Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ৫০ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / রংপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য

রংপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য

universityআব্দুর রহমান মিন্টু : দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর বেশির ভাগই মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণ থেকে যোজন যোজন দুরে অবস্থান করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন অভিযোগ কয়েক বছর থেকেই চলে আসছে।

প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তও বলছে, এ অবস্থার উন্নতি ঘটেছে সামান্যই। বরং নানা মুখী বিতর্কে জড়িয়ে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আরো নিম্নমুখী হয়েছে। তারপরও থেমে নেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোয়ার।

ব্যাঙের ছাতার মত কিংবা অলি-গলিতে গজিয়ে উঠা কোচিং সেন্টারের মত হঠাৎ করেই সাইনবোর্ড সর্বস্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। দেয়া হচ্ছে রাজকীয়, সমতট কিংবা বরেন্দ্র টাইপের নাম। এই টাইপের নাম নিয়েই গজিয়ে উঠছে এসব তথাকথিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষা বিতরণের মাধ্যমে আলকিত ও উন্নত জাতি গঠন।

কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে বরাবরই সন্দিহান সচেতন শিক্ষাবিদরা। এত সন্দেহ ও অবিশ্বাস সত্ত্বেও দেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়জয়কার। শিক্ষক না থাকা, ছাত্র না পাওয়া, জায়গা-জিরত না থাকা কিংবা নিজস্ব বিল্ডিংয়ের অনুপস্থিতি কোন কিছুই বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বাড়ন্ত সংখ্যার রাশ টানতে পারছে না।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগই সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দেশের বড় বড় শহরগুলোতে গড়ে তুলেছে অবৈধ ক্যাম্পাস। শুধুমাত্র বিভাগীয় শহর রংপুরেই আছে এ রকম ৫টি ক্যাম্পাস। অনুমোদনহীন এসব ক্যাম্পাসে দেদারসে চলছে অবৈধ সার্টিফিকেট বাণিজ্য। অনেক সহজ-সরল শির্ক্ষাথী এ ধরনের অনুমোদনহীন ও অবৈধ শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে প্রতারিত হয়ে তাদের শিক্ষা জীবনে নেমে আসছে অন্ধকার।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তথা কথিত আউটার ক্যাম্পাস চালাচ্ছে শুধুই সনদ বিক্রির জন্য এটা করার জন্য নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করা প্রতিষ্ঠান গুলোর অবকাঠামো ও জনবলও প্রশ্নবিদ্ধ।
জানা গেছে, রংপুর নগরীতে অল্প সময়ের মধ্যে গড়ে উঠেছে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় অব টেকনোলজি এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির অবৈধ ক্যাম্পাস।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লি‌ষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ২০০৯ সালের অক্টোবরের পর আউটার ক্যাম্পাসে ভর্তি অবৈধ ঘোষণার গণবিজ্ঞপ্তি দিলেও ওই বছর থেকেই এসব আউটার ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি নেয়া হচ্ছে।

এসব আউটার ক্যাম্পাসে বি.বি.এ, বি.এ অনার্স, এল এল বি (অনার্স), এল এল বি (প্রি অ্যান্ড ফাইনাল), এম,বি এ, এলএল এম, এম এ ইংরেজী, বি.এড, এম.এড, লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সাইন্স (ডিপ্লোমা), এম এস কোর্সে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে কোটি কোটি টাকা আদায় করে সঠিক ভাবে কোনো রেজিষ্ট্রেশন কার্ড না দিয়ে স্থানীয় ভাবে বানানো রেজিষ্ট্রেশন কার্ড দিয়ে শুরুতেই প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির পর ব্যাংকার, বেসরকারি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষককে দিয়ে মাঝে মাঝে ক্লাস করানো হয়। সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো এসব ক্যাম্পাসে পরীক্ষার আগের দিন এসেও ফরম পূরণসহ ভর্তি হয়েই পরীক্ষা দিতে পারে শিক্ষার্থীরা। আর তাদের নিজেদের করা প্রশ্ন দিয়ে নেয়া হচ্ছে পরীক্ষা এবং নকল বা বই দেখে পরীক্ষা দেয় শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলাকা বা অঞ্চল ভিত্তিক শিক্ষার্থী ধরার জন্যই এসব অবৈধ আউটার ক্যাম্পাস পরিচালনা করা হয়। এমনকি নির্দিষ্ট কোন জেলাকে টার্গেট করেও ওই জেলায় আউটার ক্যাম্পাস খোলা হচ্ছে। সে জন্যই বিভাগীয় শহর রংপুরকে টার্গেট করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গড়ে তুলেছে তাদের কথিত আউটার ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি। আর এই ইউনিভার্সিটির রংপুরেই রয়েছে ৩টি ক্যাম্পাস। এর মধ্যে নগরীর বাস টার্মিনাল রোডের পুর্ব গণেশপুর বকুলতলায় ১টি, আর.কে রোডের ইসলামবাগে ১টি ও অপরটি কেরানিপাড়া চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থিত।

সরজমিনে বাস টার্মিনাল রোডের পুর্ব গণেশপুর বকুলতলার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালের আউটার ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, একটি নবনির্মিত ৩ তলা ভবনের ৩য় তলায় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। যেখানে কাংখিত মানের শিক্ষক তো দুরের কথা প্রয়োজনীয় চেয়ার, টেবিল ও ব্রেঞ্চও নেই। সেই পরিবেশে ক্যাম্পাসটি পরিচালিত হতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে দারুল ইহসাব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কো-অর্ডিনেটর ইয়াছিন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অবৈধ ক্যাম্পাস পরিচালনার ব্যাপারে তিনি জানান, আদালতের স্থগাতিদেশ অর্ডার নিয়েই এই আউটার ক্যাম্পাস পরিচালিত হচ্ছে।

ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ক্যাম্পাসে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা এ ক্যাম্পাসের নয় তারা ঢাকার স্টুডেন্ট। রংপুরের ছাত্র-ছাত্রীরা কি ঢাকায় গিয়ে ক্লাস করবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মাঝে মাঝে এখানেই ক্লাস করাই। ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী।

কেরানিপাড়া চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থিত দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির অপর ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিচয় গোপন রেখে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে ক্যাম্পাসের কো-অর্ডিনেটর আলমগীর ইসলাম অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ৪ ভাগে বিভক্ত। সবকটি পক্ষই আদালতে রিট করেছে। সেজন্য আমরা ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রেখেছি। তাই সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য বৈধ বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফলেট তাদেরকে দিচ্ছি। কার্যক্রম না থাকায় বেতন-ভাতা কিভাবে পাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বেতন-ভাতা প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ প্রদান করে। সেজন্যই আমরা তাদের লিফলেট বিতরণসহ প্রচারণা চালাচ্ছি।

রংপুর নগরীর লালবাগ রেলগেট এলাকায় ভাড়া করা ২ তলা ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ইনফরমেশন সেন্টার। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধুমাত্র তথ্য কেন্দ্র হলেও সেখানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয় এবং ক্লাসও নেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ক্যাম্পাসের পরিচালক জিয়নের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আউটার ক্যাম্পাসের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতে রিট করেছে। তাই রায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় পড়ি না। আমাদের মূল ক্যাম্পাস ঢাকায়। রংপুরে মূলত আমাদের ক্যাম্পাস নেই। রয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার। তবে যাদের ঢাকায় গিয়ে পড়ালেখার সামর্থ নেই এখানে তাদের ক্লাস নেয়া হয়।
এছাড়া কলেজ রোডে গড়ে উঠেছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও টেকনোলজির আউটার ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের বৈধতা নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ক্যাম্পাসের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের মূল ক্যাম্পাস ইউজিসি বাইরে এবং ১৯৬৭ সালের স্যোসাল আইনে পরিচালিত। এছাড়া ১৯৯০ সালের বৈধতা আদেশ রয়েছে। তাই আমাদের আউটার ক্যাম্পাসের শতভাগ বৈধতা রয়েছে।
সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যেহেতু সরকার অবৈধ ক্যাম্পাসের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে তাই কোন শিক্ষার্থী যদি এসব ক্যাম্পাসে ভর্তি হয় তাহলে ধরেই নেয়া হবে যে এসব শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যই হলো সনদ ক্রয় করা।

সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অবৈধ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সনদ বৈধ বলে গণ্য হবেনা এবং এসব শিক্ষার্থীদের দায়ভারও সরকার নিবে না। আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চলা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তার ভাষ্য, সরকার মামলা গুলো গ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছে।

আদালতের রায় যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে যায় তা হলে এসব অবৈধ ক্যাম্পাসে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান জানান, এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সরকার এসব শিক্ষার্থিকে সংশ্লি‌ষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে সংযুক্ত করার চেষ্টা করবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful