Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ০৩ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / সাঈদীর ফাঁসি বনাম এ যুগের বঙ্গবন্ধু

সাঈদীর ফাঁসি বনাম এ যুগের বঙ্গবন্ধু

 সজিব তৌহিদ

আমি একাত্তর দেখি নি, পুস্তকে, জদুঘরে, পত্রিকায়, টেলিভিশনে, ব্লগে এবং ফেসবুকে দেখিছি মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকা । যা দেখেছি, যা পড়েছি , যা শুনেছি তা যদি আমি অবিশ্বাস করি তাহলে আমার জন্মকে অবিশ্বাস করা হবে। আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হবে। বাঙালি ও বাংলাদেশি স্বত্তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে, প্রতারণা করা হবে। তাই আমি ও আমরা একাত্তর এবং একাত্তরের শত্রু ঘাতক, দালাল, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীর সাথে আপোস করে জতীয় বেঈমান হতে পারি না। সেই বেঈমানী বর্তমানে  করছে বিএনপি যা ১৯৯৬ সালে করেছিল আওয়ামী লীগ। প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির কথা এখানে না আনা ভালই। অতএব, রাজনীতিক স্বার্থের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ বিএনপির মধ্যে কোন ফারাক নেই। আওয়ামী সরকার স্বার্থের প্রয়োজনে যেমন যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ঠিক একই প্রয়োজনে বিএনপি বিচারের জন্য মাথা ঘামাচ্ছে না । বলতে গেলে বিচার না হওয়ার পক্ষে। যদি অস্থিত্বে ঘা লাগতো তবে বিএনপিও আওয়ামী লীগের মত উঠে পড়ে গুটি কয়েক রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য পাগল হয়ে যেত।

যাহোক, ইতোমধ্যে দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হলে সারা দেশ একদিকে যেমন আনন্দে উদ্দ্বেলিত হয় । অন্যদিকে জামায়াত-শিবির ও সাঈদী ভক্ত মানুষের তাণ্ডবে তাল-মাতাল হয়ে উঠে সারা বাংলাদেশ। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত হন এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হন। যখন ভাবি দেশের বিখ্যাত মাওলানা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বক্তা, বুজর্গ ব্যক্তি দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হয়েছে তখন বুকের ভিতর একটা মিহি ব্যাথা অনুভব করি। আবার যখন বোধোদয়ে সত্যটা উপলদ্ধি করি, একাত্তরের ৩০ বছরের এক যুবক দেল্লু রাজাকারের নেতৃত্বে দেশের নিরীহ বাঙালি নারী ধর্ষিত হয়েছে, অসংখ্য মানুষ ঘর ছাড়া হয়েছে, নৃশংসভাবে মানুষ খুন হয়েছে। দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, লেখক হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের বাবা পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমান কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই ঘাতক নরপশুর ফাঁসির খবর শুনে কার না আত্নতৃপ্তিতে মনটা ভরে উঠবে…?

যাহোক, দুই দলের দলাদলি আর গালাগালি যতই হোক না কেন, তাদের কারো স্বার্থ থাক আর যাক। দেশের সাধারণ দেশপ্রেমী মানুষ কিন্তু ৪২ বছরের চাপা ক্ষোভ ও শোককে সাহসে পরিণত করতে সমর্থ হচ্ছেন। যা ২০১৩ সালকে  ইতিহাসের পাতায় শক্তিশালী আসন দিচ্ছে। আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার কয়েকদিন পর যখন ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লা ওরফে কসাই রাজাকারের যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় হলো । তখনই শুরু হলো আন্দোলন। ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্টদের সে আন্দোলন সূত্রপাত ঢাকার শাহবাগ চত্বর থেকে হলেও তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। সে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ব্লগার ও অনলাইন একভিস্টের আহবায়ক ইমরান এইচ সরকার। যাকে নিয়ে জামায়াত শিবির নানা অপপ্রচার ও কটূক্তি করেছে। যা কেউ কেউ বিশ্বাস করলেও আমি কম্পিন কালেও বিশ্বাস করি নি। কারণ ইমরান এইচ সরকার কে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভালোভাবে চিনি এবং জানি। আমি যখন কারমাইকেল কলেজে পরতাম তখন তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নি করতেন। ওই সময় আমরা ‘দি ডেইলি স্টার ’ পত্রিকার পাঠক ফোরাম ‘দি ডেইলি স্টার রিডারর্স ক্লাবে ’র সদস্য ছিলাম। তখন ডেইলি স্টারের রংপুর প্রতিনিধি বর্তমানের মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক রফিক সরকারের ডাকে এবং ইমরান এইচ সরকার ( ইমরান ভাই) এর নেতৃত্বে প্রতি শুক্রবার জাহাজ কোম্পানী মোড়ে ছয় তালায় আমরা স্পোকেন ইংলিশ, ডিবেট, প্রেজেন্ট স্পিচ ডেলিভারি এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ইংজেতি আলোচনা করতাম। উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশকে নিয়ে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার উন্নয়ন। ২৫-৩০ জনের সে দলটির সদস্যরা আজ কে কোথায় আছে জানি না। নাহিদ ভাই, সুমন ভাই, সান ভাই, জিয়া ভাই, নূরজাহান আপু, রফিক ভাই অনেকের কথাই আজ মনে পড়ে নিরবে। আমাদের দলটির সবার মধ্যমণি ছিলেন ইমরান ভাই। সবাই কে মাতিয়ে রাখতেন। যেমন ফাজিল, তেমন দুষ্ট প্রকৃতির এবং চটপটে। তার আন্তরিকতা এবং মিশুকতার কারণে বড় ভাই হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০০৯ সালে ’ দি ডেইলি স্টার সেলিব্রেটিং লাইফ’ এর প্রগ্রামে রংপুর জেলা স্কুল অডিটোরিয়ামে কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবীর গানের অনুষ্ঠান শেষে আমরা ভলেন্টিয়াররা রাত দেড়টার দিকে সিসিলি রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে গিয়ে ঠাণ্ডা ভাত-তরকারি দিয়ে খাওয়ার সময় বারো মিশ্যালি গল্পে হাসতে হাসতে কুটকাট হয়েছিলাম। হঠাৎ ইমরান ভাই ঢাকায় চলে এলেন আমাদের দলটিও ভেঙ্গে গেল। মনে হলো, ’দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না/ সে যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।’ তরপর কিছুদিন মোবাইলে তার সাথে যোগাযোগ থাকলেও পরে নাম্বার টা হারিয়ে ফেলি। যাহোক, আমি যখন ঢাকায় আসি তার মাস খানেক পড়ে শুরু হলো শাহবাগের আন্দোলন। সে আন্দোলনের নিরব গর্বিত অংশীদার আমি নিজেও। ব্লগার হিসেবে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন থেকে আমার সরব অংশগ্রহণ ছিল। এরই মধ্যে আমি যে দৃশ্য দেখলাম তাতে অবাগ ও বিস্মিত হলাম। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের তরুণ প্রজন্মের মুখপাত্র হিসেবে প্রতিদিন ইমরান এইচ সরকারের বক্তব্য, কর্মসূচির ঘোষণা এবং প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন লেখালেখি আর সাক্ষাৎ দেখে বিশ্বাসই করতে পারি না। এই সেই ইমরান ভাই যার সাথে আমার জিগরি সম্পর্ক ছিল। মানুষ কেমন করে ঘটনা প্রবাহে সময়ের আবর্তনে আর সাহসিক উদ্যোগে বিখ্যাত হয়ে যান। ইমরান সরকার তার জলন্ত উদাহরণ। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের এখন আইকনে পরিণত হয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর উপজেলর ছেলে ইমরান এইচ সরকার। কেবলি মনে পড়ে তিনি কোথায় আর আমি কোথায়…? তাকে এখন বিশ্বের মানুষ চেনে আর আমাকে পাশের বাজারের ফকিরটাও চেনে না। তার আহবানে এখন হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ মানুষ মহা সমাবেশে যোগ দেন। দেশের কোটি-কোটি মানুষ তিন মিনিট নিরবতা পালন করেন, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন, আকাশে ঠিকানায় চিঠি লেখেন, বেলুন উড়িয়ে দেন। একজন যুবকের ডাকে যেমন ঝাকে ঝাকে মানুষ সাড়া দেন  রায়ের বাজার থেকে মিরপুর। মিরপুর থেকে মতিঝিল। মতিঝিল থেকে যাত্রাবাড়ি। অত:পর জাগ্রত গোটা দেশ। এর সাথে কেবল ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর সাথেই তুলনা মেলে। বহুকাল পর এরকম একটা গণজাগরণের চাক্ষুষ দৃশ্য দেখে বুকটা গর্বে ভরে যায়। নেতৃত্বের এমন একনিষ্ঠতা, সহিষ্ণুনতা, তারুণ্যের এমন শক্তি ও বলিষ্ঠতা দেখে আমাদের সাহস আরো বহুগুণে বেড়ে যায়। মনে হয় দু:খিনি দেশটার সত্যিই গুণগত পরিবর্তনের খুব বেশি দেরি নেই। ইমরানের মত লক্ষ তরুণ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জেলা-উপজেলায় তৈরি হয়েছে। এই ছেলেমেয়ারা বাংলাদেশের হাল ধরলেই অচিরেই দেশটা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে অত:পর দুনীর্তিমুক্ত, ভেজালমুক্ত, দূষণমুক্ত হয়ে উন্নতদেশের দিকে এগিয়ে যাবে। শাহবাগের আন্দোলন শুধু রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে ইতিহাসের দায় মেটাচ্ছে না। বরং দেশের আনাচে-কানাচে ইমরানের মত সাহসি দক্ষ নেতা ও নেতৃত্ব তৈরি করছে। সময়ের আবর্তনে শাহবাগ আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ হবে এবং একদিন সে আন্দোলন শেষ হবে। কিন্তু আমরা যেন আবার দেশের স্বার্থে দশের স্বার্থে জাতীয় কোন ইস্যু নিয়ে মাঠে নামতে পারি । শাহবাগের মত দেশের অসংখ্য প্রজন্ম চত্বর থেকে প্রতিবাদ জানাতে পারি। দল-মত নির্বিশেষে রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে এসে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা যেন না হারিয়ে ফেলি। এই নিবেদন এ যুগের বঙ্গবন্ধু ইমরান এইচ সরকার ও তরুণ প্রজন্মের সকল সহযোদ্ধাদের প্রতি।
লেখক: ব্লগার ও সাংবাদিক

 

 

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful