Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০ :: ১২ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ৩৪ পুর্বাহ্ন
Home / গাইবান্ধা / মাদকের ছোবলে নীল গাইবান্ধার যুবসমাজ

মাদকের ছোবলে নীল গাইবান্ধার যুবসমাজ

drugরেফারেন্স নিউজ: গাইবান্ধা শহরের প্রফেসর কলোনির কলেজছাত্র ফেনসিডিলসেবী ফজলে হক (২২) জানান, এই শহরে কিশোর, তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ফেনসিডিল এবং অন্য নেশায় আসক্তের সংখ্যা কত তা সঠিকভাবে বলা অসম্ভব। তার চেয়ে বরং জরিপ করেন কারা নেশা করে না!
একটি বেসরকারি সংগঠনের জরিপেও বেরিয়ে এসেছে রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো পরিসংখ্যান। জরিপে জানা যায়, গাইবান্ধার তরুণ ও যুবকদের মধ্যে নিয়মিত মাদকসেবী প্রায় আড়াই হাজার। কমপক্ষে দেড় হাজার অনিয়মিতভাবে মাদক সেবন করলেও অচিরেই তাদের ৬০ ভাগ চূড়ান্তভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে।
গত সাত দিন গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজন, অভিভাবক ও মাদকাসক্তদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে মাদকাসক্ত ও এর ফলে যুবসমাজের একটি বড় অংশের দুর্ভাগ্যের চিত্র। পুলিশের একটি সূত্র মাদকের ভয়াবহ বিস্তার স্বীকার করলেও আসক্তদের সংখ্যা জানাতে পারেনি।
এলাকাবাসী জানান, গাইবান্ধা শহর ও শহরতলির গাইবান্ধা-বালাসী সড়কের আশপাশের এলাকা, ভিএইড রোড, শনি মন্দির রোড, পুরাতন হাসপাতাল সড়ক, নিউ ব্রিজরোড, ডেভিড কোম্পানীপাড়া সংলগ্ন ঘাঘট নদীর বাঁধ, কুঠিপাড়া, প্রফেসর কলোনি, কলেজপাড়া, তিন গাছের তল, সুংসুংগির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জমজমাট মাদক ব্যবসা চলছে।
Drugএই ব্যবসার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বেশিরভাগের বয়স ১৬ থেকে ৩২-এর মধ্যে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও গডফাদারদের কারণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সব জেনেও চোখ বন্ধ করে থাকার নীতি গ্রহণ করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগসাজশে এই রমরমা ব্যবসা চলছে। ভিএইড রোডের সমাজকর্মী সিদ্দিক আলম জানান, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রলোভনে কিশোর-যুবকরা মাদকাসক্ত এবং পরে ব্যবসায়ীতে পরিণত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, হিলি সীমান্ত টপকে প্রতিদিন অবিশ্বাস্য পরিমাণ ফেনসিডিল, গাঁজা, চরস, হেরোইন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় নিম্নমানের মদ এই অঞ্চলে ঢুকছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এসবের প্রধান আড়ত। সেখান থেকেই যাত্রীবাহী বাস, মালামালের ট্রাক ও অন্য যানবাহনে ছড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের নানা অংশে।
 জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা হয়ে এসব ২১ কিলোমিটার দূরে গাইবান্ধা জেলা শহরেও প্রবেশ করছে।
পলাশবাড়ীর বিশিষ্ট সাংবাদিক ফেরদৌস প্রধান জানান, দুপুরের পর থেকেই প্রতিদিন গাইবান্ধা শহরের এক শ্রেণীর কিশোর-তরুণ মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে পলাশবাড়ী হয়ে পাশের ঘোড়াঘাট অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। ঘণ্টা দুয়েক পরই তারা ফিরে যাচ্ছে গাইবান্ধায়। এসব তরুণের শরীর তল্লাশি করলেই ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাওয়া যাবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন তা করছে না।
এ ব্যাপারে ডিবি পুলিশের একটি সূত্র মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের তৎপরতা স্বীকার করে বলেন, “শরীরে বেঁধে ফেনসিডিল নিয়ে আসা বেশ কিছু তরুণ ও যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে ফেনসিডিল আসক্ত কলেজছাত্র আহাদ (১৭) জানান, বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে প্রথম দিকে দুয়েক ঢোক খেয়েছি। কিন্তু এখন দিনে দুই বোতলেও কাজ হয় না। এদিকে একেকটি বোতল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তাই ‘মহাজন’-এর কথা অনুযায়ী সরবরাহকারীর দায়িত্ব নিতে হয়েছে।
বেসরকারি সংগঠন জন উন্নয়নের সংগঠক মো. আফতাবুল ইসলাম জানান, সংগঠনের জরিপে দেখা গেছে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বেশিরভাগেরই বয়স ৩০-এর মধ্যে। অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান মাদকের প্রভাবে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিককালে নেশাগ্রস্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
গাইবান্ধার ড্রিম কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গাইবান্ধার যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকবিরোধী প্রচারণার পাশাপাশি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে হবে।”
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি দোলেয়ার হোসেন বলেন, “মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগ সত্য নয়। পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful