Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ :: ৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ০৫ অপরাহ্ন
Home / লালমনিরহাট / লালমনিরহাটের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; কৃষি কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী বিলাস বহুল বাড়ির মালিক

লালমনিরহাটের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; কৃষি কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী বিলাস বহুল বাড়ির মালিক

coroptionনিয়াজ আহম্মেদ সিপন, কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) থেকেঃ বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভ প্রজেক্ট (আইএপিপি) এর আওতায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুদ্দিন মিয়া অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমান অফিস সহকারী মন্তাজ আলীর সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ওই কৃষি কর্মকর্তা রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজস্ব বাড়ি সহ নামে বেনামে একাধিক প্লটের মালিক হয়েছেন। শুধু তাই নয়, সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা হেডকোয়ার্টারের বাইরে নিজ বাসা থেকে অফিস করছেন তিনি। আর একইভাবে কৃষি অফিসের পিয়ন থেকে বছর দুয়েক আগে নিম্নমান অফিস সহকারী পদে পদোন্নতি পাওয়া মন্তাজ আলী উপজেলার ভোটমারীতে কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাস বহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় সুবিধা বঞ্চিত কৃষকরা অবিলম্বে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত-পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভ প্রজেক্ট (আইএপিপি) ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের দু’বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। কালীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে কৃষি, মৎস্য, বিআরডিবি এবং পশু সম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে কন্ট্রোল ভিলেজ ও ট্রিটমেন্ট ভিলেজ নামে দু’ভাগে কাজ চলছে। আর এ কাজের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আলিনুর রহমান। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আইএপিপি এর অধীনে কৃষিখাতে কন্দাল ফসল প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত প্রায় ৯ লাখ টাকায় ১১০ টি প্রদর্শনী প্লটের লতি কচু, মুখী কচু, গাছ আলু সহ ২০টি মিষ্টি আলুর চাষ হচ্ছে। প্রতিটি প্রদর্শনী প্লটে কৃষকদের বীজ, সার, সাইনবোর্ড বাদে গড়ে ৫ হাজার টাকা, ৫০টি ট্রেনিং এর জন্য ৩০ জন করে কৃষকের নামে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এছাড়া কৃষি উপকরণ হিসেবে কাকিনা, ভোটমারী ও তুষভান্ডার এলএফএসের কৃষকদের মাঝে ৩টি পাওয়ার ট্রিলার, ৫টি শ্যালো মেশিন, ২টি পাওয়ার থ্রেসার এবং ২টি কোকন বরাদ্দ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে সিডিউল অনুযায়ী প্রদান না করে নিম্ন মানের কৃষি উপকরণ প্রদানের মাধ্যমেও ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক কৃষক জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রদর্শনী প্লটগুলোর একাধিক কৃষকের দাবির সাথে কাগজ-কলমে যা দেখানো হয়েছে তার মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অনেক কৃষক জানেন না, তাদের নামে কি পরিমাণ বীজ, সার, কীটনাশক এমনকি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কোনও কোনও প্রদর্শনী প্লটের সাইনবোর্ড সহ অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে মিষ্টি আলুর ২০টি প্রদর্শনী প্লটের মেয়াদ গত জুনে শেষ হলেও একটি সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনি। এমনকি কাগজে কলমে যেসব প্রদর্শনীর নামে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে তার সাথে বাস্তবতার মিল নেই। ট্রেনিং এর বিষয়ে ৫০টিতে ৩০ জন করে কৃষকের নামে অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। ওই কৃষি কর্মকর্তা কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের ১৪টি মাঠ দিবসের মধ্যে ৮টি সম্পন্ন হয়েছে দাবি করলেও বাস্তবে হয়েছে ৬টি। ওই দপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক সাংবাদিকদের জানান, ট্রেনিং এর ক্ষেত্রে গড়ে ৭-৮ জন অনুপস্থিত থাকলেও তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কৃষি কর্মকর্তা শামসুদ্দিন মিয়ার যোগসাজশে এ কাজটি নিম্নমান অফিস সহকারী মন্তাজ আলী করেছেন। এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী কৃষকদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা রকমের অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। কৃষি কর্মকর্তা শামসুদ্দিন মিয়া রংপুর সিটি রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজস্ব বাড়ি সহ নামে বেনামে একাধিক প্লটের মালিক হয়েছেন। তিনি সরকারী বিধি অনুযায়ী তার উপজেলা হেডকোয়ার্টারে থাকার কথা থাকলেও নিজ বাসভবন থেকে অফিস করছেন। আর একইভাবে কৃষি অফিসের পিয়ন থেকে বছর দুয়েক আগে নিম্নমান অফিস সহকারী পদে পদোন্নতি পাওয়া মন্তাজ আলী উপজেলার ভোটমারীতে কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাস বহুল বাড়ি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা বঞ্চিত কৃষকরা অবিলম্বে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত-পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে নিম্নমান অফিস সহকারী মন্তাজ আলী বলেন, বাড়িটি আমার ব্যবসার টাকা দিয়ে নির্মাণ করেছি। নিউজ করার দরকার নেই, সারের সাথে কথা বলে দেখি কি করা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুদ্দিন মিয়া বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ হয়েছে।
কালীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলিনুর রহমান শতভাগ কাজ হয়েছে দাবি করে বলেন, আমি শুধু মিটিং এর সমন্বয়কারী এর চেয়ে বেশী দায়িত্ব নেই।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রাব্বী বলেন, সকল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থলের হেডকোয়ার্টারে থাকা বাধ্যতামূলক।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মজিদ ট্রেনিং-এ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful