Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ :: ৭ কার্তিক ১৪২৬ :: সময়- ১১ : ৪৯ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / হার্ডলাইনে যৌথ বাহিনী

হার্ডলাইনে যৌথ বাহিনী

্‌মমডেস্ক: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চলমান অবরোধে সহিংসতা ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন থেকে দুর্বৃত্তদের বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নিয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। জামায়াত-শিবির প্রভাবিত ১৫টি জেলায় প্রাথমিকভাবে অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। দু-একদিনের মধ্যে এ অভিযান আরও জোরদার হবে। প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য এলাকায় নামবে যৌথ বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।       

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে। কানসাটে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মতিউর রহমান নামে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা নিহত হন। গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগে ৩৬ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট।

পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হামলাকারীদের যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনার পর মাঠ প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, গাড়িতে আগুন দেওয়া, ট্রেন লাইনে নাশকতার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। এসব অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দুর্বৃত্তদের হামলায় ২৩ জন নিহত হন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নাশকতা ও সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। শুরুতে দেখেশুনে ধীরস্থিরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কৌশল থাকলেও পরিস্থিতির বিবেচনায় কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছে না যৌথ বাহিনী। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতাকারী ও তাদের ইন্ধনদাতাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাশকতা ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’ প্রয়োগ করার নির্দেশনা রয়েছে। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠ প্রশাসনে কোনো শৈথিল্য প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। যারা জনগণের জানমালের ক্ষতি করছে, তাদের কোনো ছাড় নয়। হার্ডলাইনে যেতে কোনো কার্পণ্য করা হবে না। পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক রাতে সমকালকে বলেছেন, নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না। অবরোধকারীরা যতই সন্ত্রাসী কর্মকা করুক না কেন, এবার আর পার পাবে না। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সন্ত্রাসীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। রাস্তায় যারা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের বক্তব্য কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সহিংসতাকারীদের উদ্দেশে বলেন, সন্ত্রাস করতে হলে জীবন হাতে নিয়ে এসো, তোমাদের কোনো ছাড় নেই। অবরোধের এই কয়েক দিনে মিঠাপুকুরে পাঁচজনসহ সারাদেশে ২৪ জনকে মেরে ফেলা হয়েছে। ২০১৩ সালের মতো আবারও একটি গোষ্ঠী শান্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অবরোধকারীরা যা করছে, তা রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

ইতিমধ্যে জামায়াত প্রভাবিত এবং নাশকতা হচ্ছে এমন কয়েকটি জেলায় যৌথ অভিযান আরও জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্বৃত্তদের হাতেনাতে ধরে তাৎক্ষণিক সাজা দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় রয়েছে। অবরোধ চলাকালে হামলায় এ পর্যন্ত ২৩ জন নিহত হয়েছে। গাড়িতে অগি্নসংযোগ করা হয়েছে ২৩৪টি। ভাংচুর চালানো হয়েছে সহস্রাধিক যানবাহনে। নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন কয়েকশ’।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির অভিযানে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ১২ জনকে। গতকাল পর্যন্ত ১৫টি জেলায় বিজিবি সক্রিয় ছিল। জামায়াত প্রভাবিত এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে চলছে যৌথ অভিযান। বগুড়া, রংপুর, নোয়াখালী, রাজশাহী, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ফেনীসহ আরও কিছু জেলায় নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাস-ট্রাক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এলাকায় পরিবেশ শান্ত রাখতে তাদের সহায়তা কামনা ছাড়াও নানা অভয় দেওয়া হচ্ছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful