আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২১

নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি

রবিবার, ২ অক্টোবর ২০১৬, বিকাল ০৭:২৪

               a-1 বিশেষ প্রতিনিধি ২ অক্টোবরনীলফামারী ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আজ রবিবার দুপুরে শরীরে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ভর্তি হয়েছে শিশু গৃহকর্মী আর্জিনা বেগম (১৩)। সে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার আরজি শেখ সিন্ধু গ্রামের আনছার আলীর মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ২০০৯ সাল থেকে আর্জিনা টাঙ্গাইল জেলা শহরের পৌর এলাকার ১৭ নম্বর ওয়াডের বিশ্বাস বেতকা মহল্লার শিবনাথ পাড়ার আমির আলীর ছেলে তাজুল ইসলামের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছে। সেখানে প্রায় এক বছর ধরে তাজুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগম ও তাদের মেয়ে লাভলী আক্তার তাকে শারিরিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। ওই নির্যাতনে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গতকাল শনিবার (১ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল থেকে এনে আজ রবিবার ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর্জিনার মা আনজু বেগম বলেন, আমার তিন মেয়ে এক ছেলের মধ্যে আর্জিনা সবার বড়। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে ২০০৯ সালে ছয় বছর বয়সে আর্জিনাকে ওই বাড়িতে কাজ করার জন্য নিয়ে যায় ডিমলার সুঠিবাড়ির নুর মহম্মদ।  সেখানে প্রথমদিকে ভালোই ছিল সে। প্রতি ঈদে তারা আর্জিনাকে নূতন জামাকাপড় দিয়ে বাড়িতে পাঠাতো। সেখানে থাকা অবস্থায় ফোনে কথা হতো। কিন্তু গত ছয়মাস ধরে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছিলনা তারা। ফোনে কথা বলতে চাইলে তারা (গৃহকর্তা) বলতেন,‘এখন আমি বাহিরে আছি, বাসায় গিয়ে কথা কয়ায় দিব। কিন্তু আর কথা কয়ায় দেয় না। এরপর গত রমজানের ঈদে এবং কোরবানী ঈদে মেয়েকে আর বাড়িতে পাঠায়নি তারা। এতে আমাদের সন্দেহ হলে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার শ্বশুর (মেয়ের দাদা) নুরু মিয়া তাকে (আর্জিনাকে) আনতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন আর্জিনা বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। অনেক কষ্টে তাকে শনিবার বাসে করে  নীলফামারী ডিমলা উপজেলার সুটিবাড়ীতে আমার বোনের স্বামী আব্দুল খালেকের  বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমরা খবর পেয়ে আজ রবিবার সকালে এখানে আসি এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করি।   a-2   ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ইয়াসমিন ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডান হাতের বাহুর হাড় ভাঙ্গা,শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত রয়েছে। সে এখন গুরুতর অসুস্থ্য, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।   kkkk-2এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে টাঙ্গাইলের গৃহকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন,তাকে (আর্জিনা) কোনোভাবে নির্যাতন করা হয়নি। তার ডান হাতের ও কোমড়ের হাড় ভাঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, আমার এখানে আসার আগে থেকে সেটি ভাঙ্গা ছিল, তখন সে বলেছিল গাছ থেকে পড়ে নাকি তার হাড় ভেঙ্গেছে। তার ঘা হয়েছিল, শরীরের দাগগুলো ঘায়ের দাগ। আর গলার সাদা দাগটি আগে ছোট ছিল এখন সেটি বাড়ছে। এ জন্য আর্জিনার চিকিৎসা করা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন আর্জিনার আগামী মঙ্গলবার তার বাসায় ফিরে আসার কথা ছিল। এখন অনেকে মোবাইলে তাকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন কথা বলছে। অনেকে আর্জিনার কিডনী বিক্রির অভিযোগ তুলে মোটা অংকের টাকা দাবি করছে। তিনিও এ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন। এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউর করিম আজ বিকেল চারটার দিকে বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেছিলাম। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে বলেছি। আমি নিজে সেখানে গিয়ে আরও খোঁজখবর নিব। ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিকেল পর্যন্ত এধরণের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নিব।

মন্তব্য করুন


Link copied