Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ৩৬ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / আলোকিত গ্রাম গড়ছে ওরা ১৩ জন !

আলোকিত গ্রাম গড়ছে ওরা ১৩ জন !

জুলফিকার আলী ভূট্টো, অতিথি লেখক: নীলফামারী জেলার কিশোরীগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পুর্ব দলিরাম গ্রাম। এখানকার ১৩জন তরুণ তরুণীর প্রচেষ্টায় গ্রামটির সব শিশুই স্কুল মুখী হয়েছে। গ্রামের এমন কোন বাড়ি পাওয়া যাবে না, যেই বাড়িতে স্কুলে যাওয়ার উপযোগী শিশু রয়েছে অথচ স্কুলে যায় না।

এছাড়াও গ্রামটির সব বাড়িতে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার নিশ্চিত করণ, শিশুদের ভালোভাবে হাত ধোঁয়া শেখানোর পাশাপাশি অসহায় দুস্থদের পাশে দাড়ানো এবং বাল্য বিবাহ রোধে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওই তরুণ-তরুণীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পুর্ব দলিরাম গ্রামের ১৩জন তরুণ তরুনী ২০১০ সালে স্থাপন করেন “শ্রম কল্যান পাবলিক পাঠাগার” নামক পাঠাগার। গ্রামটির মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী মিশুক, রিগান, ইমাম, মিশন, রিমন, রিয়ন, আল আমিন, মামিম, জাকির, লায়ন, মিলু, সাইফুল, রাকিবদের প্রচেষ্টায় পাঠাগারটি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঠাগারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করেন বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে। সবার সম্মতিতে গৃহিত হয় কর্মপরিকল্পনা। এছাড়াও পাঠাগারের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজে দেখে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, স্কুলে যাতায়াত এছাড়াও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপাড়া নিশ্চিত করতে বিনামুল্যে কোচিং প্রদান, শিক্ষা খরচ বহন করা হয়ে থাকে পাঠাগার থেকেই। পাঠাগারটির সদস্যদের প্রচেষ্টায় গ্রামটি এখন আলোকিত হয়েছে মানুষদের কাছে।

পাঠাগারটির সভাপতি ও বর্তমানে নওঁগা পলিটেকনিক ইন্সিটিউটের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র তৌফকুল ইসলাম মিশুক জানান, পাঠারগারটি প্রতিষ্ঠার আগে রাস্তায় হাটঁতে হাটঁতে আমরা একটা কিছু করার চিন্তা করি। এক পর্যায়ে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। তবে শুণ্য হাতে পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও গ্রামের বড় বোন মুক্তা আপা সবার আগে এগিয়ে আসেন পাঠাগারে বই রাখার জন্য একটি র‌্যাক দিয়ে। এরই মধ্যে সাহস জাগিয়ে পিছু না হটে আমরা ১৩ জন শ্রমিক সেজে গ্রামে বিভিন্ন জনের জমির ধান কেটে ১৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করি। বই কেনার জন্য সাইকেল যোগে রংপুর শহরে গিয়ে সংগৃহিত টাকার বই এনে পাঠাগারটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করি। সে সময় পাঠাগারটির উদ্বোধন করেন শিক্ষক ফজলুল হক। সেই থেকে পাঠাগারটি শুরু করলো আলোর পথ দেখার।

পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক ও নীলফামারী সরকারী কলেজের অনার্ষের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন জানান, শুরুটা ১৩জন দিয়ে হলেও পাঠাগারে এখন সদস্য সংখ্যা ৭০জনের মত। সদস্যদের কাছ থেকে মাসিক ১০টাকা হারে চাঁদা নিয়ে সঞ্চিত টাকায় পাঠাগার উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাব্যয়, দুঃস্থদের পাশে দাড়ানো, বিনা মুল্যে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা বিতরণ ছাড়াও ঈদ উৎসবে হত দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে সেমাই চিনি দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও লেখাপড়ায় উৎসাহ বাড়াতে গ্রামের কৃতি শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় সংবর্ধণাও।

পাঠাগারের সদস্য ও ডিগ্রীর শিক্ষার্থী রিয়াদ জেরিন শিল্পি, জানান, প্রতিদিনই পাঠাগারটি খোলা থাকে। সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পাঠাগারের সদস্যরা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামুল্যে কোচিং দিয়ে থাকেন। নারীদের অগ্রাধিকার দিতে কার্যনির্বাহী কমিটিতে ৪ জন নারী সদস্যকে রাখা হয়েছে। পাঠাগারের ব্যয়ভারে দরিদ্র ২০জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেছে। যাদের আমরা সংবর্ধনা দিয়েছি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে।

নিজস্ব জায়গা না থাকা, পাঠাগারে বসার ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, পর্যাপ্ত বই না থাকা সর্বোপরি আর্থিক সংকটের কারণে পাঠাগারটি দাড়াঁতে পারছে না পূর্ণাঙ্গভাবে। গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য আনিসুর রহমান জানান, তরুণদের উদ্যোগকে সাদরে গ্রহণ করে আমি একটি পাকা ঘর দিয়েছি যেখানে আপাতত পাঠাগারটি নির্ধারীত স্থানে না যাওয়া পর্যন্ত কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে পারে। সাধ্য অনুযায়ী পাঠাগারটির কার্যক্রমে এখোনো সহযোগীতা করার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। তবে ব্যাপক পরিসরে সহযোগীতার জন্য তিনি বিভিন্নজনের কাছে আহবান জানান।

গ্রামের শরীফাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী পাঠাগারটির প্রশংসা করে বলেন, তরুণদের ইচ্ছেকে আমি সাধুবাদ জানাই। তারা আলোকিত গ্রাম গড়তে যে চেষ্টা করছেন নিশ্চয়ই লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারবে। গ্রামটিতে ইতোমধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তরুণদের তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কলেজ ছাত্র মারিফুল ইসলাম ও মিলা আক্তার জানান, শুধু শিক্ষাই নয় শিশুদের ভাল ভাবে হাত ধোয়া শেখানো, অসুস্থদের পাশে দাড়ানোসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নে বাড়ির বাহিরে খোলা জায়গায় মল ত্যাগ বন্ধ করা হয়েছে। এখন আর কেউ বাড়ির বাহিরে খোলা স্থানে মল ত্যাগ করেন না। এছাড়াও স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে গ্রামের দরিদ্রদের মাঝে পাঠাগারের উদ্যোগে বিনামুল্যে স্যানেটারী ল্যাট্রিন দেয়া হয়েছে। মিলি পাঠাগারের পাশে দাড়াতে বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান। প্রতিবেশি মনছুরা বেগম(৪০) জানান, আমরা কখনই ছেলেদের পাঠাগারের কাজে হস্তক্ষেপ করিনি বরং উৎসাহ দিয়েছি। শুরুর দিকে পাঠাগারের কর্মকান্ড নিয়ে অনেকে হতাশা প্রকাশ করলেও এখন আর কেউ হতাশা প্রকাশ করেন না বরং পাঠাগারের ডাকে তাৎক্ষনিক এগিয়ে আসেন।

পাঠাগার সুত্র জানায়, সরকারী ভাবে চলতি বছরের ১৯ফেব্র“য়ারী গণগ্রন্থাগার থেকে নিবন্ধীত হয়। সমাজের উন্নয়নে ব্যয়ভার বহন করলেও দারুণ সংকট রয়েছে পাঠাগারটিতে। বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বই না থাকা, নির্ধারীত স্থান না থাকায় পাঠাগারটি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে হিমশীম খাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বিভিন্ন বিষয়ের উপর পরামর্শ দিয়েছে। আরডিআরএস নীলফামারীর প্রকল্প সমন্বয়কারী খ ম রাশেদুল আরেফিন জানান, আমরা অর্থনৈতিক ভাবে সাপোর্ট দিতে না পারলেও তরুণ তরুণীদের প্রশিক্ষণ, যুব ফোরাম গঠন এবং এলাকায় বাল্য বিবাহ রোধে পাঠাগারের সংশিষ্টদের সহায়তা করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে শিক্ষার প্রসার, রাস্তা ঘাট পরিস্কার পরিচ্ছনতা রাখাসহ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পথ দেখাচ্ছে শ্রম কল্যান পাবলিক পাঠাগার। এর অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়া যাবে না উল্লেখ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নীলফামারী জেলা শাখার আহবায়ক ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান রহিম মঞ্জিল বলেন, আলোর সুবাতাস ছড়ানো পাঠাগারটির জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে সহযোগীতা করে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যাতে দেশের মধ্যে পাঠাগারটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful