Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ :: ৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ৫৭ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বশির চাচার সঙ্গে মিরপুরে সেদিন কী হয়েছিল?

বশির চাচার সঙ্গে মিরপুরে সেদিন কী হয়েছিল?

basir2ডেস্ক: সারাক্ষণই তার মুখে লেগে থাকে হাসি! তিনবার স্ট্রোক হলেও সেই হাসির জীবনীশক্তিতেই এখনো সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ৫৯ বছর বয়সী এই পাকিস্তানি। কিন্তু সেই মানুষটিই এখন কেমন যেন ভয়ে কুকড়ে গেছেন! কিছু বলতে গিয়ে দুবার ভাবছেন ‘বশির চাচা’ নামের ধোনি ভক্ত এই সেলেব্রেটি দর্শক। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে ঘটে যাওয়া ‘দুর্ঘটনা’ মুখের সেই চেনা হাসিটাও কেড়ে নিয়েছে।

শুক্রবার যখন তার দল পাকিস্তান লড়ছিল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তখন ভিআইপি গ্যালারিতে চুপচাপ বসে থাকলেন। প্রথমে মুখ খুলতেই চাইলেন না। তারপর বললেন, ‘দেখুন, ওইদিন যা হয়েছে তা কেবলই অতীত। আমি বরং সেই ঘটনা ভুলতে চাই।’

কেন ভুলতে চাইছেন? প্রশ্নের উত্তরে বশির চাচা বলতে থাকলেন, ‘দেখুন এ নিয়ে তিনবার এসেছি বাংলাদেশে। এমন ঘটনার মুখোমুখি কখনো হতে হয়নি। এশিয়া কাপের ম্যাচে সেদিন পাকিস্তানের পতাকা দিয়ে তৈরি পোশাক পড়ে মাঠে এসেছিলাম। হাতেও ছিল আমার দেশের পতাকা। কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই আমার হাত থেকে সেটা দু’জন এসে জোর করে কেড়ে নিলেন। অন্যরা অবশ্য প্রতিবাদ করল। কিন্তু কাজ হয়নি।’

ফেসবুকে এরইমধ্যে বশির চাচার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে গেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে-মিরপুরের স্থানীয় এমপি ইলিয়াস মোল্লা’র উপস্থিতে কয়েকজন মিলে পাকিস্তান এই ক্রিকেট ভক্তের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা জড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেকে এমন উগ্র জাতীয়তাবাদের সমালোচনাও করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

প্রসঙ্গটা উঠতেই মার্কিন প্রবাসী এই ভক্ত উর্দুতে বলতে শুরু করলেন, ‘দেখুন আমার মনে হয় না ওই এমপি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি বরং আমার সঙ্গে ভাল আচরণ করলেন। কিন্তু দুজন যুবক আমাকে বললেন পাকিস্তানের পতাকা সরাও। আর তুমি এখান থেকে সরে যাও। আমি বললাম, কেন সরাব? বলল- যে মাঠে ভিভিআইপি কেউ আছেন, আজ পাকিস্তানের ফ্ল্যাগ উড়ানো যাবে না। এরপর জোর করে আমার পতাকা কেড়ে নিল। আমি এরপর এক কোনায় চলে গেলাম। তারপরই একজন এসে বাংলাদেশের পতাকা ধরিয়ে দিল আমার হাতে। বুকে আরেকটি পতাকা জড়িয়ে দিল।’

ঘটনায় চমকে গিয়েছিলেন তিনি! তবে ম্যাচ শেষ হতেই যখন পাকিস্তান হেরে গেল তখন ইচ্ছেকৃতভাবেই নাকি বাংলাদেশের ফ্ল্যাগ হাতে তুলে নিয়েছিলেন বলে জানালেন ভারতের এক নারীকে বিয়ে করা এই পাকিস্তানি। বললেন, ‘যখন বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে গেল, তখন আমার বন্ধু টাইগার basir1শোয়েব আলীর কাছ থেকে পতাকা নিয়ে উড়াতে থাকলাম। দেখুন তখন কেউ বলেনি বাংলাদেশের পতাকা উড়াও। আমি নিজের ইচ্ছেতেই এটা করেছি।’

তবে এভাবে পতাকা কেড়ে নেওয়া ঘটনায় বিমর্ষ বশির চাচা। বলছিলেন, ‘আসলে এমনটা প্রত্যাশা করিনি। কিন্তু এ জন্য বাংলাদেশের সবাইকে তো আর দোষী করা ঠিক হবে না। আমি বলব ওই দুই যুবক যারা আমার হাত থেকে পতাকা কেড়ে নিয়েছিল, তারা ছাড়া প্রত্যেকেই ভাল।’

একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি কাঁদছেন। এই প্রসঙ্গ উঠতেই বললেন, ‘না, ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে তা সত্য নয়। পাকিস্তান হেরে যাওয়াতেই মনটা খারাপ ছিল। এ জন্যই আমি কেঁদেছি। অন্য কিছু নয়। বাংলাদেশ জেতায় আমি খুশি।’

ইচ্ছে আছে বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল ম্যাচটাও দেখে যাবেন। তার আগে কী কোন ভয় কাজ করছে? মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছ থেকে টিকিট নিয়ে খেলা দেখতে আসা বশির চাচা বলছিলেন, ‘না, কোনো ভয় নেই মনে। এরইমধ্যে সেই এমপি’র সঙ্গেও দেখা হয়েছে। তিনি চমৎকার মানুষ। দেখুন দুই-তিনজন খারাপ মানুষের জন্য সবাইকে গালমন্দ করা ঠিক হবে না। এখানে আমি বেশ নিরাপদেই আছি। বিসিবির পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি খোঁজখবর রাখছেন আমার। আমি একজন বুড়ো মানুষ। অনেকেই আমাকে বেশ সাহায্য করছেন।’

১৯৭১ সালের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গটাও টেনে আনলেন বশির চাচা। বলছিলেন, ‘আসলে ১৯৭১ সালে যা হয়েছিল তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখিত। সেই কথা আর তুলতে চাই না। এ জন্য পাকিস্তানকে আল্লাহ এরইমধ্যে শাস্তি দিয়েছে।’

মজার ব্যাপার হল- ভারতের জামাই বলে পরিচিত এই বশির চাচা এখন বাংলাদেশ বন্দনাতেই আছেন। মুখে বলছেন ভয় পাচ্ছেন না। কিন্তু রোববার ফাইনালে কাকে সমর্থন জানাবেন, জানতে চাইলে বিব্রত হলেন। বললেন, ‘কেন, বাংলাদেশকেই সমর্থন দেব।’ ধোনির অন্ধ ভক্তের মুখের এই কথা যে হৃদয়ের না সেটা বুঝতে মনোবিজ্ঞানী হওয়া লাগে না!

খবর-পরিবর্তন ডটকম

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful