Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ১৩ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / রোদে খুঁজে গাছের ছায়া, মেঘ জমলেই ছুটির ঘণ্টা

রোদে খুঁজে গাছের ছায়া, মেঘ জমলেই ছুটির ঘণ্টা

‍schঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: এক হাতে চটের বস্তা, অন্য হাতে বই নিয়ে ছুটে আসছে শিশুর দল। তাদের দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না ওরা সবাই শিক্ষার্থী; ক্ষুদে শিক্ষার্থী। বই আর বস্তার ভারে যেন নুইয়ে পড়েছে ক্ষুদে পণ্ডিতের পুরো দল।

বস্তা হাতে কোথায় যাও? এমন প্রশ্নে উচ্চস্বরের সম্মিলিত উত্তর- কেন্ স্কুলে।

স্কুলে আবার চটের বস্তা কেনো- বলে বিস্মিত হতেই এগিয়ে এল দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্র। ওই ক্ষুদে পণ্ডিত জানাল চটের বস্তা হাতে স্কুলে যাওয়ার পুরো গল্প।

স্কুলের সবকটি শ্রেণী কক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাই তাদের নিয়মিত খোলা মাঠেই বিদ্যাগ্রহণ করতে হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে তাদের বসার জায়গায় রোদ পড়লেই তারা খুঁজে নেয় গাছের ছায়া। আবার আকাশে মেঘ জমলেই বাজানো হয় ছুটির ঘন্টা।

এমন চিত্র ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয় ভবনে ফাটল দেখায় তা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের মাঠে ঘাসে বসেই ক্লাস করছে ২০৭ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী।

আর ৩ শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে চম্পা রানী রায়গাছের ছায়াতে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। প্রশ্ন করতেই ৫ম শ্রেণীর ছাত্র কমল কুমার রায় ও স্বপ্না আকতার জানায়, তাদের শ্রেণী কক্ষে ফাটল দেখা দেয়ায় তারা ওই কক্ষে বসতে ভয় পাচ্ছে।

শিক্ষিকা চম্পা রানীও একই কথা জানান, বিদ্যালয়ের সবকটি শ্রেণীকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে , তাই তারা বাচ্চাদের বাইরে ক্লাস নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন জানান, বিদ্যালয়ের সবকটি রুমেই ফাটল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সাভারের রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর শিক্ষাথীদের মধ্যে বেশি মাত্রায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই শিক্ষাথীদের রুমের বাইরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যেহতেু গাছের ছায়ায় ক্লাস নেয়া হয় তাই আকাশে মেঘ জমলেই স্কুল ছুটি দিয়ে দেয়া হয় বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ বিদ্যালয়টিকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিপ্রসাদ বর্মন জানান, শিক্ষকদের অফিস কক্ষসহ ৩টি শ্রেণীকক্ষে ফাটল দেখা দেয়ায় এভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এর চেয়েও বেহাল অবস্থা একই এলাকার লস্করা রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এখানেও শ্রেণীকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে;  পলেস্তারাও খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত।

ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী হাদিসা আকতার জানান, বৃষ্টি এলেই ছাদ চুঁয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে তাদের বইপুস্তক ভিজে যায়।

একই শ্রেণীর ছাত্র রবিউল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে  ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী বিথি খাতুন মারাত্মক আহত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা লাল রায় জানান, বিদ্যালয়ের এ বেহাল অবস্থা পানিসম্পদ মন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানো হযেছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার তৌফিকুজ্জামান জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা ঝুকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার সব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া আগামী শিক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful