Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ৫৮ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরাঞ্চলে বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

উত্তরাঞ্চলে বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

Thakurgaon-Flood-on-1সেন্ট্রাল ডেস্ক: টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এবং আকস্মিক জোয়ারে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যাকবলিত এসব এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেয়া ভোর ৬টার তথ্য অনুযায়ী, যমুনা নদী বাহাদুরাবাদে ১৮ সে.মি ও ধরলা নদী কুড়িগ্রামে ২ সে.মি বিপসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ধরলা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম জেলার সাবির্ক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। চর এলাকার রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে বন্যাদুর্গত মানুষ। বানভাসী মানুষের খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

floodনীলফামারী : তিস্তা নদীর তীরবতী নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর চরের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত আড়াই কিলোমিটার বাইশপুকুর ক্রস বাঁধের পাঁচশ’ মিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চর এলাকায় প্রবেশের একমাত্র মাটির বাঁধটি বিধ্বস্ত হওয়ায় বাইশপুকুর চরের অন্তত সহস্রাধিক মানুষের সাথে উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ১৫শ হেক্টর জমির আবাদি ফসল ঢুবে নদীতে পরিণত হয়েছে। ডিমলা উপজেলার খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, কয়েকদিনের উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানির চাপে বাঁধটির বিভিন্নস্থানে ফাটল দেখা দিলে এলাকাবাসী রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁধটি বিধ্বস্ত হয়। ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন সরকার জানান, ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে ২০০৮ সালে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এলাকাবাসী প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ বাইশপুকুরের ক্রস বাঁধটি নির্মাণ করে। এর মধ্যে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে বাঁধের ১২শ মিটার স্থানে রেডক্রিসেন্টের অর্থায়নে ইট দিয়ে বাঁধের উপর রাস্তা তৈরী করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের অব্যাহত ভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলে পানি নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাঁধটি বিধ্বস্ত হয়।

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও চিনিকল এলাকার বিঘার পর বিঘা জমির আখ ক্ষেত তলিয়ে গেছে। জমি থেকে পানি সরে না যাওয়ায় আখ ক্ষেতগুলো পচন ধরেছে। ফলে এবারও চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ব্যহত হতে পারে বলে আশংকা করছে সুগার মিলস কর্তৃপক্ষ। জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাজারদেহা গ্রামের আখ চাষি তমিজ আলী (৫১) বলেন, চলতি মৌসুমে চিনিকলের সঙ্গে চুক্তিতে চার বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। আখ চাষ করতে গিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নয় দিন ধরে ক্ষেতের আখ পানিতে ডুবে আছে। পানিতে ডুবে থাকার কারণে জমির আখ নষ্ট হয়ে যায় কিনা কে জানে। তিনি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আরও বলেন আখ বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস তার মেয়ের বিয়ে দেয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে দেখা দিয়েছে।
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) : নাগেশ্বরীতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। বিভিন্ন জায়গায় ব্রিজ দেবে ও সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পানিবন্দী মানুষগুলোর কাছে এখনো পৌঁছায়নি কোন ত্রাণ সামগ্রী। নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গত দুইদিন অপরিবর্তিত থেকে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ। উনোন জ্বালাতে না পারায় শুকনো খাবারের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর মাঝে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। তাদেরকে উপোস কাটাতে হচ্ছে। না খেতে পারা মানুষগুলোর কাছে রোজা আর উপোস যেন একাকার হয়ে গিয়েছে।

bonnaউলিপুর (কুড়িগ্রাম) : তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নদীবর্তী ২০টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর জমির আমন বীজতলা এবং উঠতি শাকসবজির বাগান। উজানের পানির প্রবল স্রোতের কারণে নদীভাঙনে উপজেলার থেতরাই ও হাতিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে হাতিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়া গ্রামের পানি উন্নয়ন বোড এর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের বালাডোবা গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে তাজুল (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) : নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের করতোয়া নদীঘেঁষা কাঁচদহ ও ভোটারপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে কারও কারও বাড়িঘর ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আবার অনেকেই সেই ভাঙনের আশঙ্কায় নিদ্রাবিহীন রাত যাপন করছেন। তারা শঙ্কিত কখন জানি তাদের আবাস আশ্রয়স্থল টুকু হারিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর কাঁচদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীর ওপরে মৃত সদর উদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলামের বাড়িটি করতোয়া কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নেয়ার জন্য করতোয়া তাক করে আছে আজিজুল হক ও খলিল মাষ্টারের ঘরবাড়ির দিকে। ভোটারপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন (৬৮) জানান, প্রতি বছরই তাদের কাউকে না কাউকে নদীতে ঘরবাড়ি হারাতে হচ্ছে। গ্রামবাসীর ভাষায়, উজান থেকে আসা করতোয়া ও ঘিল্লাই নদীর সংযোগস্থল তাদের গ্রামের কাছে হওয়ায় পানির তীব্র স্রোত হয়। আর ওই স্রোতের কারণে নদীভাঙন বেশি হয়। ফলে প্রতি বছরই অনেককে বাড়িঘর হারাতে হয়। তাদের ভাষায় পূর্ব দিকে যে পুরনো নদী রয়েছে সেদিক দিয়ে পানি চলার ব্যবস্থা করলে তারা ভাঙনের হাত থেকে বাঁচত।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful