Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২০ :: ১১ মাঘ ১৪২৬ :: সময়- ১ : ৪৩ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / যে প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার হতে পারেন খালেদা জিয়া

যে প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার হতে পারেন খালেদা জিয়া

Khaleda_zia-1 সালমান তারেক শাকিল: বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের গ্রাউন্ড তৈরি হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারি থেকে তার ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের নাশকতায় এ পর্য়ন্ত অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব নাশকতার হুকুমের আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পন্থা খতিয়ে দেখছে সরকার।

তবে সরাসরি কোনও মামলায় গ্রেফতার না দেখিয়ে খালেদা জিয়াকে কঠোর নিরাপত্তায় একটি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নজরবন্দি রাখার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে নিয়মিত এ সংক্রান্ত বৈঠক চলছে।

এরইমধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও জোর দিয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে অবরোধে নাশকতায় মানুষ হত্যার হুকুমের আসামি করা হোক। একদিন পর বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, খালেদাকে গ্রেফতার করা হবে যুক্তিযুক্ত।

সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের উচ্চ পর্যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আওতাধীন একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে বিএনপি-জামায়াতের দুজন দায়িত্বশীল নেতা মনে করেন, ‘সরকার তার রাজনৈতিক কৌশল থেকে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের কথা বলছে। আদতে গ্রেফতার করবে না। এটি সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে। চলমান আন্দোলন যতটুকু জনসংশ্লিষ্টতাবিহীন, সেটি কেটে যাবে। পতন নিশ্চিত হবে।’

জানা গেছে, সর্বশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়া চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকার ঘোষণা দেওয়ার পরই কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী প্রকাশ্যেই তাকে গ্রেফতারের কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও বলেছেন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হবে। এই প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের জন্য ‘যৌক্তিক কারণ’ খুঁজছে সরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে এ বিষয়ে ‘গ্রিন সিগনাল’ পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, গত ১৭ দিনে অবরোধে সারা দেশে নিহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। এই নিহতদের পরিবারের মধ্যে কয়েকজনের পরিবার ও স্বজনদের দিয়ে মামলা করানো এবং সেই মামলায় হুকুমের আসামি করিয়ে গ্রেফতার করা হতে পারে খালেদা জিয়াকে।

মামলার উদ্যোগ সরকারের তরফেই হবে বলে জানা গেছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ এ প্রচেষ্টা সফল হওয়ারও চেষ্টা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে ১৪ দলীয় জোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‌’নাশকতা, পেট্রোল বোমার আঘাতে মানুষ হত্যার প্রধান ইন্ধনদাতার অভিযোগে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবি সারা দেশের মানুষের। তবে বিগত কয়েকদিনের অবরোধ যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্বজনদেরই মামলা করতে হবে। সরকার তো আর মামলা করবে না। সরকার উদ্যোগ নিতে পারে মাত্র।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সারা দেশের চলমান এই নাশকতার সঙ্গে যারা জড়িত, যারা এর যোগানদাতা এবং যারা নির্দেশদাতা, এই তিন ক্যাটাগরির অপরাধীদের বিরুদ্ধেই আাইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যারা জড়িত আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনশঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। আমরা সে দাবি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। আমি অপরাধ করলে আমার বিরুদ্ধে যেমন আইন ব্যবস্থা নেবে, তেমনি আরেকজন মানুষ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধেও আইন ব্যবস্থা নেবে। এক্ষেত্রে কে কোন পর্যায়ে আছে সেটি বিবেচ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি মনে করে, তাদের কাছে তথ্য প্রমাণ থাকে, তারা যে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে খালেদা জিয়াকে এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে কী না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি তো সেটি বলি নাই। সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপার। সেটা তো আমাদের বিষয় নয়।’ তবে সংসদে সরকারি দলের পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবি ওঠেছে, জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সংসদে দাবি ওঠতেই পারে। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠলে গ্রেফতার করা হতে পারে। যে পদেরই হোকনা কেন। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এসব নাশকতা বন্ধের দাবি জানিয়েছি।’

জানা যায়, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবি এসেছে প্রথমে সরকারের শরিক একটি দলের প্রভাবশালী মন্ত্রীর কাছ থেকে। এরপর কয়েকজন মন্ত্রী প্রকাশ্যে দাবি ওঠিয়েছেন হুকুমের আসামি করতে। এরপর প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করার ঘোষণা দেন। এরপরই চিত্রপট পাল্টে যায়। সংসদের বাইরে থেকেও আওয়াজ ওঠে বিএনপিনেতাকে গ্রেফতারের।

পাশাপাশি রাজপথেও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে আন্দোলন ও খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবি ওঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় ঘেরাও করেছে কয়েকটি সংগঠন। দাবি করেছে দুই দিনের মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার করারও। এছাড়া আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে চলমান অবরোধ ও অবরোধকে কেন্দ্র করে নাশকতায় মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে।

গত দুই দিনে জাতীয় সংসদে এমপিরাও তার গ্রেফতারের দাবি উঠিয়েছেন। খালেদাকে গ্রেফতারের দাবিতে ওয়াক আউটের ঘটনাটিও এ প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানা গেছে। এছাড়া গ্রেফতারের বিষয়টি যৌক্তিক বলেও সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেও এ বিষয়ে শক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

গত কয়েকদিন আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছিলেন, অবরোধ ও হরতালের নামে নাশকতা চালানোর হুকুম দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা উচিত সরকারের।

সরকারের একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রমতে, অবরোধ নিহতের পরিবারকে দিয়ে মামলার আসামী করা হলেও সরাসরি গ্রেফতার করা নাও হতে পারে খালেদা জিয়াকে। এক্ষেত্রে গ্রেফতারের বিকল্প হিসেবে রাজধানীর একটি কঠোর নিরাপত্তাধীন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হবে। আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রও বিষয়টি জানিয়েছে।

তবে খালেদো জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকার কি কারণে গ্রেফতারের আওয়াজ উঠাচ্ছে সেটি তারাই বলতে পারবে। সরকার রক্তপাত চায় না, কেউই চায় না। এখনও আমরা আশাবাদী সংলাপ, সমঝোতা, যোগাযোগ সবকিছুই হবে। রক্তপাত তো কেউই পছন্দ করে না।’

খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলে কী প্রভাব পড়তে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে পেশায় সাবেক এ আমলা বলেন, ‘প্রভাব তো পড়বেই। কি ধরনের পড়বে, সেটি আগামী দিনে বোঝা যাবে।’

তবে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলে আন্দোলন আরও চাঙা ও জনসংশ্লিষ্ট হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভোট ও জোটশরিক জামায়াতে ইসলামীর একজন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। বৃহস্পতিবার রাতে আলাপকালে তিনি জানান, ‘ম্যাডামকে গ্রেফতার করা হলে আন্দোলন আরও চাঙা হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের এখনও যারা আন্দোলন থেকে দূরে এবং সাধারণ মানুষ যারা বিএনপিকে ভালবাসে তারাও রাজপথে নামবে। এটি সরকারের জন্য বুমেরাং হবে, এটি করবে না। গ্রেফতারের আওয়াজ তোলা রাজনৈতিক কৌশলমাত্র।’ বাংলাট্রিবিউন

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful