Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ০১ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ‘বুকভরা কষ্টে দিন কাটছে বাবুলের’

‘বুকভরা কষ্টে দিন কাটছে বাবুলের’

babul-akter-01এমএম কবীর: মমতাময়ী মাকে হারানোর পর বাবার সঙ্গেই সময় কাটছে সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের দুই সন্তানের।

সেদিনের ঘটনায় সন্তানরা এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। বুকভরা কষ্ট নিয়ে মায়ের অভাব পূরণে সন্তানদের প্রতিটি মুহূর্ত সময় দিয়ে দিন কাটছে বাবুলের।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বুকভরা কষ্ট থাকার পরও বাবুল সারাক্ষণই তাদের সন্তানদের সঙ্গে হাসিমুখেই সময় পার করছে। তার কষ্টটুকু সন্তানরা যাতে না বুঝতে পারে সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে বাবুল। কিন্তু বড় ছেলে মাহির এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি। তার আচরণ এখনও অস্বাভাবিক।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তার (মাহির) মায়ের মৃত্যু সে কাছ থেকে দেখেছে। তাই তার মায়ের কথা কেউ বললে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ভয়ে সে বিমূর্তরূপ ধারণ করে। তার চিকিৎসা চলছে। প্রায় সময় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হচ্ছে। কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বোঝা যাচ্ছেনা। এরই মধ্যে তাকে একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। বাবুল তাকে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যায় আবার নিয়ে আসে। মাঝে মধ্যে আমিও সঙ্গে করে দিয়ে আসি স্কুলে। কোনো কোনো দিন স্কুলে গিয়েও তার জন্য বসে থাকতে হয়। তার ভেতর থেকে ভয় এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য। দেখা যাক- আল্লাহ তার কপালে কী রাখছে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, পারিবারিকভাবে আমরা সবাই কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সবসময় একটু টেনশন থেকেই যাচ্ছে।

কথায় কথায় বাবুলের চাকরির প্রসঙ্গ টেনে আনলে তিনি জানান, বাবুল এখন চাকরির ব্যাপারে কোনো-চিন্তা ভাবনা করছে না। সবকিছু হারানোর পর সন্তান ছাড়া তার আর কী আছে? তার সুখ-দুঃখ একমাত্র সন্তানরাই। তাই ছেলেটা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চাকরির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছেনা। তার সন্তানদের কথা চিন্তা করে তাকে চাকরি অবশ্যই করতে হবে। তবে আগে তার সন্তান, তারপর চাকরি।

বাবুলের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান লাবু বলেন, ভাই (বাবুল) এখন ছেলে মাহির ও মেয়ে তাবাসসুমকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মাহিরকে নিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করেন। প্রতি শুক্রবার তাদেরকে নিয়ে সুইমিংপুলে নিয়ে যান। অবসর পেলে একটু বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, বাবুল ভাই চাকরি করবে কিনা এখনও বুঝতে পাচ্ছিনা। তবে বাবুল ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা, মানসিক অবস্থা ঠিকটাক থাকলে অবশ্যই চাকরি করবেন।

বাবুল আক্তারের এক বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাবুল বাস্তবতার জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেও তার ধৈর্য্য ও অদম্য সাহসিকতায় আবার নতুন করে জীবন শুরু করবে। সে আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তার অদম্য শক্তিই এখন মূল প্রেরণা। সন্তানরা হচ্ছে তার আসল দুর্বলতা। সবকিছু একটু স্বাভাবিক অবস্থায় আসলেই সে আবার ঘুরে দাঁড়াবে নিশ্চিত। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কর্মক্ষেত্রে ফেরার বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে সে এখনও নিরাপত্তাহীনতায় আছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন ভোরে চট্রগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনার তিন সপ্তাহ পরে এসপি বাবুলকে ডিবি অফিসে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর থেকেই ঢাকার রামপুরার মেরাদিয়ায় তার শ্বশুরের বাসায় সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদানকৃত মো. বাবুল আক্তার (বিপি-৭৫০৫১০৯০২৯), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সিএমপি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত) কে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে চাকরি (পুলিশ ক্যাডার) হতে এতদ্বারা অব্যাহতি প্রদান করা হল।

তবে বাবুল আক্তারের স্বজনদের দাবি চাপের মুখে চাকরি ছাড়েন বাবুল।

খবর- পরিবর্তন ডটকমক

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful