Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ২ : ১৯ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / বিএনপির ঠ্যাং বাঁধা ‘অবিশ্বাসী’দের ডালে!

বিএনপির ঠ্যাং বাঁধা ‘অবিশ্বাসী’দের ডালে!

লুৎফর রহমান হিমেল

lutfor_rahman_himel_bnpশিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বললেন, কপোল শব্দটি দিয়ে একটি কবিতার পংক্তি বল তো। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইচড়েপাকা একজন দাঁড়িয়ে বলল, ‘কপাল ভাসিয়া গেল নয়নেরই জলে।’ শিক্ষক ক্ষেপে গিয়ে বললেন, ‘তুমি একটা আস্ত গাধা! বলেছি কপোল, তুমি বলছ কপাল।’

ছাত্র বলল, স্যার কপোল মানে তো জানি না। এ শব্দ জীবনেও শুনিনি। আপনি একটু বলে দেন, কপোল মানে কি।

আসলে শিক্ষক নিজেও কপোল শব্দের অর্থ জানেন না। তিনি আমতা আমতা করে বললেন, ঠিক আছে ঠিক আছে, তোমার বাক্য হয়েছে। কিন্তু চোখের জল কখনো কি চোখের উপরের কপাল দিয়ে যেতে পারে নাকি? এ জন্য তোমাকে পুরো নম্বর দিতে পারছি না। ছাত্র তখন বলল, ‘‘স্যার, টেনশন নিয়েন না। পরের লাইনটাতো আগে শুনুন, ‘ঠ্যাং দুটি তার বাঁধা ছিল কদম্বেরই ডালে।’’ শিক্ষক ছাত্রের জ্ঞাণের বহর দেখে খুশি হলেন। তিনি ছাত্রকে পুরো নম্বরই দিলেন।

উপরের কৌতুক গল্পটি নানাভাবে প্রচলিত আছে। সেই কৌতুক প্রসঙ্গে পরে আসি।

একটি দেশ পরিচালনা করে সরকার। সেখানে সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা থাকে। বাংলাদেশে বর্তমানে কাগজে-কলমে বিরোধীদল থাকলেও আসলে কার্যকর কোনো বিরোধীদল নেই। এখনো সরকার বিএনপিকেই ছায়াবিরোধীদল হিসেবে তাদের সমালোচনা করে থাকে। সংসদে তাদেরকেই ধুয়ে দেয়। কিন্তু বিএনপি দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থেকে সেই সমালোচনাটুকু পাওয়ার যোগ্যতাও হয়তো হারিয়ে বসেছে। এই সময়ের মধ্যে বড় বড় অনেক ইস্যু এসেছে, গেছে; কিন্তু বিএনপি কোনোটিই লুফে নিতে পারেনি।

বিএনপির এই ব্যর্থতার কারণে দেশের গণমাধ্যমও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার জায়গা বা জোরটা হারিয়ে ফেলেছে। কারণ, বিরোধীদলগুলোর সাথে এ ক্ষেত্রেই গণমাধ্যমের একটা ঐকতান থাকে। উভয়ই সরকারকে তার খারাপ বা ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সমালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। দুইপক্ষ এখানে দুই মেরুর হলেও কাজের ধারা এক বিন্দুতে মিলে যায়। ফলে, রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকার বিরোধিতায় বিএনপির ব্যর্থতা গণমাধ্যমের ওপরও প্রভাব ফেলেছে।

ফলে কোনো মিডিয়াই এখন সরকারের বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্তের সেভাবে সমালোচনা করতে পারছে না। অথচ গণমাধ্যম ও বিরোধীদল সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই যাত্রীবাহী বাসের মতো, যেখানে ড্রাইভার হলো সরকার, আর হেলপার হলো বিরোধীদল ও মিডিয়া। আমরা জানি, হেলপারের সহযোগিতা ছাড়া বাস খাদে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

বিএনপির হাতে বারবারই আন্দোলনের বড় ইস্যু তুলে দিয়েছিল সরকার পরিচালক আওয়ামী লীগ জোট। এতো বেশি ইস্যু ছিল যে তার তালিকা করলে এ লেখার কলেবর মহাকাব্য হয়ে যাবে। তার চেয়ে সর্বসাম্প্রতিক কিছু ইস্যুর কথা উল্লেখ করছি। সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে জনমনে ব্যাপক অস্বস্তি ও তুমুল আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বিএনপি এই ইস্যুটিকে নিয়ে আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করছে। কিন্তু শুরুতেই তারা গুবলেট করে ফেলেছে। যারা এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল, সেই সংগঠনগুলোর সাথে এরমধ্যেই দূরত্ব তৈরি করে ফেলেছে তারা। অথচ এই ইস্যুতে দুর্দান্ত একটা শুরু করতে পারত ‘ঘরকুনো’ বিএনপি।

এরমধ্যেই আবার দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের মন্ত্রিসভা কমিটি। এটি বিএনপির রাজনীতির জন্য শুধু বিব্রতকরই নয়, রীতিমত প্রেস্টিজ ইস্যু। অথচ এই ইস্যুতে শেষপর্যন্ত কীভাবে আন্দোলন করবে, তার সিদ্ধান্ত নিতেই কেটে গেছে সপ্তাহ। এরমধ্যে দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল দলটি। কিন্তু সেই বিক্ষোভে কর্মীসমাগম দেখা যায়নি।

কর্মীসমাগম কিভাবে হবে? সারাদেশের নেতাকর্মীরা কেউ জেল খাটছে, কেউ এলাকা ছাড়া। আবার কেউবা রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে কেউ ব্যবসা, আবার কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। যারা টিকে আছে তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে অস্তিত্ব রক্ষা করছে। পরিস্থিতি এমন যে, দুই বছর আগে একটি জাতীয় দৈনিক তাদের খবরে একটি শিরোনাম করেছিল এ রকম, ‘স্বামীরা জেলে, স্ত্রীরা সংবাদসম্মেলনে।’ বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা মামলায় জেল খাটছেন। কেউ গুম হয়েছেন। এসব নিয়ে তাদের স্ত্রী-রা সংবাদসম্মেলন করছেন। বিএনপির জন্য দুই বছর আগের এই পরিস্থিতিটা এখনো বদলায়নি।

দুই.
নানা জল্পনা কল্পনার পর একমাস আগে বিএনপির বহুল প্রত্যাশিত কমিটি ঘোষণা হয়েছে। মনে করা হয়েছিল কমিটি করে দলকে চাঙ্গা করা যাবে। কিন্তু কমিটি ঘোষণা করার পরপরই দলটির নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশের পরিবর্তে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলেছেন। অনেকে দল থেকে পদত্যাগও করেছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ সব পর্যায়ে এখনো চলছে কমিটি সম্পর্কে নেতিবাচক সমালোচনা-পর্যালোচনাও। এই আলোচনা-সমালোচনার রেশ এখনো চলছে।

কিছুদিন আগে এক আড্ডায় গিয়েছিলাম। রাজনৈতিক আড্ডা না হলেও কথাপ্রসঙ্গে রাজনীতি উঠলই। সাবেক এক বিএনপি নেতা (এখন রাজনীতি করেন না) বললেন, ‘কষ্টের বিষয় হল, এখনকার নেতাকর্মীরা কী রাজনীতি করে সেটাই বুঝি না। এই নেতাকর্মীদের আপনি জিজ্ঞেস করে দেখেন, সে তার দলের অঙ্গসংগঠনের সভাপতির নামই বলতে পারবে না। মিটিং মিছিলতো হয়ই না; আবার যদি মিছিলে যায়ও, জিজ্ঞেস করবেন কোন ইস্যুতে মিছিল করছে সে, বলতে পারবে না।’ আমি তার কথায় দ্বিমত করার সুযোগ পেলাম না।

এদিকে কমিটি নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। তখন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কেঁদে ফেললেন। একজন মানুষের কান্না নিয়েও যে খোদ দলের নেতাকর্মীরা কৌতুক করতে পারেন; সেটাও দেখা গেল এ দেশে। ওই সংবাদসম্মেলনের পর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই কান্না নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ হল! যেখানে মির্জা ফখরুল সহানুভূতি পাওয়ার কথা, সেখানে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হলেন। কেউ বলছেন, এটা ঠিক করেননি তিনি। রাজনীতি একটি কঠিন জায়গা। সেখানে এরকম সস্তা আবেগের স্থান নেই। তিনি দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। কেউ বলছেন, এটা ব্যর্থতার কান্না।

সরকারের বিরুদ্ধে বড় বড় অনেক ইস্যু পেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তাদের কান্না মানায় না। মির্জা ফখরুলের উচিত ছিল বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরা, নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার ডাক দেওয়া। সরকারের দমনপীড়ন থাকবেই। কোনো কালেই সরকার বিরোধীদলগুলোর আন্দোলনের সময় রাজপথে ফুল বিছিয়ে দেয়নি। সেই দমনপীড়নের মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোকেই রাজপথের রাজনীতি বলে। সেটা করতে বিএনপির হাইকমান্ড ব্যর্থ হয়েছে।

ঢাউস সাইজের এই কমিটি ঘোষণার পর এরই মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন অনেক ডাকসাইটে নেতা। কমিটির সমালোচনা করে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেছেন, তাদের শঙ্কা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার হাতে একক ক্ষমতা দেওয়া হলেও তাকে প্রভাবিত করে কমিটি গঠনের কাজ হয়েছে। কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছেও এ বিষয়ে তেমন তথ্য ছিল না।

তারা বলছেন, বিএনপির ইতিহাসে পাঁচ শতাধিক সদস্যের (চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, স্থায়ীকমিটির ১৭জনসহ সব মিলিয়ে ৫৯২ জন) সবচেয়ে বড় কমিটি ঘোষণা করেও কাউকে খুশি করা যায়নি। এটি একটি বড় কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি বড় ধরণের ব্যর্থতাও। বড় কমিটি দিয়ে সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করা হলেও বেশির ভাগ নেতারাই ক্ষুব্ধ। আর ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও হতাশ। সবচে আশ্চর্য্যের বিষয় হল, নতুন কমিটি ঘোষণার পরদিন বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল নীরব-নিস্তব্ধ। নতুন বা পুরনো কোনো কমিটির কোনো নেতাই যাননি সেখানে। এটি নজিরবিহীন।

অনেকে মনে করেন, ঢাউস সাইজের এই কমিটি হলেও কাজেকর্মে কিছুই হবে না। ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলনও চালানো সম্ভব নয়। এমনকি খালেদা জিয়ার ঘোষিত রূপকল্প ২০৩০-এর বাস্তবায়নও মুখ থুবড়ে পড়বে। কমিটিতে অনেক ভুল এবং দুরদর্শিতার অভাব রয়েছে। জেষ্ঠ্যতা মানা হয়নি, সিনিয়রদের ওপরে জুনিয়রদের রাখা হয়েছে, যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়নি।

তিন.
এখন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই প্রকাশ্যে অভিযোগ করে বলে থাকেন, এই লেজেগোবরে অবস্থার জন্য একমাত্র দায়ী বেগম জিয়ার গুলশান অফিসের কয়েকজন দলের প্রতি বিশ্বাসহীন ‘অবিশ্বাসী’ কর্মকর্তা। অনেকের অভিযোগ, এরা সরকারের বেতনেই চলেন। এদের ডালাপালা বেশি শক্ত। সেই ডালেই আজ বিএনপির ‘ঠ্যাং’ বাঁধা পড়ে আছে।

ফলে, আজ যখন মির্জা ফখরুল কাঁদেন, সেই কান্নাটা বিএনপিরই প্রতিচ্ছবি। বিএনপির এই কান্নার জল কপাল বেয়ে এখন উজানে যায়। লোকে হাসাহাসি করে। কিন্তু বিএনপির ভেতরের রক্তক্ষরণ কেউ দেখে না।

লুৎফর রহমান হিমেল : সাংবাদিক, কলামিস্ট। বার্তাসম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful