Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ :: ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ৫৯ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / জামায়াতই সব জঙ্গিগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক

জামায়াতই সব জঙ্গিগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হলে জামায়াত-শিবির চক্রের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের শীর্ষ আলেমরা। তাদের মপূলিশ-আলেম বৈঠকতে, জেএমবি ও আনসারুল্লাহসহ যত জঙ্গি সংগঠনের নাম শোনা যায়, সব সংগঠনেরই পৃষ্ঠপোষক ও মুরুব্বি জামায়াত। আর যে দেশে এমন একটি উগ্রবাদী দল রয়েছে, সেদেশে নতুন করে আইএস-এর মতো জঙ্গি সংগঠনের প্রয়োজন নেই বলে মতপ্রকাশ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা : বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক। সভায় উপস্থিত শীর্ষ আলেমদের নেতৃত্ব দেন শোলাকীয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। মতবিনিময় সভায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শীর্ষ আলেমরা বলেন, আইএস-এর চেয়েও নৃশংস ও নিষ্ঠুর জামায়াত-শিবির। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এ জামায়াত-শিবির চক্রকে দমন করা না গেলে এ দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে না। আর দেরি না করে এখনই এ চক্রের বিরুদ্ধে আলেমদের একযোগে মাঠে নামার পরামর্শ দেন তারা।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে মতবিনিময় সভায় দেশের এই শীর্ষ আলেমরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। এর বেশিরভাগ অভিমতের সঙ্গে পুলিশ প্রধানসহ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা একমত পোষণ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, দেশে-বিদেশে যারা ইসলামের নামে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছেন, তারা ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমন। তারা ইসলামের যে ক্ষতি করছেন, আবু লাহাব ও আবু জাহেলও সেই ক্ষতি করতে পারেননি। শিগগিরই দেশের এক লাখ আলেমের স্বাক্ষর সংবলিত একটি ফতোয়া জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেওয়ারও প্রস্তাব করেন তিনি।

মাওলানা মাসউদ বলেন, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর হাত ধরে অনেক আগেই এ অঞ্চলে উগ্রমতবাদ ও জঙ্গিবাদের বিস্তার শুরু হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত জামায়াত মহান মুক্তিযুদ্ধে যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, সেটা বর্তমান আইএস নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতাকেও হার মানিয়েছিল। যেদেশে এমন একটি দল বা গোষ্ঠী থাকে, সেখানে আইএস-এর প্রয়োজন নেই। ইসলামের নামে তারা স্বার্থ হাসিল করতে চায় বলেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করারও দাবি জানান তিনি।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেমদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা মাসউদ বলেন, আর চুপ করে বসে থাকার সময় নেই। আইএস হোক আর জামায়াত হোক, তাদের বিরুদ্ধে ঈমানি দায়িত্বের কারণেই মাঠে নামতে হবে। নিজেদের আত্মরক্ষার জন্যও এটা প্রয়োজন। তারা বিকৃত চেতনার মানুষ। বেহেশতে হুর পাওয়ার আশায় তারা আপনাদের গলায়ও ছুরি চালাতে পারে। মসজিদে ও ওয়াজ-মাহফিলে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।

এর আগে দেশের বিভিন্ন মসজিদ কমিটিতে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সদস্য ও জঙ্গিদের মদদদাতা রয়েছেন, জানিয়ে আলেমরা বলেন, কমিটিগুলোকে নজরদারিতে এনে তাদের চিহ্নিত করে কমিটি থেকে বের করে দিতে হবে। না হয় ইমামরা মসজিদে নির্ভয়ে কথা বলতে পারবেন না। তাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না। এজন্য তিনি পুলিশ প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইফী বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাস করছেন, মানুষ মারছেন, তাদের সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশেও যারা গাড়িতে আগুন দিয়ে, পেট্রোলবোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা করেছেন, তারা কারা, এটা সবার জানা। তারা হচ্ছে জামায়াত-শিবির। তাদের গায়েই আইএস-এর গন্ধ রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও আলেমরা সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে বগুড়া থেকে ঢাকায় আসেন মাওলানা কাজী ফজলুল করিম। তিনি বলেন, এক মুহূর্তের জন্যও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে ইসলাম সমর্থন করে না। কোরআন ও হাদিসের খণ্ডিত অংশ উদ্বৃত করে জঙ্গিবাদীরা অপব্যখ্যা দিচ্ছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কোরআন ও হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে একটি পুস্তিকা সারাদেশের ইমামদের মধ্যে সরবরাহ করার পরামর্শ দেন তিনি। একইসঙ্গে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আলেমদের দূরুত্ব কমানোরও পরামর্শ দেন।

মহানবী (সা.) এর ওপর তায়েফে আক্রমণ, মক্কা বিজয়, হুদায়বিয়ার সন্ধি ও বিদায় হজের ভাষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রাজধানীর সার্কিট হাউজ জামে মসজিদের মসজিদের ইমাম মাওলানা আরিফ উদ্দিন মারুফ বলেন, ইসলাম কখনও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না। পুলিশ ও আলেমদের সমন্বয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়, জেলা ও থানা পর্যায়ে কমিটি গঠন সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে বোঝানোর পরামর্শ দেন। যুব সমাজের মানুষের মানসিকতা গঠনে লেখালেখি করার জন্যেও আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাওলানা আব্দুল হক বলেন, ইসলাম সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, মানুষের জানমালের ক্ষতি করা সমর্থন করে না। মানুষকে সত্য পথে চলা, সৎ কাজ করার পরামর্শ দিতে হবে। তিনি প্রত্যেক জেলায় আলেমদের নিয়ে এ ধরনের সভা করার পরামর্শ দেন।

ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান মাওলানা শওকত সরকার।

মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে একবিন্দু রক্তের সন্ধানও কোথাও পাওয়া যাবে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে আত্মঘাতী হামলা ও রক্তপাতের কোনও স্থান নেই।

মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে, তার সঙ্গে আলেমদের কোনও সম্পর্ক নেই। মুসলমানদের সুনাম নষ্ট করার জন্য ইসলামের শত্রুরা এ সব করছে।

মাওলানা রুহুল আমিন খান উজানি বলেন, যারা জঙ্গিবাদের উসকানি দেন, তারা সত্যিকারের মুসলমান নন। জঙ্গিবাদের মূল উৎপাটনের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

পরে পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় সব সহযোগিতা করা হবে জানিয়ে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত আলেমদের আশ্বস্ত করে বলেন, মসজিদে ইমাম সাহেবরা খুতবায় কী বলবেন, সেটা পুলিশ কিংবা সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। তবে, খুতবা দেওয়ার আগে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইমামদের বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, আলেমদের নিয়েই এ দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হবে। মতাদর্শের কারণে একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে নাস্তিক ও মুরতাদ বলতে পারেন না। বোমা মেরে গুলি করে, জবাই করে হত্যা করতে পারেন না। তিনি বলেন, এদেশে এক সময় চরমপন্থী, সর্বহারা, নকশাল আন্দোলন হয়েছিল। বহু তরুণের মগজ ধোলাই করে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হননি। পরে তারা শান্তির পথে ফিরে এসেছেন। কোনও ব্যক্তি কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কিছু লিখলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন আইজিপি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful