শোভা কর, রতন চন্দ্র দাস, সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা, রফিকুল হাসান নান্নু, রথিশ চন্দ্র ভৌমিক, এওয়াইএম মোয়াজ্জেম আলী এবং তপন কুমার অধিকারী।

আর জব্দ তালিকার তিন সাক্ষী হলেন তদন্তকারী কর্মকর্তার সহকারী ও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জুনিয়র সদস্য সজল মাহমুদ, আকরাম হোসেন এবং বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগারিক এজাব উদ্দিন মিয়া। তাদের জেরা শেষ করেছেন আসামিপক্ষ।

অন্যদিকে গত ৩ ও ৪ আগস্ট আজহারের পক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আনোয়ারুল হক। তাকে জেরা করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আজহারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম। এর আগে ১২ নভেম্বর এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, গুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতেও (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।

গত বছরের ২৯ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন আজহারের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মুনির ও ইমরান এ সিদ্দিকী।

২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর নুরজাহান বেগম মুক্তা। ৪টি ভলিউমে ৩শ’ পৃষ্ঠায় দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে গত বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ১ বছর ৩ মাস ১১ দিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মানবতাবিরোধী ৯ ধরনের অপরাধে তদন্ত চূড়ান্ত করে ৯ জুলাই প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত রিপোর্টটি দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারের ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এটিএম আজহারুল ইসলামকে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful