Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ০৫ অপরাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / ঈদ আসেনি পদ্মার চরে

ঈদ আসেনি পদ্মার চরে

padma-river মাহী ইলাহি, রাজশাহী : এখনো বন্যা কবলিত রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী ও বাঘা উপজেলার পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। পানি নামেনি রাজশাহী নগরী ঘেঁঘা পদ্মাপারের কিছু এলাকা থেকেও। এছাড়া সঙ্গে রয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ফলে ঠিকানা হারিয়ে অকূল পাথারে এখানকার প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। অন্যরা ঘটা করে ঈদের প্রস্তুতি নিলেও দুর্গত এসব মানুষের ঘরে যেন ঈদ আসছে না।

বন্যা ও নদী ভাঙন কবলিত পবার হরিয়ান ইউনিয়নের চরখানপুরের বাসিন্দা হিরা বেগম ও সুখমন বেগম বলেন, ভাঙন থেকে বাঁচতে একে একে চারবার ঘরবাড়ি ভেঙে সরিয়েছেন তারা। এবারো তাদের অন্যত্র সরে যেতে হয়েছে। এখন শেষ আশ্রয়টুকুও নেই তাদের। পরিবার নিয়ে উঠেছেন অন্যের জায়গায়। বন্যা নেমে গেলে কোথায় উঠবেন এনিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই। নেই প্রস্তুতিও। তারা কেবলই চান সাহায্য ও নিরাপত্তা।

হরিয়ান পরিষদের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম জানান, ভাঙন কবলিত চরখিদিরপুরে শ’দেড়েক পরিবারের বাস। তারা যে যার মতো বাড়িঘর ভেঙে সরিয়ে নিয়েছেন। গ্রামের দুই মাথার দুই সীমান্ত পিলার নদীতে হারিয়ে গেছে। এখন গ্রামের মাঝ বরাবর দুটি পিলার রয়েছে। পিলার দুটিতে নদী পৌঁছালেই তার ইউনিয়নে পদ্মার দক্ষিণ তীরে বাংলাদেশের মাটি থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহী নগরী ঘেঁষা পদ্মার ওপারে তিন দিকে ভারতীয় সীমানা বেষ্টিত চরখিদিরপুর, তারানগর ও খানপুর নামে তিনটি গ্রাম ছিল। সব মিলিয়ে ওই এলাকার আয়তন ছিল ১ হাজার ৯৪২ হেক্টর। নদীভাঙনে এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে তারানগর ও খানপুর। আর চরখিদিরপুর ছোট হতে হতে গত বছর ঠেকেছে ১৮৭ হেক্টরে। এবারো ভাঙছে।
নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে জেলার বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নেও। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছে হাজারো মানুষ। এছাড়া এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা। প্রায় একমাস ধরে তলিয়ে রয়েছে এসব এলাকা। এতে দুর্ভোগের অন্ত নেই এ অঞ্চলের মানুষের।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, বন্যায় রাজশাহীর পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলার ৩৫টি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৫ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে জেলার পবায় ছয় হাজার ৩০ জন, বাঘায় ১৫ হাজার এবং গোদাগাড়ীতে চার হাজার ২৯০ জন। বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এরা।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে পবায় এক লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২৪ দশমিক ১২০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়ায় বাঘায় আট লাখ এক হাজার টাকা, ৪০ দশমিক ৭৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১৩৬ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং গোদাগাড়ীতে এক লাখ ৮৮ হাজার টাকা ও ১৭ দশমিক ৮৪০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এই তিন উপজেলায় এখনও ত্রাণের চাহিদা রয়েছে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে গেছে। বরাদ্দ পেলেই তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে, এবছর বন্যায় জেলার ওই তিন উপজেলার ৪৬ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে ফিকে হয়ে গেছে কৃষকের ঈদ আনন্দ। জেলা কৃষি দপ্তরের হিসেব মতে, পবায় আট হাজার ৯৩৫ হেক্টর রোপা আমন, ৫৭৫ হেক্টর আউশ, ৭০ হেক্টর মাসকলাই, ৫২০ হেক্টর মরিচ এবং ৩৭৪ হেক্টর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে বন্যায়। এছাড়া গোদাগাড়ীতে ২৫ হাজার ৩০০ হেক্টর রোপা আমন, নয় হাজার হেক্টর আউশ ও ১৩৭ হেক্টর সবজি এবং বাঘায় এক হাজার ৪০ হেক্টর রোপা আমন, ৫০ হেক্টর মাসকলাই, ৭০ হেক্টর মরিচ, ৪৩০ হেক্টর সবজি এবং ৩৫০ হেক্টর হলুদ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখনো কোনো সরকারি সহায়তা দেয়া যায়নি। এরই মধ্যে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। বরাদ্দ পেলে তারা সত্তর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তা বিতরণ করবেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful