Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ৪৩ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / রংপুরের মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের আবাসস্থল গাছতলায়

রংপুরের মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের আবাসস্থল গাছতলায়

muktijudhaবদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : একদিন যার স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীন হবে, স্বাধীন ভূমিতে সুখে-শান্তিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন কাটাবে। আর সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে ধরেছেন অস্ত্র। জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন পাক হায়েনার বিরুদ্ধে। পাক হায়েনাদের পরাজিত করে দেশ স্বাধীন করেছেন ঠিকই। কিন্তু সুখে-শান্তিতে জীবন কাটানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে। শুধু তাই নয়, জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভিটে-মাটিটুকুও আর নেই। একারণে এখন তার ঠাঁই হয়েছে রাস্তার ধারে গাছতলায়।

মাটিতে থাকতেন বলে এলাকার লোকজন একটি চৌকি দিয়েছেন। আর রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষায় উপরে দিয়েছেন পলিথিনের ছাউনি। সেখানে শুয়ে-বসে এখন দিন কাটে মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের। তার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-৬৭০।

রাস্তা দিয়ে পথচারী চললে সাথে সাথেই হাত বাড়িয়ে দেন অর্থ সাহায্যের আশায়। কারো মন গললে হয়তো কিছু পান। তবে তার এই হাত বাড়ানোর ঘটনায় বেশিরভাগ পথচারীই বিরক্ত হন। কেউ কেউ গালমন্দও করে থাকেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন।

মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের জন্ম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে। কৃষক বাবা আব্দুল জব্বার ও মা আবিজন নেছার ৪ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনাও করেছেন। এরপর ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। চাকরির শুরুতেই তাকে থাকতে হয় পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে। সেখানে থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালে দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। দেশ-মাতৃকার স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিতে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসেন বাংলাদেশে। এরপর ৬নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি বেশ ক’টি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে হিলির সম্মুখ যুদ্ধ কখনোই ভুলতে পারেন না। কেননা ওই যুদ্ধে দিনাজপুরের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফাকে শহীদ হতে দেখেছেন। ওই দৃশ্য তাকে এখনো ক্ষেপিয়ে তোলেন। মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠেন ‘অস্ত্র দাও আমি রাজাকারদের খতম করব’।

স্বাধীন দেশে পরিবারসহ তার দিন ভালোই কাটছিল। ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তবে বিপর্যয় ঘটে ১৯৮২ সালে প্রথম স্ত্রী মারা গেলে। সংসার চালাতে ২০০৪ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পর দ্বিতীয় স্ত্রী মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। ফলে সন্তানদের মানুষ করা ও স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় তাকে বেসামাল করে তোলে। এছাড়া মেয়েদের বিয়েরও বয়স হয়ে যায়। ফলে মেয়েদের বিয়েতে তাকে জমি-জিরেত, ভিটে-মাটি সব কিছু বিক্রি করতে হয়। এরপর এর ওর বাড়িতে থেকে কোনরকমে জীবন বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু সেটাও আর নেই। এলাকার লোকজন তাকে বাড়িতে আশ্রয় না দেয়ায় তিনি বদরগঞ্জ, রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর সীমানার মিলনস্থল খোড়াগাছ ইউনিয়নের তিন তেপথি মোড়ে বটগাছের নীচে অবস্থান নেন। তিনি দিন-রাত মাটিতে শুয়ে কাটাতেন। ফলে রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে তার কষ্ট দেখে এলাকার লোকজন তার জন্য একটি ভাঙা চৌকি পেতে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এলাকার শিক্ষিত যুবকরা ওই মোড়কে মিলিটারী মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক মোড় নাম দিয়ে একটি সাইন বোর্ড গাছে সেঁটে দিয়েছেন।

সরেজমিন এলাকা পরিদর্শনকালে কথা হয় মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে। তিনি বলেন, আমার ভাগ্যে এখনো মুক্তিযোদ্ধা ভাতা জোটেনি। আমার পেটে ভাত নেই, থাকারও জায়গা নেই। তারপরও বলব কিছু হোক আর না হোক রাজাকারদের যেন ফাঁসি দেখে মরতে পারি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতে অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছি কোন লাভ হয়নি। এ কারণে এখন আর কাউকে কিছু বলি না। দশজনের সাহায্য নিয়ে কোনরকমে বেঁচে আছি।

কথা হয় রংপুর সদর উপজেলার কাটাবাড়ি এলাকার শফিউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টিতে তিনি যখন এখানে থাকতে পারেন না তখন আমার বাড়িতে আশ্রয় নেন। আমি বাড়িতে থাকলে তার খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করি। সাংসারিক কাজে কয়েকদিন ব্যস্ত থাকায় তার খোঁজ নিতে পারিনি। কিন্তু গত শুক্রবার যখন তার কাছে আসি তখন জানতে পারলাম তিনি তিনদিন ধরে কিছুই খাননি। তাই তড়িঘড়ি করে বাড়িতে যেয়ে তার জন্য খাবার নিয়ে আসি।

একই এলাকার দেলদার হোসেন বলেন, তার একটি মেয়ে জন্ম থেকে পঙ্গু। বর্তমানে তার এই অবস্থা দেখে মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে রেখেছি। সাবেক গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার বলেন, যেহেতু আবু বক্কর সিদ্দিক এখন কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন একারণে সরকারের উচিত তাকে সাহায্য করা। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে একটি বাড়ি দিয়ে সাহায্য করতে সরকারের কার্পণ্য করা উচিত নয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আইয়ুব আলী সরকার বলেন, পুরো বিষয়টি আমি জানি। চিঠি আসলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার তালিকায় অবশ্যই তার নাম স্থান পাবে।

(করতোয়া)

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful