Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০ :: ১১ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৫৪ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন; হুমকির মুখে বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত বাঁধ

অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন; হুমকির মুখে বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত বাঁধ

NEWS-1 P C (2)রবিউল হাসান, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) থেকে: লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সীমানা ঘেঁষে প্রবেশ করেছে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী। এর প্রবেশ দ্বারে তিস্তা তীরবর্তি হাজার হাজার মানুষ বছরের পর বছর ধরে নদীর করাল গ্রাসে হারিয়েছেন বসতবাড়ি আবাদি জমি, নি:স্ব হয়ে অনেকে দিনমজুরী করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বর্ষা এলেই পানি বন্দি হয়ে পড়ে চরাঞ্চলের বিস্তির্ণ এলাকাগুলো। 

এলাকাটি সীমান্তবর্তি হওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দুটি ক্যাম্পও ছিল হুমকির মুখে। ফলে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ও বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কয়েক দফা বৈঠকের পর সেখানে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাঁধ নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী সীমান্ত বাঁধ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চর খড়িবাড়ী এলাকায়। কিন্তু এর অদূরেই তিস্তা নদী থেকে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’ ব্যবহার করে ওই পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর মাঝখানে বালু জমাট হয়ে পাহাড় সমান হয়েছে। এতে করে নদীর পানি প্রবাহ বাধা গ্রস্থ হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে নির্মাণাধীন সীমান্ত বাঁধটি। এ কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চরখড়িবাড়ি এলাকার পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিনটি ও পাটগ্রাম উপজেলার একটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বিজিবি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র মতে, স্থানীয়রা নানা ভাবে দেন দরবার আর দাবি করেও ভারত রাজী না হওয়ায় সীমান্তবর্তী ওই এলাকাটিতে বাঁধ নির্মান করা সম্ভব হয়নি। ২০১২ সালে সেখানে বাঁধ তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় বিজিবি’র রংপুর সেক্টর। ওই বাহিনীর পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়। একসময় সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সাথে এ নিয়ে যোগাযোগ করা হয় বাঁধ তৈরীর ব্যাপারে। বিষয়টি দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের দিল্লির বৈঠকেও উঠে আসে। এক পর্যায়ে বিএসএফ সীমান্তের শূণ্য রেখায় বাঁধ তৈরি করতে বাংলাদেশকে অনুমতি দেয়। ফলে সীমান্ত নদী সংরক্ষন প্রকল্পের আওতায় সেখানে বাঁধ তৈরির বিষয়ে সবকিছু চুড়ান্ত করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ওই সীমান্তের ৭৯৮ নম্বর মেইন পিলার থেকে বাংলাদেশ তৈরি করবে ৬৪০ মিটার আর ভারত করবে ২০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ। বাঁধ নির্মাণে বিজিবি-বিএসএফ চুক্তি করার পর ৬৪০ মিটার বাঁধ তৈরির জন্য দরপত্র আহবান করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড । এরপর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ তৈরি ও তীর সংরক্ষণ উপকরণ সরবরাহের জন্য ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকায় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। শুরু হয় বাঁধ নির্মাণ কাজ। ফলে ওই এলাকার হাজার মানুষ নতুন করে বেঁচে থাকা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। তবে তাদের সেই স্বপ্ন যেন ধিরে ধিরে ফিঁকে হয়ে যাচ্ছে। কারণ যেখানে বাঁধটি তৈরি করা হচ্ছে তার পাশেই নদীতে বসানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’। যা দিয়ে বিরতিহীনভাবে তোলা হচ্ছে পাথর ও বালু। এতে নির্মানাধীন বাঁধটি হুমকির মধ্যে পড়েছে বলে আশংকা করছে পাউবো, বিজিবিসহ এলাকার মানুষজন।
নিবার নির্মাণাধীন বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদীর বাম তীরে ভারতের কাঁটাতার ঘেষে এগিয়ে চলছে নির্মান কাজ। বাঁধের অদূরেই নদীর মাঝখানে বিশালকায় বালুর স্তুপ। দূর থেকে দেখতে অনেকটা পাহাড়ের মতো। এলাকাবাসীরা জানান, ওই স্থানে নিষিদ্ধি বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর তোলা হচ্ছে নদী থেকে। ফলে বিশাল আকারে বালুর স্তুপ জমেছে সেখানে। এতে করে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে নদীর পানি প্রবাহ। হুমকির মুখে পড়েছে নির্মাণাধীন সীমান্ত বাঁধটি।

Hatibandha Photo-01এদিকে গত ২৩ মে রংপুর বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল নেয়ামুল ইসলাম ফাতেমী বীর প্রতীক নির্মাণাধীন বাধঁটির কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে এলে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ বোমা মেশিন বন্ধের দাবী জানান। একই কারণে প্রতিবাদ জানান বিএসএফ। নদী থেকে এভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে ভারতীয় অংশের বাঁধও হুমকিতে পড়েছে বলে বিএসএফ বিজিবির কাছে দাবী তোলেন। সেক্টর কমান্ডার অবৈধ বোমা মেশিনগুলো জব্দের নির্দেশ দিলে ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি বোমা মেশিন জব্দ করে কাষ্টমসে জমা দেয় বিজিবি। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানা একটি মামলা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল নেয়ামুল ইসলাম ফাতেমী বীর প্রতীক জানান, তিস্তা নদীর এ অংশের ভাঙ্গন রোধে বিএসএফর সাথে সমঝোতায় ২০১২ সালের নভেম্বরে সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ী বাঁধ নির্মিত হয়। পরে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ও বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাঁধ নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়। জিরো লাইনের ওপারের ২০০ মিটারে বাঁধ নির্মাণে ভারত ও এপারে ৬৪০ মিটারে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করছেন।
অপরদিকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে নির্মানাধীন বাঁধের পাশে মানবন্ধন করেছে এলাকাবাসীরা। ওই মানবন্ধনে অংশ নেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী পাটগ্রামের বাউড়া ও নীলফামারী জেলার চর খড়িবাড়ি ইউনিয়নের মানুষজন।
এলাকাবাসীদের ভাষ্য মতে, এখানে বাঁধ না থাকায় তারা ২০০৮ সাল থেকে সারা বছর পানি বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন। নির্মাণাধীন বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে লালমনিরহাটের তিনটি ও নীলফামারী জেলার একটি ইউনিয়নের ৮০-৯০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই তারা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের ভুমিকা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্যাহ জানিয়েছেন, তিস্তা নদী থেকে যেভাবে অবৈধ পাথর তোলা হচ্ছো তাতে করে নদীর মাঝখানে পাহাড় আকারে বালুর স্তুপ পড়েছে। এর ফলে আসন্ন বর্ষায় পানি প্রবাহের গতি পথ পরিবর্তনের কারণে নির্মাণাধীন বাধঁটি ভেঙে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া(পওর) কার্যালয়ের উপ-সহকারি প্রকৌশলী একেএম সুরতুজ্জামান জানান, বাঁেধর দুই কিলোমিটারের মধ্য নদী থেকে পাথর ও বালু তোলায় নির্মানাধীন বাঁধটি চরম হুমকিতে পড়েছে। জানা গেছে ওই এলাকার কতিপয় ভুমি দস্যু স্থানীয প্রশাসনের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে এই অবৈধ বোমা মেশিন চালু করেছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful