Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৩ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ০০ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / বন্যা পরিস্থিতির অবনতিঃ হুমকির মুখে তিস্তা ব্যারেজ; রেড এলার্ট জারী

বন্যা পরিস্থিতির অবনতিঃ হুমকির মুখে তিস্তা ব্যারেজ; রেড এলার্ট জারী

floodসেন্ট্রাল ডেস্ক: টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে উত্তরের বেশকয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা ব্যারেজ। এদিকে তিস্তার আশেপাশের এলাকায় রেড এলার্ট জারী করা হয়েছে।
লালমনিরহাট : পাহাড়ি ঢল আর ভারী বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বুধবার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেটই খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে জেলার ৬০ গ্রামের প্রায় দেড়লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৭ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির গতি বেড়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা ব্যারেজ। ব্যারেজ রক্ষার্থে বাইপাসের আশপাশে বসতবাড়ির লোকজন নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। এদিকে তীব্র পানির স্রোতে বড়খাতা সেতু ধসে পড়ায় গতকাল বুধবার সকাল থেকে লালমনিরহাট-পাটগাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান ভেলু জানান, ওই উপজেলার ৬ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী লোকজনদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে জেলার পাটগ্রাম ও দহগ্রামেও বন্যা প্রবল আকার ধারণ করেছে। বন্যায় পাটগ্রাম পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড এবং দহগ্রামের প্রায় ৫ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে পৌরসভার সাহেবডাঙ্গা, বাঁধেরপাড়, নিউ পূর্বপাড়া, বেংকান্দা, ডাবা ডুবিরঘাট, কোটতলী, চাত্রারপাড়, সোহাগপুর এলাকায় ফুঁসে ওঠা ধরলা নদীর পানিতে প্রায় দুই সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গThakurgaon-Flood-on-1ত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ১৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিজ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বর্ষাকালীন ফসল। পানির তীব্র স্রোতে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়ায় ফজলুপুর ইউনিয়নের হেলেঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে দক্ষিণ কাবিলপুর রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কৃষ্ণমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাউয়াবাঁধা রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং স্থানীয়ভাবে প্রবল বর্ষণজনিত কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার চরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন কঞ্চিপাড়া, ফজলুপুর, উড়িয়া, এরেন্ডাবাড়ী, গজারিয়া ও ফুলছড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের বালাসী ও তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে বলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। চরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে তলিয়ে গেছে চিনা, তিল, আমন বীজতলা, উঠতি পাট, পটল, ঢেঁড়শসহ বর্ষাকালীন ফসল। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীভাঙনের তীব্রতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের শিকার ফজলুপুর ইউনিয়নের হেলেঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতিমধ্যেই অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে একই ইউনিয়নের চর কৃষ্ণমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাবিলপুর রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের কাউয়াবাঁধা রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এদিকে রতনপুরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে পশ্চিম অংশে ধসের সৃষ্টি হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেহেদী-উল-সহিদ বলেন, ভাঙনের সম্মুখীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো দ্রুত পরিদর্শন করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

01.Photo Nilphamari 10.07.2013নীলফামারী : বুধবার সকাল থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। সর্বশেষ বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা তীরবর্তী ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকাল ৩টায় ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা তীরবতী ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের প্রায় ২১টি গ্রামের অন্তত ২০ সহস্রাধিক মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় কেউ খোলা আকাশের নিচে আবার কেউ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে দুর্গত মানুষজন।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় জেলার ৪টি উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জেলার বোদা, আটোয়ারী ও পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতেও মূষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে পঞ্চগড় সদর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ খালপাড়া, নায়ফ পাড়া, প্রধান পাড়া, বৈরাগী পাড়া, দেউলিয়া পাড়াসহ আরো কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এদিকে উজান থেকে আসা পানিতে পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো নতুন করে পাবিত হয়েছে। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধিতে পঞ্চগড় পৌরসভার নিমনগর, খালপাড়া, রামের ডাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অতিবৃষ্টিতে পৌর এলাকার অনেক এলাকার বাড়িঘরে পানি উঠেছে।

গঙ্গাচড়া (রংপুর) : নদী কূলবর্তী ২৫ গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। বিশেষ করে চরাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রবল বর্ষণসহ মঙ্গলবার রাতে উজান থেকে আসা ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে নোহালী ইউনিয়নের নোহালী ফোটামারী, চর নোহালী, বাগডোহরা, মিনার বাজার, চর বাগডোহরা ও নোহালী সাপমারী এলাকায় ২ হাজার ৫০০ পরিবার, কোলকোন্দ ইউনিয়নের ঢাকের চর, চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, ও বিনবিনা মাঝের চর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারী বাঁধেরপাড় এলাকায় এক হাজার ২০০ পরিবার, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর ও গান্নারপাড় এলাকায় ২০০ পরিবার, লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, পূর্ব ইচলী ও জয়রামওঝা এলাকায় ৫০০ পরিবার, গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, জয়দেব ও কালির চর এলাকায় ২০০ পরিবার এবং মর্নেয়া ইউনিয়নের আলাল, তালপট্রি চর নিলারপাড়া ও ভাঙ্গাগড়া এলাকায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful