Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ :: ৮ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ২৩ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ৩০ জুন থেকে চাকরী হারাচ্ছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩শ ৬৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারি

৩০ জুন থেকে চাকরী হারাচ্ছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩শ ৬৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারি

bru bস্টাফ রিপোর্টার: মুসলীম নারী জাগরনের অগ্রদূত মহীয়সী নারীর নামে প্রতিষ্ঠিত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এখন নানান সংকটে জর্জরিত। নেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ। প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। নেই পাঠদান করার প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তার উপর অস্থায়ী আর এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৩শ৬৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারি এবং ১৫ জন শিক্ষকের ৩০ জুন থেকে চাকুরী নেই। তাদের এ্যডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ায় মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা চাকুরী হারাতে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মজ্ঞুরী কমিশনের এক গুয়েমী আর ক্ষমতার দাপটের কারনে নব প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।

আর তাই কর্মকর্তা কর্মচারিরা তাদের চাকুরী স্থায়ী করন এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অনিদৃষ্টাকালের কর্মবিরতি শুরু করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চলছে মানব বন্ধন ঘেরাও বিক্ষোভ আর ভুখা মিছিল। অন্যদিকে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ১৫ জন শিক্ষক তাদের চাকুরী স্থায়ী করা হবে বলে কতৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আন্দোলনে অংশ না নিলেও তারাও চাকুরী হারানোর আশংকায় শংকিত।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিলো নগরীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের কয়েকটি কক্ষ ধার করে । সেখানেই ৬টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে ক্লাশ শুরু হয়। আর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে ভাড়া করা একটি বাড়িতে। এর পর ২ বছর আগে নিজস্ব ক্যাম্পাসে পাঠদান শুরু হয়। এখন ২১টি বিভাগে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থী লেখা পড়া করছে। বর্তমানে শিক্ষক কর্মকর্তা আর কর্মচারি আছেন ৬২৪ জন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মজ্ঞুরী কমিশন বিভিনÍন সময় মিলে মাত্র ২৬০ জন শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়োগ করার অনুমতি প্রদান করে। যা চাহিদার তুলনায় ছিলো খুবই কম। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান সহ কর্মকান্ড চলানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপর দফায় দফায় আবেদন করেও নতুন জনবল নিয়োগ দেবার কোন অনুমোদন না দিয়ে চরম বৈষম্য মুলক আচরন শুরু করে তারা। এ ভাবেই ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত কোন শিক্ষক বা বর্মকর্তা কর্মচারি সহ জনবল নিয়োগ দেবার অনুমোদন প্রদান করেনি ইউজিসি। এর ওই বছরেই অনেক দেনদরবার করার পর ৫৪ জন শিক্ষক কর্মচারি নিয়োগ দেবার অনুমোদন প্রদান করে তারা। এর মধ্যে ৬০ জন কর্মকর্তা কর্মচারি এবং ১৪ জন শিক্ষক। কিন্তু ২১ টি বিভাগ ও ৬টি অনুষদে শিক্ষক কর্মচারির অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহ সার্বিক কর্মকান্ড অচল হবার উপক্রম হলে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ১৪৪ জন শিক্ষক সহ ৩৪৫ জন জনবল নিয়োগ দেবার আবেদন করলেও ইউজিসি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা করে অসংখ্যবার ইউজিসির কাছে জনবল নিয়োগ করার আবেদন করেও কোন ফল পায়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এক কর্মকর্তা জানান ইউজিসি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাাপারে বরাবরই বিমাতা সুলভ আচরন করেছে। তারা যদি জনবল নিয়োগ দেবার অনুমতি প্রদান নাই করবে তাহলে ৬টি বিভাগের স্থলে ২১টি বিভাগ অনুমোদন কেন দিলো। ২১টি বিভাগে কি পরিমান শিক্ষক আর জনবল প্রয়োজন তা তারা কি জানেননা । তার পরেও কোন কোন অতিউৎসাহি ইউজিসির সদস্য ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জনবল নিয়োগ প্রদান করতে বাধ সাধে । এ ব্যাাপারে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে। এর পরেও কোন ইউজিসি তার এক গুয়েমীপনা অব্যাহত রাখলে সিন্ডিকেট সর্বসম্মত ভাবে বাধ্য হয়ে এ্যডহক ভিত্তিতে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়। যার কারনে বর্তমানে ৩শ ৬৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারি এখন চাকুরী হারাতে বসেছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। অপর এক কর্মকর্তা জানান ইউজিসি অনুমোদন না দিলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে যা যা করা দরকার তাই করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একজন শিক্ষক নেতার জানান ২১টি বিভাগে শিক্ষকের প্রয়োজন কমপক্ষে আড়াইশজন । সেখানে আছে মাত্র ৯২ জন। একই ভাবে লোক প্রশাসন বিভাগ খোলার অনুমতি দিয়েছে ইউজিসি কিন্তু প্রায় ৮ মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। ফলে ওই বিভাগে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তা জানান ২১টি বিভাগে সেমিনার লাইব্রেরী বিজ্ঞান গবেষনা সহ বিভিন্ন খানে যেখানে জনবল দরকার কমপক্ষে ৬০ জন ইউজিসি অনুমোদন দিয়েছে মাত্র ৭ জনের । একই ভাবে ৩টি হল সেন্ট্রাল লাইব্রেরী , ক্যাফেটারিয়া কম্পিউটার ল্যাব গবেষনাগার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪শর উপরে কর্মকর্তা প্রয়োজন হলেও ইউজিসি দিকে পদক্ষেপ গ্রহন করছেনা।

একজন কর্মকর্তা জানান এডহক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারিদের চাকুরী গেলে বিশ্ববিদ্যালয় একেবারে অচল হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে আবারো নতুন করে কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়োগ দিতেই হবে। তাহলে কি নিয়োগ বানিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার জন্য এতসব আয়োজন চলছে এ প্রশ্ন এখন সকলের ।

এদিকে আন্দোলনরত কর্মকর্তা কর্মচারিদের অভিযোগ তাদের ৩ মাস ধরে বেতন প্রদান করা হচ্ছেনা । একই অবস্থা স্থায়ী কর্মকর্তা কর্মচারি ও শিক্ষকরাও বেতন পাচ্ছেনা । দেশের আর কোন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারি মাসিক বেতন পাচ্ছেননা এমন ঘটনা নেই বলে চলে । তাহলে ইউজিসি কি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে চায়বলে প্রশ্ন রেখেছেন তারা । সে কারনে সকল কর্মকর্তা কর্মচারির চাকুরী স্থায়ী করন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখায় সকল কায়ক্রম বন্ধ রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড, নুর উন নবীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকে জানান তিনি নিজেও ২ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেননা । আর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আর্থিক দুরাবস্থা তাতে করে আন্দোলন করতে হবেনা এমনিতেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন এটা ঠিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল প্রয়োজন আছে। তবে এতগুলো পদে এডহক নিয়োগ দেয়া ঠিক হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে। তিনি বলেন পর্যায়ক্রমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful