Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ :: ৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১ : ৫৬ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / চাকুরী হারাচ্ছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৩’শ শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী !

চাকুরী হারাচ্ছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৩’শ শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী !

bru bস্টাফ রিপোর্টার: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি’র (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দলীয়করণ আত্মীয়করণ এবং পারিবারিক-করণে নিয়োগ পাওয়া ৩৪৩ জন শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী চাকুরিচ্যুত হওয়ার আতংকে ভুগছেন। যে কোন মুহূর্তে তাদের চাকুরিচ্যুত করা হবে এমন অজানা অশংকায় তাদের দিন কাটছে।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অসন্তোষ বেড়েই চলছে। যে কোন মুহূর্তে আন্দোলনের ঘণ্টা বেজে উঠতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে এ বিষয়ে এখনই কোন সিদ্ধান্ত নয়। ইউজিসির সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ এসব নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদন না দিলে করার কিছুই থাকবে না।
পদের চেয়ে লোক বেশী লোক নিয়োগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে টাকা না থাকায় দু’মাসের বেতন বন্ধ ছিল। মিডিয়াতে লেখালেখি হওয়ায় কোনমতে গতকাল রোববার ১ মাসের বেতন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখনও ১ মাসের বেতন বাকি রইল। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।
মঞ্জুরি কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ২৬১টি পদের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর বিপরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩৩৬ জন। এর মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক পদে ৮২ জন, কর্মকর্তা পদে ৬৫ জন, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী পদে ১১৪ জন অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ভিসি প্রফেসর আব্দুল জলিল মিয়া ওই পদের বিপরীতে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষক পদে ৯২ জন, কর্মকর্তা পদে ৮০ জন এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী পদে ১৬২ জনকে নিয়োগ দেন। ৯২ জন শিক্ষক ছাড়াও এ্যডহকে আরো ১২ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।
সূত্রটি আরো জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন ২৬১ পদের অনুমোদন দিলেও সাবেক ভিসি অতিরিক্ত আরো ৩০২ জন নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়াও আরো এ্যডহকে আরো ১৫/২০জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। অন্য সবার বেতন গতকাল দেয়া হলেও সর্বশেষ নিয়োগ পাওয়া ১৫/২০জনকে বেতন দেয়া হয়নি। এ নিয়ে গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে বেশ তোলপাড় ছিল। কেন বেতন দেয়া হলো না এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারসহ কয়েকজন কর্তা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের সুপারিশ-কারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬১ পদের বিপরীতে ৩৩৬ জন নিয়োগ দেয়া হলেও ২০১৩ সালে এসে গণ-নিয়োগ দেয়া শুরু করেন সাবেক ভিসি প্রফেসর আব্দুল জলিল মিয়া। সব মিলে ২৬১ পদের বিপরীতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৬৪৮জন শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী।
জানা গেছে, সাবেক ভিসি প্রফেসর আব্দুল জলিল মিয়ার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা। তাদের সাথে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে তাঁর এসব অনিয়ম দুর্ণীতির কারণে এক দফা আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এ আন্দোলন ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর বাহিরে চলে নানা পরিকল্পনা। এসিড সন্ত্রাস এবং শিক্ষকরাও বেধড়ক লাঠি পেটার শিকার হন। সংগত কারণেই নয়া এ বিশ্ববিদ্যালয় পৌনে ২ মাস বন্ধ রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আন্দোলন আরো তীব্রতর হলে অনেকে সুযোগ নেন। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসির একান্ত আস্থা-ভাজন বেশ ক’জন কর্তা এবং কিছু রাজনীতিবিদ তাদের স্বার্থ হাসিল করেন। শুরু করেন গণ-নিয়োগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে জনশ্রুতি আছে, এই গণ-নিয়োগের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় কর্তা ব্যক্তির ৫/৭ জন, ৩য় কর্তা ব্যক্তির ১২/১৫ জন নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়াও সাবেক ভিসিকে একান্ত নিকটাত্মীয়দের আবদার শুনতে হয়েছে। তাদের পক্ষে নিয়োগ দেয়া হয়েছে আন্ত:ত আরো ৩০ জনকে। এদিকে সুযোগ হাত ছাড়া করেননি কয়েকজন রাজনীতিবিদ। তারাও বেশ কিছু লোককে নিয়োগের জন্য জোড় সুপারিশ করেছেন। তাদের সুপারিশের অধিকাংশ জনদের চাকুরী হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালের এই গণ-নিয়োগের সময় বয়সের কোন ভ্রুক্ষেপ করা হয়নি। কোন চাকুরীর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হবার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
জানা গেছে, এসব গণ-নিয়োগ দেয়ার পর তাদের বেতন নিয়ে চলে ঝুট ঝামেলা। অনেক সময়ই এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিতে চাননি সাবেক ভিসি। অবশ্য পরে দিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আমলে সর্বশেষ নিয়োগ পাওয়া ১৫/২০জনকে গতকাল বেতন দেয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, সাবেক ভিসিকে অব্যাহতি দেয়ার পর ক্যাম্পাসে জোড়ে সোরে আলোচনা শুরু হয় নিয়ম বহির্ভূতভাবে তার আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে। আশংকা করতে থাকেন যে কোন মুহূর্তে তাদের নিয়োগ বাতিল হতে পরে। এমনকি প্রথমে তাদের নিয়োগ দেয়ার পর বেতন দেয়া হলেও নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। এমন অনেক কথা শোনা গেছে। যদিও সেটির কোন লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সবশেষে নয়া ভিসি প্রফেসর ড. নূর-উন নবী যোগ দেবার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। পদের চেয়ে লোক বেশী নিয়োগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল প্রায় শূন্যের কোটায় চলে আসে। বন্ধ থাকে দু’মাসের বেতন। সর্বশেষ অনেক চড়াই উৎরাই শেষে গতকাল ১ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের মুখপাত্র ড. আর এম হাফিজুর রহমান সেলিম জানান, আমরা দাবী করে আসছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে। সেটি শেষ পর্যন্ত আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। তিনি বলেন, আমরা ভিসি মহোদয়কে বলেছি, নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম অনুযায়ী চলবে। আপনি সেটা করবেন, এমন আশাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী এবং শিক্ষার্থী ছাড়াও রংপুরবাসীর। তিনি সে বিষয়ে অশ্বস্ত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ এসব নিয়োগ বাতিলের জন্য জোড় সুপারিশ চলছে। সম্ভবত এসব নিয়োগ বাতিল করে নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা অনুসারে লোক নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful