Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৩ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৩৩ পুর্বাহ্ন
Home / বিনোদন / নায়কদের দিনকাল

নায়কদের দিনকাল

hero’৯০ দশকের শুরুতেই এহতেশামের হাত ধরে চলচ্চিত্রে এসে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন নবাব বংশের সন্তান নাঈম। খাজা নাঈম মুরাদ। এহতেশামের ‘চাঁদনী’ দিয়ে শাবনাজকে সঙ্গে নিয়ে চলচ্চিত্র জগত জয় করা নায়ক নাঈম প্রথম ছবির সাফল্যের পর একাধারে অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেন। এক সময় প্রেম করে বিয়ে করেন শাবনাজকে। পিতা হন দুই কন্যা সন্তানের। তারপর ধীরে ধীরে সরে যান অভিনয় থেকে। এক সময় তিনি টেলিভিশনের জন্য নাটক নির্মাণও করেন। কিন্তু এখন ব্যস্ত পৈতৃক ব্যবসা এবং টাঙ্গাইলে বিভিন্ন খেলাধুলা নিয়ে। মায়ের সূত্রে টাঙ্গাইল করটিয়া জমিদার বাড়ির সন্তান। বর্তমানে অভিনয় নিয়ে খুব বেশি ভাবনা-চিন্তা না করে ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত নাঈম। তার পাশাপাশি একই সময়ে চলচ্চিত্রে আসেন ওমর সানি। সুদর্শন ওমরসানি প্রথম ছবি ‘চাঁদের আলো’-তেই বড় সাফল্য পান। তারপর থেকে অ্যাকশন এবং রোমান্টিক দুই ধারার ছবিতেই ব্যাপক ব্যস্ততা এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরে মৌসুমীর মতো নায়িকাকে কাছে পেয়ে আরও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হয়ে পড়েন কাজের প্রতি অসচেতনও। এক সময় ভালবেসে বিয়ে করেন মৌসুমীকে। সালমান শাহ’র আকস্মিক মৃত্যুর পর ধারণা করা হয়েছিল ওমরসানি শীর্ষস্থানেই থাকবেন। কিন্তু ব্যর্থতা এবং ষড়যন্ত্র, সেই সঙ্গে কাজের প্রতি অমনোযোগিতা সবকিছু মিলিয়েই চলচ্চিত্র জগত থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন তিনি। এক সময় একেবারেই সরে যান। কয়েক বছর বিরতির পর ওমরসানি ভিলেন হিসেবে পর্দায় আবির্ভূত হন। এখানেও সাফল্য পান। কিন্তু নায়ক হিসেবে সাফল্যের স্বাদটুকু ভুলতে না পারার কারণে আবার নায়ক হওয়ার সংগ্রামে লিপ্ত হন। এক্ষেত্রে প্রধান শত্রু শরীরের বাড়তি মেদকে ঝরিয়ে বর্তমানে আবার নায়ক হিসেবে পথচলা শুরু করেছেন। পাশাপাশি টেলিভিশনের জন্য নাটক প্রযোজনা করছেন এবং ফ্যাশন হাউজের ব্যবসা করছেন। সালমান জামানা শেষ হওয়ার পর একই সঙ্গে সিনেমায় আসেন রিয়াজ ও ফেরদৌস। দুজনই চুটিয়ে কাজ করেন। ব্যস্ততা, সাফল্য, অর্থ, যশ, খ্যাতি সবই দুজনের কাছে এসে ধরা দেয়। মান্নার আকস্মিক মৃত্যুর পর ধারণা করা হয়েছিল চলচ্চিত্র শিল্পের হাল ধরার ক্ষেত্রে রিয়াজ-ফেরদৌস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। কিন্তু তারা পারেননি। পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং চরিত্রের প্রতি যত্নশীল না হওয়ার কারণে একের পর এক ব্যর্থতা রিয়াজকে রীতিমতো চলচ্চিত্র থেকে বিদায় করে দেয়। তিনি বর্তমানে একটি গৃহায়ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বর্তমান ব্যস্ততা তার এই চাকরি নিয়েই। ফেরদৌস দুই বাংলায় অভিনয় নিয়ে মোটামুটি ব্যস্ত। ছবি প্রযোজনাও করছেন। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবেও বেশ ব্যস্ত। ঢাকার সিনেমায় খুব বেশি কাজ না থাকলেও কলকাতার সিনেমা সহ ঢাকার বিভিন্ন রিয়েলিটি শো’র বিচারক হিসেবে ব্যস্ততা ফেরদৌসের দিনকালকে ভালই রেখেছে। সালমানের পর সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে এসেছিলেন আরেক সুদর্শন নায়ক শাকিল খান। প্রচুর সম্ভাবনা ছিল তার মধ্যে। পপির সঙ্গে প্রথম ছবি ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সুপারহিট হওয়ার পর নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছিল শাকিল খানকে নিয়ে। কিন্তু কাজের প্রতি অমনোযোগী, পপিকে জড়িয়ে নানা স্ক্যান্ডাল ইত্যাদি কারণে নির্মাতাদের বিশ্বাস হারান সুদর্শন এই নায়ক। চলে যান সিনেমা ছেড়ে। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন বলে মাঝে-মধ্যে শোনা গেলেও সিনেমায় তার ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা কেউ দেখছেন না। সোহানুর রহমান সোহানের ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন শাকিব খানের। নৃত্যপরিচালক আজিজ রেজার ভাই পরিচয়ে এবং তার অকৃপণ সহযোগিতায় মাসুদ রানা শাকিব খান নাম ধারণ করে চলচ্চিত্রে অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেন। প্রথমে দ্বিতীয়, তৃতীয় নায়ক হিসেবে অসংখ্য ছবিতে কাজ করার পর পরে প্রধান নায়ক হিসেবে শাকিব দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেয়ার রেকর্ড সৃষ্টি করেন। ব্যস্ততা, জনপ্রিয়তা, দাপট ইত্যাদি সবদিক দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে তিনি। কয়েকটা বছর চলচ্চিত্রে শাকিবের অবস্থা ছিল এই রকম- তিনি যা বলতেন তাই করতে প্রযোজক-পরিচালকরা বাধ্য হতেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তেমনটি আর হচ্ছে না। দর্শক বিমুখ হওয়ার কারণে রেকর্ড অঙ্কের পারিশ্রমিক নেয়া শাকিব খান এখন ছবির খরায় ভুগছেন। পারিশ্রমিক কমিয়েও সুবিধা করতে পারছেন না দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারণে। প্রযোজক পরিচালকরাও আগের মতো তার কথা শুনছেন না। বর্তমানে বেশ সঙ্কটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছেন শাকিব খান। আরেক নায়ক কাজী মারুফ। পিতা কাজী হায়াৎ-এর হাত ধরে ‘ইতিহাস’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে এসে প্রথম ছবিতেই শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছিলেন। মান্নার অবর্তমানে অ্যাকশন ছবিতে নতুন আশার সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হন তিনি। প্রচুর কাজ করেছেন- সাফল্য-ব্যর্থতা দুটোই পেয়েছেন। তারপরও মান্নার মতো শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারেননি। বর্তমানে হাতে তেমন ছবিও নেই। তার পিতা কাজী হায়াৎ ঘোষণা দিয়েছেন পিতাপুত্রের সামপ্রতিক ‘ইভটিজিং’ কাজী হায়াৎ পরিচালিত শেষ ছবি। এরপর কাজী হায়াৎ আর কোন ছবি বানাবেন না। সিদ্ধান্তে যদি কাজী হায়াৎ অটল থাকেন তাহলে চলচ্চিত্রে টিকে থাকার জন্য কাজী মারুফকে নতুন করে ভাবতে হবে। চলচ্চিত্রের সঙ্কটময় মুহূর্তে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন ডিপজল। সাফল্যও এসে ধরা দিয়েছিল দ্রুত। একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দেয়ার পরও ডিপজল হঠাৎ করেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নেতা হয়ে আরও বিপাকে পড়েন। সবার প্রিয় এই মানুষটি হয়ে ওঠেন বিতর্কিত। নানা ঘটনা আর ক্ষোভে অভিমানে সরে আছেন চলচ্চিত্র থেকে। এখন তার অবস্থান বাসা আর ফুলবাড়িয়ার ফাহিম স্টুডিওর নিজস্ব অফিসে। ছবি দেখে, গান শুনে আর জিম করে সময় কাটে তার। বর্তমানে একটি টিভি চ্যানেলে চলচ্চিত্র বিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু চলচ্চিত্র থেকে তার মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারণে পুরো চলচ্চিত্র শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে চলচ্চিত্রবোদ্ধারা অভিমত ব্যক্ত করেন। তার এই রহস্যজনক মুখ ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি এখন চলচ্চিত্রের প্রধান আলোচনার বিষয়।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful