Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ :: ৮ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৩১ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা : লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী

উত্তরের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা : লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী

bonna 2সেন্ট্রাল ডেস্ক: গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে ভারতীয় ঢলের পানি নেমে আসায় দেশের উত্তরের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিন্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকার হাজার হাজার গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ওইসব এলাকার লোকজন গবাদি পশু নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে রেললাইনে পানি ওঠায় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মাঠের ফসল পানির ডুবে যাওয়ায় কৃষক হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

লালমনিরহাট : ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা, সানিয়াজান ও সতী নদীর পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার ৫ উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টির পাশাপাশি তিস্তা, সানিয়াজান ও সতী নদীর পানিতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার আঙ্গরপোতা-দহগ্রামের চর, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার চর বৈরাতী, নোহালী চর, শৈলমারী চর, ভোটমারী চর, হাজিরহাট চর, আমিনগঞ্জ চর, কাঞ্চনশ্বর চর ও রুদ্ধেশ্বর চর, আদিতমারী উপজেলার চন্ডিমারী, চর গোবর্ধন ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি, খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, তাজপুর, গোকুন্ডা, মোগলহাটসহ নদীর তীরবর্তী প্রায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ দুই দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া বোরো বীজতলা, পাটক্ষেত, মরিচ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ব বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানান ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ।

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবল বর্ষণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় কমপক্ষে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেল পথ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক জেলাগুলোতে দিনের প্রবল বর্ষণে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর, কুজিশহর, চাপাতি, মধুপুর নেনকাপাড়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওইসব এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে পানি ওঠায় তারা দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কুজিশহর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেল পথ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন চাপাতি এলাকায় অবস্থিত টাঙ্গন ব্যারেজের পানি বৃদ্ধি পওয়ায় একাধিক গাইড বাধ হুমকির মুখে পড়েছে। অপরদিকে শহরের কলেজপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর ব্লক পানির তোরে সরে যাওয়ায় নদীর তীর ভেঙে বাড়িঘরে পানি প্লাবিত হচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে গতকাল রোববার বিকেল তীরনই নদী ব্রিজের সামনে মাটি ধসে পড়ায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ দবিরুল ইসলাম ব্রিজে দিয়ে তার বাস ভবন যেতে না পাড়ায় বিকল্প পথে যান। আরও একটি বড় ও ছোটসহ ৫টি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
যানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তীরনই নদীর ব্রিজটি ১৯৭০ সালে নির্মাণ হয়। পরবর্তীতে ব্রিজটির কোন রকম মেরামত বা প্রশস্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় তীরনই নদীর ব্রিজের সামনে পাকারাস্তা ধসে গেছে। এতে ৫-৭ ফিট নিচে মাটির স্থর নেমে গেছে।
বোদা (পঞ্চগড়) : গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে বোদা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় বিধস্ত হয়েছে ৩ শত ঘরবাড়ি। বোদা পৌরসভার ইসলাম বাগ, গুচ্ছগ্রাম, সাতখামার, থানাপাড়া, থানারডাঙ্গা, কলেজপাড়াসহ পাশ্ববর্তী প্রায় ৫০০০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩ হাজার আমন বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে পানি না কমলে বীজ তলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। বিশেষ করে করতোয়া ও পাথরাজ নদীর পানি প্লাবিত হয়ে নদী তীরবর্তী ফসলী জমি নিমজ্জিত অবস্থায় পড়েছে। এসব জমিতে মিষ্টি কুমড়া ও নমল ভুট্রা প্রায় এক হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোদা পৌরসভা, বোদা সদর ইউনিয়ন, বড়শশী, পাঁচপীর, মাড়েয়া ময়দানদিঘী। উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পুকুর জলাশয় থেকে মাছের পোনাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে । গতকাল সকাল থেকে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া ২ হাজার উদ্বাস্তু মানুষ বোদা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ও পাথরাজ মহাবিদ্যালয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এসব উদ্বাস্তু মানুষদের বোদা পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রাথমিক ভাবে শুকনো মুড়ি, চিড়া ও গুড় দেয়া হচ্ছে। হঠাৎ বন্যায় প্লাবিত মানুষের পাশে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাহায্য করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম সুজনের সাথে কথা বললে তিনি জানান জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসককে সঠিকভাবে তদরকীর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আটোয়ারী (পঞ্চগড়) : স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ২৫ গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ৩ গ্রামের মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে ও উজান থেকে ধেয়ে আসা বন্যার পানির স্্েরাতে উপজেলার রাণীগঞ্জ, সাতপাখি, টাঙ্গন ব্যারেজ পাড়া, সর্দারপাড়া, মন্ডলপাড়া, মালিগাঁও, দীনমারা, পানবারা, বার আউলিয়া, ধামোর, পুরাতন আটোয়ারী, সাবডিগজ, ঝলঝলি, দাড়িমনি, দলুয়া, দাড়খোর, কাটালী, তড়েয়া, নিতুপাড়া, বর্ষালুপাড়া, বোধগাও. রামপুর, আলোয়াখোয়াসহ প্রায় ২৫ গ্রাম এলাকা সম্পূর্ণ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় উপজেলার বার আউলিয়া মাজার রাস্তার বড় ব্রিজসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের প্রায় ৩০টি ব্রিজ কালভার্ট, কাঁচা রাস্তা, ২ শতাধিক বাড়ি-ঘর, হাজার হাজার গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে উপজেলা সদর সহ পঞ্চগড় জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া বন্যায় আমন বীজতলা, মরিচ, পাট সহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুকুর ডোবা পানিতে ভেসে যাওয়ায় মৎস্য চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা কবলিত গৃহবন্দী মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাত্রা থেমে গেছে। বন্যার কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের পোল ভেঙ্গে পড়ায় শনিবার রাত হতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ জানান, ওই ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম সম্পূর্ণ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষকে তিনি সর্দারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। গতকাল রোববার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ইসলাম, রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাহেদ বন্যা কবলিত রাধানগর, সাতপাখি, টাঙ্গন সস্নুইচ গেট ও বলরামপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিকে উপজেলার মির্জাপুর মালিগাঁও গ্রামের জনৈক নবির উদ্দীন ছোট ভাইয়ের সাথে পারবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়ির সামনে একটি রাস্তায় সরকারি ৪ লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দে নির্মিত ব্রিজের গতি পথের অনব্রূলে মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় ২ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত শনিবার সন্ধ্যায় আটোয়ারী প্রেসক্লাবের সভাপতি জিল্লুর হোসেন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মনোজ রায় হিরু ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাঁধের মুখ কেটে পানিবন্দী মানুষকে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ফিরিয়ে দেন। এদিকে ১৯৯০ সালের ভয়াবহ বন্যাকে হার মানিয়ে ২০১৩ সালের স্মরণকালের এ বন্যায় উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্বিষহ অবস্থা। জরুরি ভিত্তিতে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ সামগ্রী প্রয়োজন।

করতোয়া

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful