Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ৫৩ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / যান জটের নগরী রংপুর : বিপর্যস্ত জনজীবন

যান জটের নগরী রংপুর : বিপর্যস্ত জনজীবন

শাহ্‌ রিয়াদ আনোয়ার,রংপুর : দেশের সপ্তম বিভাগীয় শহর এবং দশম সিটি কর্পোরেশন রংপুর এখন যান জটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক ছাড়িয়ে যানজট এখন অলি গলিতেও। যান জটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে নগরীর প্রধান সড়কের মাঝখানে সম্প্রতি বসানো লাইট পোস্ট গুলি। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলীদের মৌখিক নির্দেশনা ও চিঠি পাঠানোর পরও বসানো লাইট পোস্ট গুলি সরিয়ে না নেয়ায় যানজট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিনভর অসহনীয় যানজটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলে যানজটের দুঃসহ অবস্থা । বিশেষ করে স্কুল কলেজ ও অফিসগামী মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বেশী। এ সব কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ক্রেতাদের আসতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে এক ঘণ্টা লেগে যায়। এ অবস্থা নগরীর প্রধান সড়কের পৌর বাজার থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত । এছাড়াও কারমাইকেল কলেজ সংলগ্ন লালবাগ রেল ক্রসিং, স্টেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড রেল ক্রসিংয়েও যানজটে আটকা পড়ছে মানুষ। রিক্সা সাইকেলে চড়া তো দুরের কথা পায়ে হেটেও অনেক সময় পাঁচ মিনিটের পথ ৩০ মিনিটে যাওয়া সম্ভব হয় না।

রংপুর নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, মডার্ন মোড় থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত নগরীর প্রধান সড়কের দু’ধার ও ফুটপাত অবৈধভাবে ব্যবসায়ী ও হকাররা দখল করে রেখেছে । তারা তাদের দোকানের মালামাল ফুটপাত দখল করে সাজিয়ে রেখেছে। হকাররা ফুটপাত দখল করে পণ্যের পসরা সাজিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। পথচারীদের অভিযোগ, রিক্সা ও সাইকেলের মেকাররা রাস্তার উপর তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর ডিসির মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা আরো শোচনীয়। ট্রাফিক পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে মুখ ফিরিয়ে নেয়। রসিক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে দীর্ঘদিন অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়না।

রংপুর শহরে লাইন্সেসধারী রিক্সার সংখ্যা ২০ হাজার হলেও এর সংখ্যা তিন গুনের বেশী। ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার অনুমোদন রয়েছে দুই হাজার। কিন্তু এর সংখ্যা এখন সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে রসিক সূত্রে । বয়োজ্যেষ্ঠ রিকশাওয়ালা সালাম মিয়া জানান, গত ২৭ বছর ধরে রংপুরে রিক্সা চালিয়ে আসছি কিন্তু এখন যানজটের জন্য শহরের ভিতর রিক্সা নিয়ে ঢোকাই যায় না। এমনকি অনেক যাত্রী ভিতরের গলি পথ দিয়ে যেতে চান জলদি পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু সেসব রাস্তাতেও যানজট। আগের চেয়ে শহরে মানুষের সংখ্যাও বেড়ে গেছে তেমনি রিক্সার সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু শহরের প্রধান রাস্তা আজ থেকে ২০ বছর আগে যেমন ছিল এখনও ঠিক তেমনি আছে। সাথে অটো রিক্সার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তেমনি বাড়ছে যানজট।

এদিকে রংপুর শহরের যানজট প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)’র প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম জানান, ‘‘সওজের সড়ক প্রশস্তকরণ বিভাগ ১৬ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের অর্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পর এখন জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী পরিষদের (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশোধিত এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।’’

এদিকে রংপুর শহরের যানজট প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)’র প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম জানান, ‘‘রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ চার লেন বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণে মাষ্টার পান তৈরী করা হয়েছে। যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের জুন মেয়াদে চার লেন বিশিষ্ট সড়ক উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়। শহরের ভেতর দিয়ে আট দশমিক ২৪ কিলোমিটার ও বাইপাস সড়কে ৮ কিলোমিটার মোট ১৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন। প্রকল্পে রয়েছে নগরীর মডার্ন মোড়, শাপলা চত্বর, পৌর বাজার হয়ে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত মূল সড়ক ৬৫ ফুট প্রশস্তকরণ। এর মধ্যে মূল রাস্তা ৫০ ফুট, ডিভাইডার আড়াই ফুট, ডিভাইডারের পাশে ইনার হার্ড ফোল্ডার এক ফুট, ড্রেন ও ফুটপাথ তিন ফুট প্রশস্ত করা হবে। চলমান পাঁচটি প্যাকেজে চুক্তি মূল্য ধরা হয় ৫৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তবে শহরের ভেতর দিয়ে একটি প্যাকেজের দরপত্র এখনো বাকি রয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১১১ কোটি নয় লাখ টাকা।’’

এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সরানোর জন্য জেলা প্রশাসক ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা দাখিল করেন। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) অনুমোদিত ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা । এখানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (আরইবি) বিভিন্ন স্থাপনা সরানোর জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে পিডিবিকে ৩০ লাখ, বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে (বিটিসিএল) ২৫ লাখ এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে (রসিক) ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল মোড় থেকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান সাদেকুল ইসলাম।

ডাক বাংলোর পরের অংশ থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত কাজ শুরু না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এখনো জমি বুঝে পাইনি। তবে ডাকবাংলো থেকে পায়রা চত্বর পর্যন্ত যে অবকাঠামো রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করার পর যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আমরা পেয়েছি। কাজ শুরু হলেই তাদেরকে অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’’

স্মরণ কালের ভয়াবহ যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসীর প্রত্যাশা খুব দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শেষ করা হবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful