Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ :: ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ :: সময়- ২ : ০০ অপরাহ্ন
Home / রাজশাহী বিভাগ / রাজশাহী মুক্ত দিবস

রাজশাহী মুক্ত দিবস

raj-1418858913রাজশাহী : আজ ১৮ ডিসেম্বর। রাজশাহীবাসীর স্মৃতিপটে আঁচড় কেটে যাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য দিন। রাজশাহী মুক্ত দিবস আজ। ৪৩ বছর আগে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর এসেছিল বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়। তবে রাজশাহীতে স্বাধীনতার সেই সূর্য কিরণের দেখা মেলে আজকের দিনে।

এ দিনে শহর শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিবাহিনী, মিত্রবাহিনী ও গেরিলা যোদ্ধাদের ক্রমাগত আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদররা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও রাজশাহীতে স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা ওড়ে দুইদিন পর।   দীর্ঘ নয়মাস পর বিভীষিকাময় সময়ের অবসান ঘটে। বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় আর আত্মপরিচয়ের ঠিকানা করে নেওয়ার অনুভূতিতে পুলকিত হয়ে ওঠেন রাজশাহীর মানুষ। মুক্তিকামী জনতার ঢল নামে রাজশাহী শহরের প্রতিটি সড়কে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী অঞ্চল ছিল ৭নং সেক্টরের অধীনে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিদেশি প্রতিনিধিদের মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্ত পার হয়ে আসেন। ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধা রাজশাহী শহরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শুরু করেন তাদের অপারেশন। এ সময় পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের দোসরদের নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বাড়তে থাকে। রাজশাহীর নারীরাও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে।   মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে আলবদর বাহিনী পরাজয় আঁচ করতে পেরে শুরু করে ত্রাস, হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ নানা নিপীড়ন। পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমিতে হত্যা করে ৪ হাজার মানুষকে। নারীরাও তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাননি।   পাকিস্তানি সৈন্যদের দোসরদের মদদে বিভিন্ন কায়দায় লোকজনকে হত্যা করে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা ঢুকে পড়তে থাকে রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে।

২৫ নভেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুর চরে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন্ত অবস্থায় বালির মধ্যে পুঁতে হত্যা করে। পরবর্তীতে একে ‘বাবলা বন’ হত্যাকাণ্ড নামে অভিহিত করা হয়। সবকিছু সহ্য করে স্বাধীন হওয়ার দিন গুণতে থাকেন রাজশাহীর মানুষ।   মিত্র বাহিনীর বিমানকে স্বাগত জানাতে সবাই তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা  করতে থাকেন। সে সময় পাক সেনাদের বিমান বোমা ফেলতো থাকলো রাজশাহীতে। তবে লালগোলা সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও শেখপাড়া সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর রশিদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের সঙ্গে লড়াই করে মুক্ত করে ফেলে রাজশাহীর গ্রামাঞ্চল।   মহদিপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর রাজশাহী অ্যাডভান্সের পরিকল্পনা নিলেন। ১৪ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেহাইচরে শহীদ হন তিনি। একপর্যায়ে মুক্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ।   এরপর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী দ্রুতগতিতে রাজশাহীর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই রাজশাহী শহরে বীরদর্পে ঢুকে।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হল, জেলখানা ও বিভিন্ন বন্দিশালা থেকে বেরিয়ে আসতে থাকেন নির্যাতিত মানুষ। স্বজন হারানোর কষ্ট আর স্বাধীনতার উল্লাসে গোলাপ পানি ও ফুলের পাপড়ি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা-মিত্রবাহিনীকে বরণ করে নেয় রাজশাহীর মানুষ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful