Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৪৭ অপরাহ্ন
Home / লালমনিরহাট / উত্তরাঞ্চলের কবি শেখ ফজলল করিমের মৃত্যু বার্ষিকীতে নেই কোন আয়োজন

উত্তরাঞ্চলের কবি শেখ ফজলল করিমের মৃত্যু বার্ষিকীতে নেই কোন আয়োজন

lalmonirhat-kaligonj-kobi-pic-3নিয়াজ আহমেদ সিপন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক
কে বলে তা বহুদুর
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক
মানুষেতে সুরাসুর’

কবি শেখ ফজলল করিমের এ মর্মস্পৃশী কবিতাটি ছোট বেলায় পড়েননি এমন লোক খুজে পাওয়া দুষ্কর।

আজ (২৮সেপ্টেম্বর) বুধবার কবি শেখ ফজলল করিমের ৮০তম মৃত্যু বার্ষিকীতে উপজেলার প্রসাশন থেকে নেই আয়োজন।লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় কবি শেখ ফজলল করিমের স্মৃতি বিজড়িত গ্রামের বাড়িটি বর্তমানে অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৫ সালে কবির স্মৃতি রক্ষার্থে কাকিনা বাজারে দ্বিতল ভবনে নির্মিত পাঠাগারটি এখন আবর্জনায় ভরপুর, সেখানে নেই কোন কেয়ারটেকার, নেই পাঠক, রয়েছে বইয়ের সংকট। সামনে থেকে বোঝার উপায় নেই এখানে একটি পাঠাগার রয়েছে। পাঠাগার ভবনের সামনের অংশ যেন উন্মুক্ত প্রসাবখানা। পাঠাগারটির মূল গেটের সামনের প্রায় ৯০ শতাংশ দখল করে বসানো হয়েছে দোকান। বাকি অংশে রয়েছে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাইনবোর্ড।

এছাড়াও ভিত্তিপ্রস্তরের সামনের যায়গা দখল করে আছে একটি কামারের দোকান ও একটি চায়ের একটি দোকান। সন্ধ্যার পর মাদক সেবীদের অভয়ারন্য হয়ে ওঠে এই পাঠাগার চত্তর। বেশ কয়েকদিন আগেও ছিল এখানে ব্যাটারী চালিত অটোক্সিা ও তিনচাকার মহেন্দ্র নামাক গাড়ী রাখার স্টান। অবশ্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার কাউন্টার তুলে দেন। নতুন করে দেখা গেছে সেখানকার আরেক চিত্র । রাত হলেই শুরু হয় তরুন মাদক সেবীদের আড্ডা। স্থানীয়রা ভয়ে তাদের কিছু বলতে পারে না। তারা নাকি কেউ সরকার দলীয় লোকজন। তথ্য সংগ্রহের সময় একজন পথচারি বলে ওঠেন, ‘এ পাঠাগার যেন কবিকে সম্মানের নামে অপমান।’

lalmonirhat-kaligonj-kobi-pic-5বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে মন্ত্রী ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতা, কবি লেখক অনেকেই কবির বাড়ি পরিদর্শনে এসেছেন এবং বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। দিবসটি পার হয়ে গেলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো প্রতিশ্রুতিই থেকে যায়। প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী কবির বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি পাকা হওয়া এবং কবির নামে কাকিনা বাজারে একটি দ্বিতল ভবনের পাঠাগার নির্মিত হলেও কবির বাড়িটি ও ব্যবহারিক সংগ্রহশালা এখন ধংসের পথে। পাঠাগারটিতে একজন লাইব্রেরীয়ান(কেয়ারটেকার)সহ পর্যাপ্ত বইয়ের ব্যবস্থা করা এবং কবির জীবনী বা তার বিভিন্ন বই সংরক্ষন করে জেলা শহরে কবির নামে একটি পাঠাগার স্থাপন করার দাবী জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি।

২০০৫ সালে নির্মিত পাঠাগারটিতে ২০০৯ সালে দেখভালের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় আজিমুদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা সম্মানীতে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে একটি টাকাও সম্মানী পাননি বলে জানান তিনি। এখন আর তিনি দেখভাল করেন না।

কবি শেখ ফজলল করিম স্মৃতি পাঠাগারের সাবেক সহ সভাপাতি তাহির তাহু বলেন, দেখভালের জন্য কাউকে স্থায়ী নিয়োগ না দেয়ায় পাঠাগারটি অযতেœ রয়েছে।

নিভৃত পল্লী গাঁয়ে সাহিত্য, কাহিনী উপন্যাস প্রবন্ধসহ গদ্য রচনার স্থান ছিল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা। ১৮৮২ সালের ১৪ এপ্রিল সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন কবি শেখ ফজলল করিম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পার্শ্ববর্তী বিনবিনা গ্রামের গনি মোহাম্মদ সর্দারের মেয়ে বসিরন নেছা খাতুনের সাথে বিয়ে হয় কবির। ১৮৯৯ সালে মধ্যে ইংরেজী পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি।
কাকিনার মত অজো পাঁড়া গায়ে নিজ বাড়ীতে শাহাবিয়া প্রিন্টিং ওয়ার্কস নামের ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন কবি। তার বৈচিত্র্যময় রচনায় ফুটে উঠেছে সম-সাময়িক ঘটনা, চিন্তা-চেতনা, ধর্ম দর্শন, সাম্প্রদায়িক বিরোধ, সমাজ সংস্কার, নারী শিক্ষাসহ সমাজ পরিবর্তন ও মননশীলতা অঙ্গীকার।

জীবদ্দশায় সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন কবি শেখ ফজলল করিম। তিনি মোট ৫৫টি গ্রন্থ লিখে ছিলেন সংরক্ষনের অভাবে যার অনেক গুলোর এখন আর হদিস মিলে না। সাহিত্য চর্চার সুবিধার্থে স্থানীয় জনসাধারনের জন্য উম্মুক্ত কবি বাড়ীতে ১৮৯৬ সালে করিমস্ আহামদিয়া লাইব্রেরী নামের একটি পাঠাগার স্থাপন করেছিলেন, যার কোন চিহৃই আজ আর অবশিষ্ট নেই।
কবির উপদেশ মূলক রচনা ‘পথ ও পাথেয়’ গ্রন্থের জন্য পেয়েছিলেন রৌপ্য পদক। পরবর্তী বাংলা ১৩২৩ সনে ভারতের নদীয়া সাহিত্য পরিষদ তাকে সাহিত্য বিশারদ উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু ১৯৩৬ সালের ২৮সেপ্টেম্বর কবি শেষ নিশ্বাস ত্যাগের পর অরক্ষিত হয়ে পড়ে কবি শেখ ফজলল করিমের গ্রামের বাড়ী।

কবির বাড়িতে যা দেখা যায়ঃ- কবি শেখ ফজলল করিমের কবরের ঠিক সামনেই একটি বিরাট কাচারী ঘর। প্রশস্থ বারান্দায় সৌখিন কাঠের কারুকাজ। কাচারী ঘরের চাল জুড়ে রয়েছে মনোহরী ফুলের বাগান। নজর কারা এ বাড়ীটি কবি শেখ ফজলল করিমের। কাচারী বিশাল ঘরটিতে কেটেছে কবির জীবন। বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করতেই ভাঙ্গা দরজা, ভাঙ্গা চৌকাঠ দেখেই বুঝা যায় কতটা অযতœ আর অবহেলায় রয়েছে কবি বাড়ী। সৌখিন কারুকাজ করা কাঠ গুলো উইপোকার অত্যাচারে খসে খসে পড়ছে। চৌকাঠ পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে কাঠের দেয়াল জুড়ে বেশ বড় কবির ২টি ছবি। সেখানে রয়েছে কবির ব্যবহৃত একটি জীর্ন চেয়ার, খাট ও একটি গ্রামোফোন। ঘরটির এক কোনে আছে একটি কাচের শোকেস। শোকেসের কাচগুলো ফেটে চৌচির। ভিতরে রয়েছে কবির ব্যবহৃত টুপি, দাড়ি, দোয়াত-কলম, ছোট্ট কোরআন শরীফ, ম্যাগনিফাইং গ্লাস, পানির কুপ ও কিছু বোতাম। ঘরের মেঝের সিমেন্টের প্রলেপ উঠে ছোট ছোট অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ীটি বর্তমান বেহাল দশাই প্রতীয়তমান হয়েছে।

কবি বাড়ীর বর্তমান রক্ষক কবির অন্যতম দৌহিত্র(নাতি) ওয়াহিদুন্নবী বলেন, এই কক্ষ ২টি কবির। কবির স্মৃতি ধরে রাখতে যত্ম করছি কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সংস্কার করতে পারছি না। দীর্ঘদিন এমনি পড়ে থাকায় কবি ব্যবহৃত জিনিস গুলো নষ্ট হতে চলেছে।

lalmonirhat-kaligonj-kobi-pic-6কবির পুত্রবধূ রেজিয়া বেওয়া(৯৫) জানান, উত্তরাঞ্চলের কবি তো তাই সরকারও অবহেলা করে। কোন বছর তার জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেনি সরকার। তিনি সরকারের নিকট জোর দাবি জানান আগামী দিনগুলোতে যেন সরকারী ভাবে কবির এসব দিবস পালন হয়।

বুধবার (২৮সেপ্টেম্বর) ৮০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে কবির পরিবার ক্ষুদ্র পরিসরে পারিবারিক ভাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন । এ ছাড়া খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে,জেলায় কোথাও কোন কর্মসুচি নেই কবির মৃত্যু বার্ষিকীতে। জেলা সদরে কবি শেখ ফজলল করিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে একটি সেখানেও খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা যায় কোন কর্মসুচি নেই। ফলে এ প্রজন্মের অনেকেই জানেননা কবি শেখ ফজলল করিম সম্পর্কে।

১৯৯৩ সালে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে কাকিনায় কবির স্মৃতির উদ্দেশ্যে ছোট্ট একটি স্মৃতিফলক রয়েছে যা কবির বাড়ির দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া আর কোন উল্লেযোগ্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।

কাকিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, কবি শেখ ফজলল করিম স্মৃতি পাঠাগারের কি অবস্থা আছে তা জানা নেই ।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আলম জানান, কবির মৃত্যু বার্ষিকী পালনের জন্য সরকারী ভাবে কোন নির্দেশনা নেই।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful