Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০ :: ২০ আষাঢ় ১৪২৭ :: সময়- ২ : ৩০ অপরাহ্ন
Home / পাবনা / প্রয়োজনীয় জনবল নেই পাবনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে

প্রয়োজনীয় জনবল নেই পাবনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে

nmnhhপাবনা: মানুষের মৌলিক কয়েকটি অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু দেশে জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গ্রামাঞ্চলের কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক থাকলেও কোন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কোথায় পাওয়া যায় তা জানেন না অধিকাংশ মানুষ। এছাড়া টেলিমেডিসিন সম্পর্কেও বাস্তব কোনো ধারণা নেই সাধারণ জনগণের।

পাবনা জেলায় স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) চালানো এক জরিপে এসব তথ্য উঠে আসে।

সুপ্র এই জেলার যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিরীক্ষা চালিয়েছে, তার মধ্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে।

সূত্র মতে, ১৮০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা জেনারেল হাসপাতালকে পরে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। এখনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি। এ হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে তা রোগীদের কাজে লাগছে না। রোগীদের এক্স-রে করার প্রয়োজন হলেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন- বাইরে থেকে ডিজিটাল এক্স-রে করতে হবে। হাসপাতালের অর্ধ কোটি টাকা দামের শক্তিশালী জেনারেটর চালানো হয় না জ্বালানি ও অপারেটরের অভাবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না করায় তা নষ্ট হতে চলেছে। আর বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতে রোগীদের মোবাইল, টাকা, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটছে অহরহ।

প্রতিদিন শিশু, গাইনিসহ বিভিন্ন বিভাগের রোগীর চাপে হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কয়েক বছর আগে পাবনা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলেও এখনো এর কোনো নিজস্ব হাসপাতাল নেই। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালকেই মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পাবনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৬টি শয্যা রয়েছে। এই শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে ২০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয় এক হাজার ৪৫০ শিশু। এদের মধ্যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বিভিন্ন উপজেলা ও বাড়িতে প্রসব হওয়ার পর রোগীর অবস্থা জটিল হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক্ষত্রে সবার  সুস্থ হওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে অনেকেরই মৃত্যু হয়।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের শয্যা সংখ্যা ৩৬টি। এই সিটের বিপরীতে রোগীর সংখ্যা দেড় থেকে ২০০। গেল ফেব্রুয়ারিতে গাইনি বিভাগে ভর্তি হন এক হাজার ১৭১ জন গর্ভবতী মা।

নাদেরা (৩৫), ফরিদা (২০), হাসিনা (২৩), পাঞ্জাব (১৮), আয়েজ উদ্দিন (৬০), আবুল হোসেন (৫০), রেজাউল (১২), জহুরুল ইসলাম (৫৫) ও খাদিজাসহ (৩০) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আন্তঃ ও বহির্বিভাগের অনেক রোগীই সুপ্রকে জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক নেই। এছাড়া নোংরা টয়লেট ও বাথরুমের সমস্যা তো রয়েছেই। এছাড়া হাসপাতালের খাবারের মানও খুব খারাপ। এর ওপর রয়েছে দালালদের উপদ্রব।

তারা জানান, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রকট। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। এক্স-রে,  আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি ইত্যাদি পরীক্ষা করতে সব সময় বহিরাগত দালালদের শরণাপন্ন হতে হয় তাদের।

হাসপাতালের সেবিকা (নার্স) স্বপ্না রানী দাস জানান, হাসপাতালে বরাদ্দকৃত ওষুধ প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ নয়। এছাড়া লোকবলেরও অভাব রয়েছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও সব সময় ঠিকমতো সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।

হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মিনহাজ উদ্দিন জানান, দক্ষ জনবলের অভাবে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সেবাদান করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে বিদ্যুতের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই বলে স্বীকার করেন তিনি।

হাসপাতালের আরএমও ডা. তরিকুল ইসলাম সুপ্রকে জানান, হাসপাতালের বরাদ্দ আরো ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনোয়ার উল আজিজ সুপ্রকে বলেন, সারা দেশের ন্যায় পাবনায়ও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। সরকার এরই মধ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলাগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা করছে। এটা বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

জেলার ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শহর থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় এখানে চিকিৎসকরা আসতে বা থাকতে চান না। চিকিৎসক থাকলেও সপ্তাহে দুই/একদিন আসেন কর্মস্থলে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সময়েও রোগীদের কথা না শুনে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তারা। এছাড়া প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও  আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই এখানে। বিদ্যুৎ সমস্যা তো আছেই। এছাড়া চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অধিকাংশ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়।

একই অবস্থা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরও। এখানে সেবা নিতে আসা শাহিন (৩০), সাহেব আলী (৩৫), হাশেম মিয়া (৭০), মালেকা (৩০), মনোয়ারা (২৭), শিউলী খাতুনসহ (৫০) অনেকে জানান, এখানে অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে সব চেয়ে বড় সমস্যা হলো- সব সময় চিকিৎসক থাকেন না। সপ্তাহে দুই/তিনদিন আসেন শহর থেকে।

সুপ্রর পাবনা জেলা সম্পাদক এম এ ছালাম জানান, দেশের সরকারি স্বাস্থ্য সেবার বর্তমান অবস্থা ও সমস্যাগুলো নিরুপণ করার লক্ষ্যে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে জরিপ চালিয়েছে। জরিপে উঠে আসা চিকিৎসা ক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কিছু সুপারিশও করেছে সুপ্র।

জরিপের ভিত্তিতে পাবনায় চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের জন্য সুপ্র কিছু সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো-
সরকারি বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসালয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্র সরবরাহ করতে হবে। সরবরাহকৃত ওষুধের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীদের খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে। হাসপাতালে টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মা ও শিশুর সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মস্থলে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। রিপ্রেজেন্টেটিভ ও বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে।

তাদের নির্দেশনাগুলো সরকার বাস্তবায়ন করলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো দূর হবে ও সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful