Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ১৯ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বেনসন, গোল্ডলিফ সিগারেট থেকে দিনে ১৩১ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

বেনসন, গোল্ডলিফ সিগারেট থেকে দিনে ১৩১ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

sigarateফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ রিপোর্টার: রংপুরসহ সারাদেশে গেলো ৫ দিন ধরে প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেনসন সিগারেট ২০ টাকা এবং গোল্ডলিফ সিগারেট ১১ টাকা বেশী দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে বাড়তি দামে এই সিগারেট কোম্পানিটির বিরুদ্ধে প্রতিদিন সারাদেশ থেকে অতিরিক্ত নিচ্ছে প্রায় ১৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এভাবে প্রতিদিন সারাদেশে এই দুই ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি করে ব্রিটিশ টোব্যাকো ১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিলেও কাস্টমস নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে সারাদেশের প্রায় ২০ লাখ খিলিপান দোকানী চরম বেকায়দায় পড়েছেন। এদিকে অবৈধ বাড়তি দাম নিয়ে ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানী এবং খিলিপান দোকানিরা এখন মুখোমুখি।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, গত ৭ জুন হঠাৎ করেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বেনসন সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের মূল্য ১৪২ টাকা থাকলেও ২০ টাকা বেশীতে ১৬১ টাকা ৯০ পয়সা এবং গোল্ডলিফ সিগারেট ৭৯ টাকা থাকলেও ১১ টাকা বেশীতে ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা দরে বাজারজাত হতে থাকে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলাসহ সারাদেশে। কিন্তু সিগারেটের গায়ে এই বাড়তি দামের কথা লেখা থাকে না। ওই দিন থেকেই পরিকল্পিতভাবে ব্রিটিশ টোব্যাকোর এই ব্র্যান্ড দুটির কৃত্রিম সংকট করা হয় বাজারে। বাড়তি দাম দিলে পাওয়া যায়, নইলে বলা হয় সরবরাহ নেই।

সূত্র জানায়, ব্রিটিশ টোব্যাকোর বগুড়াস্থ ডিপোর অধীনে উত্তরাঞ্চলের আরএম, টিও, ডিএমও, জোন ইন-চার্জ ও এসআরসহ সারাদেশের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডিস্ট্রিবিউটরা পাইকারী বিক্রেতাদের সাথে যোগসাজশ করে প্রতি প্যাকেটে বেনসন সিগারেটে ২০ টাকা এবং গোল্ডলিফ সিগারেটে ১১ টাকা বেশিতে খিলিপান দোকানীদের কিনতে বাধ্য করছে।

সূত্র জানায়, এভাবে কোম্পানী ও ডিস্ট্রিবিউটরা প্রতিদিন রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে বেনসন সিগারেট থেকেই ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেয়। এই হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার ৫ দিনে ১৬৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় কোম্পানিটি। এই বাড়তি টাকায় এই অঞ্চল থেকেই গেলো ৫ দিনে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এভাবে কোম্পানিটি সারাদেশ থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত নিচ্ছে প্রায় ১৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রতিদিন সারাদেশে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে ১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আর গেলো ৫ দিনে কোম্পানিটি সারাদেশ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৬৫৬ কোটি টাকা। সরকারকে ফাঁকি দিয়েছে ৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকার রাজস্ব।

ডিস্ট্রিবিউটদের একাধিক সূত্র জানায়, একদিনের সিগারেটের জন্য কোম্পানীর ৩ দিনের সিগারেট মজুত রাখার নিয়ম। সে হিসেবে বাজেটে দাম বাড়লে প্যাকেটের গায়ে বাড়তি দাম ছাড়া এমআরপি থাকতে পারে ৩ দিন। অভিযোগে প্রকাশ, বাজেট পরবর্তী দুই-আড়াই মাস সময়ে কোম্পানী সরকারকে কর ফাঁকি দিতেই পরিকল্পিতভাবে আগে থেকেই বাজারে মজুদের বিপরীতে সরবরাহ কম দেয়। এভাবে বিপুল পরিমাণ মজুত গড়ে তোলা হয় বাজেট পরবর্তী আড়াই মাসের জন্য। সরকারের কাছ থেকে যেহেতু ব্যান্ড রোল কিনেই সিগারেট বাজারজাত করা হয়, সেকারণে দৃশ্যত তখন রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি সরকারের নজরে আসে না। এভাবে প্রসেসিং জটিলতা দেখিয়ে বাজেট পরবর্তী দুই-আড়াই মাস ধরে পুরোনো কম দরের সিগারেট বাজারে বেশী দরে বিক্রি করা হয়।

এভাবে প্রতিবছর বাজেট পরবর্তী আড়াই মাসে শুধু উত্তরাঞ্চলেই কোম্পানিটি বেনসন সিগারেট থেকে অতিরিক্ত হাতিয়ে নেয় ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা। সারাদেশ থেকে এর পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ওপরে। এভাবে প্রতি বছর সরকারকে ১ হাজার ৩২০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয় দেশের বৃহত্তম করদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বিষয়টি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কাস্টমসও এ বিষয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ করে না।

এদিকে বেনসন ও গোল্ডলিফ সিগারেট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তা ও উত্তরাঞ্চলের সকল খুচরা ব্যবসায়ী তথা ক্ষুদ্র খিলিপান দোকানীরা। আগে প্রতিটি বেনসন সিগারেটের শলাকা ৮ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা গ্রাহকদের কিনতে হচ্ছে ৯ টাকায়। এ নিয়ে দোকানদারদের সাথে প্রতিদিনই ঝগড়া ঝাটি, বচসা এমনকি মারপিটের ঘটনা ঘটছে গ্রাহকদের।

রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডের খিলিপান দোকানী সাদেকুল ইসলাম জানান, ভোক্তারা এখন চালাক। তারা প্যাকেটের গায়ে এমআরপি লেখা দেখেই সিগারেট ক্রয় করে। কিন্তু বেনসন ও গোল্ডলিফ সিগারেটের গায়ে মূল্য নির্ধারণ ছাড়াই ২০ ও ১১ টাকা বাড়িয়ে দেয়ায় আমাদেরকেও বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা সেটা মানতে চাইছেন না। এনিয়ে একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমার দোকানে বেচাকেনাও কমে গেছে। এই অবস্থা আর কিছুদিন চলতে থাকলে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবার পরিজন নিয়ে আমাকে পথে বসতে হবে।

রংপুর খিলিপান দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হক ব্যাপারী জানান, গত ৮ জুন দিন থেকে ব্রিটিশ টোব্যাকোর বেনসন সিগারেট ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪২ টাকার স্থলে ১৬২, গোল্ডলিফ সিগারেট ৭৯ টাকার বিপরীতে ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা নেয়া শুরু হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটের সুপারভাইজারকে বলি। এবং প্যাকেটের গায়ে মূল্য নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত আগের দর ১৪২ টাকায় বেনসন ও ৭৯ টাকায় গোল্ডলিফ বিক্রির দাবী জানাই। কিন্তু তারা কর্ণপাত করছে না। প্রতি বছর বাজেটের পরেই তারা এই কাজটি করে থাকে। এবং বাজেট পরবর্তী ২ থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুধু প্যাকেটের গায়ে মূল্য নির্ধারণ ছাড়াই বাড়তি দামই নয়, এরা মাত্র ১০ পয়সা লাভে প্রতি প্যাকেট বেনসন ও গোল্ডলিফ বিক্রির নির্দেশনাও জারি করেছে।

এদিকে ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানীর হেড অব মার্কেটিংয়ের জহির স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে খিলিপান দোকানীদের কাছে। তাতে বেনসন সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৬২ এবং গোল্ডলিফ সিগারেটের মূল্য ৯০ টাকা নিতে বলা হয়েছে। পত্রটির ফুটনোটে বলা হয়েছে ‘ ৭ই জুন ১৩ থেকে কার্যকর হবে।’ গত বছর ফুটনোটে বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ০১ জুলাই ২০১২ হতে কার্যকর হচ্ছে, তথাপি পূর্ব মুদ্রিত খুচরা মূল্যের সিগারেটের প্যাকেট কিছু সময়ের জন্য বাজারে থাকবে। খুব শীঘ্রই আমরা নতুন মূল্য মুদ্রিত প্যাক বাজারে ছাড়বো’ লেখা ছিল। এবছর তাও নেই। ফলে কতদিনে প্যাকেটের গায়ে লেখা আসবে তা হলফ করে বলতে পারছে না কেউ। বিষয়টি রহস্যজনকও বটে।

তবে ব্রিটিশ টোব্যাকোর বগুড়া ডিপোর আরএমও জানান, প্যাকেটের গায়ে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি না থাকলেও কোম্পানী বাড়িয়ে দেয়ায় বেশী দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে পরিকল্পিত ভাবে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি তিনি। কবে নাগাদ বাড়তি মূল্য সিগারেটের প্যাকেটে আসবে তাও জানাতে পারেন নি তিনি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful