Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ১৫ অগাস্ট, ২০২০ :: ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ০০ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / বিলুপ্ত ছিট (পর্ব ৪): নতুন বাংলায় শঙ্কা কাটছেনা শাহানাজদের

বিলুপ্ত ছিট (পর্ব ৪): নতুন বাংলায় শঙ্কা কাটছেনা শাহানাজদের

sahnajআবু সাঈদ, পাটগ্রাম থেকে : ছোট্ট বেলায় থেকে বাবা আমাকে মিথ্যা পরিচয়ে প্রাইমারীতে র্ভতি করিয়ে দেন। তখন বুঝতাম না, স্কুলে র্ভতি হতে পরেছি এটাই খুশি। তখন স্কুলের কেউ ছিটের মেয়ে বললেও তেমন একটা লজ্জা লাগতো না। ছিট টা আবার কি সে টা বুঝতাম না, পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছি। মাধ্যমিকে যখন পরি তখন বুঝতে পারি যে আমরা ছিটবাসী। কিন্তু মাধ্যমিকে গিয়ে মিথ্যে পরিচয়ে পড়া-লেখা করার লজ্জাটা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জীবনকে অনেকটাই দুর্বিসহ করে তুলেছিল। এমন মনে হয়ে ছিল পড়াশুনা করে কি হবে ? কিন্তু স্বপ্ন ছিল পড়াশুনা করে বড় হওয়ার । তাই পড়াশুনা ছেড়ে থাকতে পারিনি।

গত ৩১ আগাস্ট রাত ১২ টা ১ মিনিটের আগেও আমি ছিলাম ছিটমহলের বাসিন্দা। সেই সুবাধে ভারতীয় বলতো অনেকেই। কিন্তু এখন আমি বাংলাদেশী। আমাকে আর পরিচয় নিয়ে কখনো বিব্রতবোধ করতে হবে না-এভাবে কথাগুলো বলছিল লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বিলুপ্ত ১১৯ নং ছিটমহলের বাঁশকাটা এলাকার মাষ্টার্স পড়–য়া শাহনাজ পারভীন।

বাবা আব্দুস সাত্তার আর মা মেরিনা বেগম এতদিন ছিটের বাসিন্দা হলেও ছেলে মেয়ে দের পড়া-লেখা করাতে সাহস যুগিয়েছেন সবসময়।

তাই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতেই নিজের ঠিকানা গোপন করে মিথ্যা পরিচয়ে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, পরে রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজ থেকেই অনার্স ডিগ্রী লাভ করে শাহনাজ পারভীন। বর্তমানে ওই কলেজের মাস্টার্সে পড়ছেন ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রী নেয়া শাহনাজ পারভীন রাষ্ট্র এবং নাগরিক বিষয়টি খুব ভাল করেই জানে ও বোঝে। এজন্য “ছিটমহল” শব্দটি তাকে এতদিন বার বার বিচলিত করে তুলেছিল। তাই রাষ্টহীন ওই ভূখন্ডে জন্ম নেয়া শাহনাজ তার জীবনে ভাবনার অতল সাগরে ডুবিয়ে ছিল। ছিটের অধিবাসী হওয়ার কারণে জীবন চলার পথে বার বার বঞ্চিত হতে হয় বলে জানান তিনি।
চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেকটা বিষন্ন মনেই উত্তর দেন শাহানাজ পারভীন। একে একে পাঁচবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরিবারের অবলম্বন হিসাবে চাকুরী নামক সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছি। কিšুÍ না, তা আর ধরা দেয়নি। তারপর আবার বলেন, মৌখিক পরীক্ষা শেষে চুড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় কোথাও আমার নাম ও রোলটি নাই।

মৌখিক পরীক্ষায় কি যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি-অবশ্যই দেয়ার চেষ্ঠা করেছি। প্রায় সব প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর করেছি-বলছিলেন শাহনাজ। এরপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, “আমরা তো তখন ছিটের মানুষ ছিলাম। আমাদের চাকুরীর জন্য সুপারিশ করার লোক না থাকাটাই স্বাভাবিক”। এভাবে কথা বলছিলেন শাহনাজ পারভীন।

Lalamonirhat- shahanaz-p-3শাহনাজের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, পাঁচ ছেলে- মেয়ের মধ্যে শাহনাজ তৃতীয়। সবাই পড়াশোনা করেছে আর বিয়ে দিয়েছি এক মেয়ে। ছিটের বাসিন্দা হওয়ায় এতদিন পাশ্ববর্তী গ্রাম মোমিনপুরেরর ঠিকানা ব্যবহার করেই ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করানো হয়। ওই ঠিকানায় বড় ছেলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকুরি করছে। শাহানাজ যেমন মাস্টার্সে পড়ছে তেমনি ছোট মেয়ে ঈশিতা পাটগ্রাম টিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত করছে।
কৃতিত্বের সাথে অনার্স পাশ করে শাহানাজ । পাঁচ বার সরকারী চাকুরীর লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীন লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেও চাকুরী জুটেনি-বলছিলে বাবা আব্দুস ছাত্তার।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষনার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শাহনাজ। সেখানেও বরাবরের ন্যায় লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে গত ১ জুলাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। এখন তো আমি বাংলাদেশী, তাই এবার কি আমার চাকুরীটা হবে ?

শাহানাজ পারভীনের মতো বিলুপ্ত ছিটের অসংখ্য ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করছে। তারা এখন বাংলাদেশী এটা সত্যি। কিন্তু নতুন বাংলাদেশী হয়ে শাহানাজের চাকুরীতে কি কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে? পরিবারের অবলম্বন হিসেবে শেষ পর্যন্ত চাকুরীটা জুটবে নাকি অধরাই থেকে যাবে- এমন শঙ্ক যেন কিছুতেই কাটছে না শানানাজ পারভীনের।

এদিকে পাটগ্রামের বিলুপ্ত ১১৯ নং বাঁশকাটা ছিটমহল এলাকা পরিদর্শণে এসেছিলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান খান । তিনি অবশ্য সেদিন শাহনাজের বার বার পরীক্ষা দিয়েও চাকুরী না পাওয়ার বিষয়টি নিজ কানে শুনেছেন। পরে সাংবাদিকদের সামনে ছিটবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আপনার পড়াশোনা করেছেন, এটা সত্যিই গর্বের বিষয়। তাই দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে বঞ্ছিত ছিটবাসীদের জন্য চাকুরীর ক্ষেত্রে সরকারের কাছে বিশেষ কোটা চাইবো আমি।

শাহানাজ পারভীন জানায়, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান খানের কথাগুলো আমার মনে আশা জাগায়। এবার যদি সত্যি সরকার আমাদেরকে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন তাহলে দেশের উন্নয়নে আমরাও অংশীদার হতে পারবো”।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful