Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ২ : ২৪ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বিশেষ প্রতিবেদন: জনগণের চাওয়া-পাওয়া বনাম আমাদের রাজনীতি

বিশেষ প্রতিবেদন: জনগণের চাওয়া-পাওয়া বনাম আমাদের রাজনীতি

মুরাদ মাহমুদ, সিইও, উত্তরবাংলা ডটকম

সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে দেশের বড় দুই দলের দূরত্ব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নে দুই দল এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে।
পদ্মা সেতু দুর্নীতি, দশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক লাজুক অবস্থা, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, সাংবাদিক দম্পতি হত্যা, সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ড, মহাজোটে অনৈক্যর শুর, হল-মার্ক কেলেঙ্কারি, ছাত্রলীগের কু-কীর্তি, জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সর্বশেষ বিশ্বজিত হত্যাকান্ড- নিয়ে আ’লীগ সরকার ক্রান্তি কাল অতিক্রম করছে। সরকারের মেয়াদ যত কমছে দিন দিন ততই চাপের মুখে পরছে মহাজোট সরকার। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতিতে নিম্নবিত্তের মানুষ সরকারের প্রতি রীতিমত বিরক্ত।
পদ্মা সেতু নিয়ে সুদীর্ঘ নাটকীয়তার এক পর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের ঋণ স্থগিত, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির কারণে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পথে বসেছে। সূচকের পতনের সাথে সাথে শেয়ার বাজারে বিক্ষোভ এখন নিয়মিত সংবাদে পরিণত হয়েছে। লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের যারা সর্বশান্ত করেছে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কার্যত কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি অথবা ইচ্ছে করে নেয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের কাছে সরকার এখন চুক্ষু-শূলে পরিণত হয়েছে।
দিন দিন সরকার একা হয়ে পরছে। মহাজোটের শরিক দলগুলো আ’লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। প্রকাশ্যে তারা আ’লীগের সমালোচনা করে যাচ্ছে। ক্ষমতার অংশীদারিত্বের জন্য শরিক দলগুলো এখনও মহাজোটের সাথে তাল মিলিয়ে চললেও সময় মত তারা মহাজোট ছেড়ে দিবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সামনে সরকারের দু:সময় শরিক দলগুলোকে পাশে না পাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন পরিষ্কার হয়ে উঠছে। আ’লীগ কে বাদ দিয়ে মহাজোটের অন্য দলগুলোর ইতিপূর্বের বৈঠক সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। সর্বশেষ মন্ত্রী পরিষদ পূর্ণগঠন মহাজোট ধরে রাখার একটা অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি সময়ের বেশ কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ড দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সাহারা খাতুন) দেশের আইন শৃঙ্খলা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখাতে পারেনি। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেই পূর্বসূরির পথেই হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর- রুনি হত্যাকান্ড নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় দেশ বাসী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। সাংবাদিকরা মনে করছে এ হত্যাকান্ড- নিয়ে আরও একটা জজ মিয়া নাটক মঞ্চস্থ হতে চলেছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার কারীদের গোয়েন্দারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সনাক্ত করতে পারলেও আসল হত্যাকারীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সৌদি কূটনৈতিক হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্বজিত কে যে ভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারেনা। আ’লীগের শাসনামলে রাজনীতিতে নতুন করে যোগ হয়েছে গুম। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী সহ কিছু গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমালোচনার ঝড় লক্ষ্য করা গেছে। দিন দিন দেশে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। পুলিশ বাহিনী আইন শৃঙ্খলা রা বাদ দিয়ে বিরোধী দলের কর্মসূচী ঠেকাতেই বেশী ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলার অবনতির কারণেই সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবর্তন করার মুল কারণ বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
একের পর এক সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে সরকার তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি। সীমান্ত হত্যাকান্ড- বন্ধ শুধু আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দিনের পর দিন ফেলানিদের রক্তে লাল হচ্ছে সীমান্তের কাঁটাতার। বাংলাদেশ- ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সারা ফেললেও সরকারের জোরালো কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। উল্টো “সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয়” আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের মন্তব্য মানুষকে হতাশায় ডুবিয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনার নিয়ে দেশের রাজনীতি যে দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে তা স্পষ্ট। দুই দল তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে এসে গ্রহণযোগ্য সমাধানে না পৌঁছাতে পারলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির আভির্বাব নিশ্চিত। আরও একটা ১/১১ এর আশংকা করছে কেও কেও। বড় দুই দলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোন সমাধানে না আসা গেলে দেশে আবারও যে ১/১১ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না তা বলা দুষ্কর। ১/১১ থেকে যদি আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষা নিতে না পারে তবে তা হবে দূর্ভাগ্যজনক।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও তাদের সংসদে জনগণের কথা বলার আগ্রহ দেখা যায়নি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর বাড়ি রা এবং জিয়া পুত্রদ্বয়ের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবীতে তারা যে ভাবে সোচ্চার ছিল তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যর মূল্য বৃদ্ধি সহ জাতীয় ইস্যুতে বিএনপিকে সে ভাবে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। এ থেকে স্পষ্ট যে, তারা মুখে যাই বলুক না কেন বিএনপির আন্দোলন মূলত ব্যক্তি কেন্দ্রিক।
বিএনপি তাদের সর্ব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার পতনের দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার। বর্তমান দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব খুবই কম। ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ এখন আর মানুষ পছন্দ করে না। আব্দুল জলিলের ডেড লাইনের মত বিএনপি ও ১২ মার্চ একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মঞ্চস্থ করেছে । বিরোধী দল বার বার সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিলেও আন্দোলনে সফলতার ছোঁয়া লাগেনি। আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেই দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাজ করছে।

বিগত চার দলীয় জোটের ভয়াবহ দুর্নীতি আর দু:শাসনের কবল থেকে দেশকে বাঁচতে আ’লীগের কোন বিকল্প ছিল না বলেই জনগণ তাদের পক্ষে গণরায় দিয়েছে। বিশেষ ভবনের আশীর্বাদে যারা দেশকে লুট পাটের আখড়ায় পরিণত করেছিল জনগণ তাদের ভোটের মধ্যে দিয়ে প্রতিহত করেছে। দুর্নীতির বর পুত্রদের করুন পরিণতি এখন দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।
দিন বদলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে আ’লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল হিসেবে আ’লীগের কাছে জনগণের চাওয়া সব সময় একটু বেশী। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তার মাশুল আ’লীগকেই বহন করতে হবে।
বাংলাদেশের জনগণ সব সময় ভেবে চিন্তেই যে তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে তা অতীতের নির্বাচন গুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। জনগণ তার প্রতিদান কতটুকো পেয়েছে তার বিচার আগামী নির্বাচনে জনগণই করবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful