Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ :: ৮ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ২০ পুর্বাহ্ন
Home / নীলফামারী / উজানের ঢলে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপরে পানি প্রবাহ তিস্তার রুদ্রমুর্তিতে বন্যার আরো অবনতি

উজানের ঢলে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপরে পানি প্রবাহ তিস্তার রুদ্রমুর্তিতে বন্যার আরো অবনতি

01.Photo Nilphamari 10.07.2013ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী ১০ জুলাই॥ নীলফামারীতে তিস্তা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি ঘটেছে। বুধবার উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে পাহাড়ীঢলে তিস্তা নদীর পানি তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ টি জলকপাট (স্লুইচ গেট) খুলে রেখেও ঢলের পানি সামাল দেয়া যাচ্ছেনা। এতে করে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেছে। ফলে তিস্তা অববাহিকার চরগ্রামের ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং কাঁচাঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়ছে। এ ছাড়া জেলার বুড়ি তিস্তা,চারালকাটা,বুড়িখোড়া, আউলিয়াখানা,যমুনেশ্বরী,শালকী সহ ১২ টি নদনদীর পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোড সুত্র জানায়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের উপ বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন মন্ডল জানান গত ৫ দিন ধরে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজানের ঢল অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার তিস্তার ঢলের পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে তা ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত বিকাল ৪টা অব্যাহত ছিল।
তিস্তার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার কারনে নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ১০ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে চরম দূর্ভোগের কবলে পড়েছে । তারা তিস্তার গাইড বাঁধ সহ বিভিন্ন উচু স্থানে বানভাষী মানুষজন গরুছাগল হাঁস মুরগী আসবাবপত্র সহ আশ্রয় নিলেও সেখানে বিশুদ্ধ খাবার পানি সহ শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন। জনপ্রতিনিধিরা আরো জানায় এখনও সরকারি ভাবে কোন ত্রান সামগ্রী বন্যা কবলিত মানুষজনের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন জানান তার এলাকার ৫শতাধিক পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ঝারশিঙ্গেশ্বর চর গ্রামের ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে তিনটি পরিবারের ১৪টি ঘর বানের পানির তোড়ে ভেসে গেছে। এ ছাড়া পূর্বছাতনাই মৌজা গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি বন্যার পানিতে ভেঙ্গে গেছে। ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী জানান তার ইউনিয়নের ছাতুনামা,ভেন্ডাবাড়ি গ্রামে ১ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিতে গেছে।
খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন তার কিসামত চরে গ্রামের ৩শত পরিবার,দোহলপাড়া গ্রামে ৫শত পরিবারের ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহ হওয়ায় চরম ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে মানুষজন।
খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামসুল হক(হুদা) জানান ছোটখাতা ও বাইশপুকুর গ্রামের দেড় হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
গয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন জানায় তিস্তার রুদ্রমূর্তি ধারনে এলাকা ভেদে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে পড়ছে। পানির তোড়ে বিধ্বস্থ হয়েছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। তিনি বলেন তার ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন তার এলাকার চরখড়িবাড়ি,পূর্বখড়িবাড়ি,দক্ষিন খড়িবাড়ি ও উত্তর খড়িবাড়ি গ্রামের ৬শত পরিবার বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তার বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে।
জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলী বলেন গোলমুন্ডা,ডাউয়াবাড়ি,শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষজন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, বন্যা কবলিত চর গ্রামের ঘরবাড়ি এক কোমর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরের ভেতর দিয়ে তিসÍার ঢলের স্রোত বয়ে যাচ্ছে।
ডিমলার খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের ফয়জুল(৪০) জানান তিস্তা রাক্ষুসী হয়ে উঠেছে। উজানের ঢল আর ভারী বর্ষনে তাদের গ্রামের ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তারা গাইডবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব মোল্লা জানান তিস্তা নদীর বন্যা কবলিত এলাকার ২১শত পরিবারের একটি চাহিদা পত্র পাওয়া গেছে। এদের জন্য খয়রাতি চালের বরাদ্দ দেয়া হবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful